করোনাভাইরাস নিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত

চীনে কোনো বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়নি

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:৩২ এএম

বাংলাদেশে অবস্থান করা চীনের কোনো নাগরিক এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। তিনি করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার

ঢাকার চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ভাইরাস প্রতিরোধে চীন সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম এ নিয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, যা ঠিক নয়।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এখনো বাংলাদেশে থাকা কোনো চীনা নাগরিক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। এছাড়া চীনেও কোনো বাংলাদেশি নাগরিক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। বাংলাদেশ সরকার চীনা নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে অন অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করেছে, সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত। আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৮ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নববর্ষের ছুটিতে চীন গেছেন। এখন তাদের ফিরতে কিছুটা দেরি হতে পারে। সে কারণে প্রকল্প শেষ হতে এক থেকে দুই মাস আরও দেরি হতে পারে। তবে করোনাভাইরাসের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না।

এই রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, অতীতে ইবোলা ভাইরাস, সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসে যেসব লোক আক্রান্ত হয়েছে, সেই তুলনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা খুবই কম।  

চীনে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ নির্দেশনা : গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের রাজধানী পেইচিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশের চীনা নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনের নাগরিকদের আপাতত স্বদেশে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে কর্মরত চীনের কোম্পানিগুলো যেন স্বদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে বিরত থাকে, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশ-চীন রুটে চলাচলকারী সব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যেন চীনের স্বাস্থ্য প্রশাসনের এ সংক্রান্ত ‘ক্লিয়ারেন্স’ বাধ্যতামূলক করা হয়। চীন থেকে বৈধ ভিসাসহ বাংলাদেশে গমনেচ্ছু সবাই যেন এ ক্লিয়ারেন্স দেখানোর পরই ভ্রমণের অনুমতি পায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত