করোনাভাইরাস আতঙ্ক

দেশে ফিরেই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:৩৯ এএম

ধরতে পারেননি সরকারি ফ্লাইট। তবে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে চীনে থাকার সাহস হয়নি হৃদয় খান (২৫) নামে এক যুবকের। নিজ উদ্যোগেই চীন থেকে থাইল্যান্ড হয়ে গতকাল বুধবার ফিরেছেন দেশে। লক্ষ্মীপুরের এই যুবক গতকাল সকালে ঢাকায় নেমে ফিরতে চেয়েছিলেন নিজ বাড়িতে। কিন্তু পথেই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সব হারাতে হয়েছে তাকে। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।  সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সুজন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাসের ভয়ে চীন থেকে দেশে ফিরেছেন হৃদয় খান। এয়ারপোর্টে সারারাত অপেক্ষা করে ভোরের দিকে বলাকা পরিবহনের কোনো বাসে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যাওয়ার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন। পরে আমরা সায়েদাবাদ এলাকা থেকেই অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। সেখান থেকে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাাতালে নেওয়া হয় করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য।

এসআই সুজন বলেন, তার আরও আগেই ফেরার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কারণে তিনি সরকারি ফ্লাইট মিস করেছেন। এ জন্য নিজস্ব খরচেই তিনি দেশে ফিরেছেন বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।

হৃদয় খানের মামা জসিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, হৃদয় হানান প্রদেশের জ্যু জং সিটির একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে সেখান থেকে থাইল্যান্ড হয়ে ঢাকার এয়ারপোর্টে নেমেছিলেন। সেখান থেকে বলাকা বাসে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যাওয়ার পথে বাসের লোকজন তাকে কেক ও পানি খাইয়ে তার কাছ থেকে ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। শুধু পাসপোর্ট রেখে গেছে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ড, ঢাকার এয়ারপোর্ট ও সর্বশেষ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে তার পরীক্ষা হয়। কোনো পরীক্ষায়তেই তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি। হৃদয় এখন কথা বলতে পারছেন। 

হৃদয়ের স্বজনরা জানান, তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বজনরা খবর পেয়ে হাসপাতালে গেছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, হৃদয়কে অচেতন অবস্থায় সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর তার স্টোমাক ওয়াশ করানো হয়। পরে তাকে চিকিৎসকরা দেখে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত