সংসদে অর্থমন্ত্রী

এক দশকে ব্যাংকে সরকারের দেনা ২ লাখ কোটি টাকা

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৪২ এএম

এক দশকে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার দেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, ২০০৯  সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংক থেকে ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছে ১১ লাখ ৩১ হাজার ৮৪০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে নিট ঋণ গ্রহণ করেছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হিসেবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪টি উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার সঙ্গে দুই হাজার ৬২১ কোটি টাকার ৩৪টি ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে ঋণ দুই হাজার ৪৫৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ও অনুদান ১৬৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা’

তিনি জানান, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার পরিমাণ ২৩ হাজার ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। বর্তমানে দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে করদাতার সংখ্যা ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ৬৬৬ জন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৩০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী দেশে ঋণ হিসাব সংখ্যা ১ কোটি ৭ লাখ। আর ঋণের স্থিতি ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বর্তমানে শেয়ারবাজারে কিছু তারল্য সংকট থাকলেও ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট নেই। অবশ্যকীয় নগদ জমা (সিআরআর) সংরক্ষণ ও আবশ্যকীয় সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ (এসএলআর) সংরক্ষণের পরও ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। বাড়তি তারল্য ডিসেম্বরে ছিল এক লাখ ৬ হাজার ১০১ কোটি টাকা।

শেয়ারবাজারে দরপতনে ২০১০-১১ সাল থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১২ হাজার ৯০ কোটি ৭ লাখ টাকা হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে ঋণ আদায়ের হার কম হওয়ায় এবং প্রাইভেট সেক্টরে ঋণের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতও পুঁজিবাজারে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে বিনিয়োগ করছে না। ফলে কিছু তারল্য সংকটে পড়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত