চীনের বিকল্প নিয়ে চিন্তিত সরকার

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:৩৩ এএম

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানির বড় অংশই নির্ভর করে চীন থেকে কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির ওপর। দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশও আনতে হয় দেশটি থেকে। করোনাভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘায়িত হলে এ দুটি খাতসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতি যে খারাপ হবে, তা টের পাচ্ছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে চীনের বিকল্প বের করা যায়নি। তবে চীন থেকে যেসব ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়, সেগুলো অন্যদেশ থেকেও আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। করোনাভাইরাস নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা

দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কোন ধরনের প্রভাব পড়বে এবং তা থেকে রক্ষা পেতে করণীয় নির্ধারণ করে তিন দিনের মধ্যে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাসে ক্ষয়ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে গতকাল দেশের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফরউদ্দীন। ওই বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করেন। 

মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে এফবিসিসিআই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেবে। এ প্রতিবেদনের ওপর সরকার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে এ মুহ‚র্তে কোনো সমস্যা নেই। করোনাভাইরাস সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে চিন্তার বিষয়। চীনের সঙ্গে যেসব খাতে বাণিজ্য রয়েছে বিশেষ করে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কাজ করছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি বোঝা যাবে। ব্যবসায়ীরাও বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে যে সমস্যা চলছে, উভয় দেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রে এর প্রভাব পর্যালোচনা করে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ সমস্যা বেশিদিন অব্যাহত থাকলে আগামী দিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্য দেশগুলোও বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে। বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে কাজ করছে।

 এ মুহ‚র্তে চীন থেকে কোনো পণ্য আমদানি বন্ধ আছে কি-না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখনো পণ্য আমদানি বন্ধ হয়নি। তবে করোনাভাইরাস নিয়ে সংকট দীর্ঘমেয়াদি হলে আমাদের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ভোগ্যপণ্য হয়তো সহজেই অন্য দেশ থেকে আমদানি করা যাবে। কিন্তু তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামালসহ অন্যান্য যেসব পণ্য আমদানি করা হয়, তা নিয়ে ভাবার বিষয়। কারণ এসব পণ্য আমদানিতে বিকল্প দেশ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

এর আগে এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, এনবিআরের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতা ও সরকারের অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত