ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ হয়েছে। তাই ফল বাতিলের কোনো সুযোগ নেই। তবে আদালত আদেশ দিলে বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিসহ অনেক দল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) কারচুপির অভিযোগ এনে দুই সিটির ফলাফল বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। তবে গত মঙ্গলবার দুই সিটির ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে ইসি। তাতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ছাড়া সবার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচন বাতিলের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করেছে। তবে আদালত করতে পারে। কেউ যদি চায়, আদালত পর্যন্ত যেতে পারে। পরে আদালত যদি কোনো আদেশ দেয় নির্বাচন কমিশনকে, সেটা আমরা দেখব।’
মো. আলমগীর বলেন, ‘ইভিএমে যে প্রকৃতপক্ষে ভোট দিয়েছে, ঠিক সেটাই পড়েছে। কারণ এখানে অতিরিক্ত ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আঙুলের ছাপ ও আইডি কার্ড ছাড়া যেহেতু ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, ভোটারকে অবশ্যই ফিজিক্যালি যেতে হয়েছে। ভোটার কেন্দ্রে না গেলে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট হলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন তার ভোট অন্যজন দিয়েছে। সেই সঙ্গে কোনো কোনো বুথে মোট ভোটারের সংখ্যার চাইতে অতিরিক্ত ভোট পড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
এর জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন ভোট দিতে যাননি, অথচ তার ভোটটি পড়েছে এরকম একটা দেখাক। তাহলে বলা যাবে, ভোটাররা আসেননি, অথচ ভোট পড়েছে। ইভিএম সিস্টেমে ভোটার না আসলে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইভিএমের যে কারিগরি দিক রয়েছে, তাতে এটা সম্ভব নয়।’
নির্বাচন আপনাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝাচ্ছেন জানি না। নির্বাচন করার জন্য যে পরিবেশ থাকা দরকার, তার পরিবেশ একেবারে ৯৯ দশমিক ৯৯ ছিল। বাকি পয়েন্ট জিরো জিরো নিয়ে যদি আপনারা কিছু বলতে পারেন। তবে মারামারির কিছু ঘটনা আমরা পরে শুনেছি। নির্বাচনের পরে শুনেছি যে, একই দলের মধ্যে হয়তো বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। তারা হয়তো হাতাহাতি করেছে। একেবারে যে ওখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়া, ওরকম মারামারি কোথাও হয়নি।’
