১৬ বছর পর পাকিস্তানের সঙ্গে তাদেরই মাটিতে টেস্ট খেলতে ইসলামাবাদ পৌঁছেছে মুমিনুল হকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের দল। কাল থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হচ্ছে টেস্টে চ্যাম্পিয়নশিপের দুই ম্যাচের প্রথমটি। পাকিস্তানে সবশেষ টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ ২০০৩ সালে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়ে কাতারের দোহা হয়ে গতকাল সকালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে রাওয়ালপিন্ডি আনুমানিক ৪৫ মিনিটের ড্রাইভ। কড়া নিরাপত্তায় বাসে করে সেই পথ পাড়ি দিয়ে হোটেলে পৌঁছান তামিম ইকবাল-মুমিনুলরা। লম্বা ভ্রমণের পর গতকাল তারা বিশ্রামে কাটিয়েছেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আজ পিন্ডিতে অনুশীলন করবে বাংলাদেশ দল।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশে বা পাকিস্তানে বাংলাদেশের টেস্টে বলার মতো কিছু নেই। ১০ টেস্টের ৯টিই হেরেছে। একটি মাত্র ড্র করতে পেরেছে। তবে ক্রিকেট রোমান্টিকদের মনে এখনো দোলা দিয়ে যায় ২০০৩ সালের মহাকাব্যিক মুলতান টেস্ট। পাকিস্তানে এই পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট চারটি টেস্ট খেলেছে। প্রথমটি ২০০১ সালে। এরপর ২০০৩ সালে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে যায়। করাচি ও পেশোয়ারের ম্যাচ দুটি যথাক্রমে ৭ ও ৯ উইকেটে হেরে মুলতানে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে যায়। তখন বাংলাদেশের অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন এবং বড় বড় ব্যবধানে বাংলাদেশের হারা নিয়তি।
তো মুলতানের ওই ম্যাচে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে ২৬১ রানের টার্গেটে ব্যাট করা স্বাগতিক দল ২০৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে হারের মুখে পড়ে। কিন্তু ইনজামাম উল হক রুখে দাঁড়ান ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান উমর গুলকে নিয়ে। ২৫৭ পর্যন্ত যায় এই জুটি।
শেষ পর্যন্ত স্রেফ অনভিজ্ঞতার কাছেই হেরে যায় বাংলাদেশ দল। হার না মানা ১৩৮ রানের বীরোচিত ইনিংস খেলে ইনজামাম ১ উইকেটে নিজের দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। হাতের মুঠো থেকে জয় বেরিয়ে যাওয়ায় সেবার কান্নায় ভেঙেছিল বাংলাদেশ দল। হৃদয় ভেঙেছিল কোটি কোটি বাংলাদেশ ভক্তের। এমন জয়ের সুযোগ আর আসেনি।
