স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের দরজা জানালা বিক্রি করে দিলেন প্রধান শিক্ষক

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭:৩২ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবনের দরজা-জানালা খুলে বিক্রি করে দিয়েছেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক! অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম শামশুল আলম।

তিনি পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের দক্ষিণ মগনামা শেখ আবদুল আজিজ চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাগরের জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভাঙনের ফলে নতুন করে ওই বিদ্যালয়ের পাশে পাউবো বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় কয়েক বছর আগে বিদ্যালয়ের একতলা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। পরে বিদ্যালয়ের পাঠ কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি পরিপত্র অনুসরণ না করে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শামশুল আলম কয়েক দিন আগে পরিত্যক্ত ভবনটির ১৪টি লোহার জানালা ও ৪টি দরজা খুলে বিক্রি করে দেন।

স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে এ প্রতিবেদক দেখতে পান, একতলা ওই বিদ্যালয় ভবনের ১৪টি লোহার জানালা ও ৪টি দরজা নেই। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধান শিক্ষক শামশুল আলম স্যার তিন দিন আগে দরজা-জানালাগুলো শ্রমিক নিয়োগ করে ভেঙে ভ্যানগাড়িতে করে কোথাও নিয়ে গেছেন। তারা শুনেছেন, প্রধান শিক্ষক এগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। 

তবে দক্ষিণ মগনামা শেখ আবদুল আজিজ চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামশুল আলম জানান, তিনি বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা বিক্রি করে দেননি। এগুলো খুলে স্থানীয় বাদশা নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ভবনটি বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বানের আগেই ভবনের দরজা-জানালা খুলে নিলেন–এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। 

ওই বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, সরকারি বিধিবিধান কিংবা পরিপত্র অনুসরণ করে নিলামে পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবন বিক্রি করার কথা। সরকারি বিধি মোতাবেক বিক্রি করলে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হতো। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামশুল আলম অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে দরজা-জানালা ভেঙে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, সরকারি অব্যবহৃত/অকেজো/ভবন/মালামাল বিক্রি করতে হলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কনডেমনেশন কমিটির মাধ্যমে বিক্রি/নিলামের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিপত্র অনুযায়ী এ কমিটির সভাপতি হবেন জেলা প্রশাসক।  

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছালামত উল্লাহ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ মগনামা শেখ আবদুল আজিজ চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একতলা ভবনটি নিলামে বিক্রি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিলামের আগে কেউ বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রি করতে পারবে না।’

তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত