দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

মেহেরপুরে প্রতিমন্ত্রী ডিসির বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতাদের ক্ষোভ

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:১৮ এএম

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফরহাদ হোসেন এবং মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক আতাউল গনির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, দলীয় নেতাদের অবমাননা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতারা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার মেহেরপুর সদর পৌর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ গোলাম রসুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আশকার আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মিয়াজান আলী, সাবেক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মান্নান ও মেহেরপুর পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন।

সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে উদ্দেশে করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল বলেন, ‘মন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু মেহেরপুরের উন্নয়নে আপনার কোনো আগ্রহ নেই। আপনি মেহেরপুরের এমপি ও সভাপতি হয়ে এখন শ^শুরবাড়ি কিশোরগঞ্জের উন্নয়ন শুরু করেছেন। তাহলে বলেন আমরা মেহেরপুরের নেতৃত্ব স্থানীয় ভোটারদের কাছে কী জবাব দেব? ভোট করবেন মেহেরপুরে আর চাকরি, উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা কিশোরগঞ্জের লোকদের দেবেন। এই রাজনীতি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ মেনে নেবে না। আপনি ভোটের আগে বলেছিলেন, এমপি হলে সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করবেন। আর এখন মন্ত্রী হওয়ার পর বলছেন, কাউকে দরকার নেই। শুধু ডিসি আর ভাই ব্রাদার থাকলেই হবে।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনীতি করে এমপি-মন্ত্রী হননি। তাই রাজনীতিবিদদের আপনি ডিসিকে দিয়ে অসম্মানিত করাতে বেশি ভালোবাসেন। পিতার সুবাদে আপনারা আজ আওয়ামী লীগ। অথচ জীবনে কোনোদিন আপনারা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের মিটিং-মিছিল করেননি। তাই রাজনীতিবিদদের প্রতি আপনার এত অভক্তি। এখন উপজেলা পরিষদের সমস্ত কাজ আপনি ডিসিকে দিয়ে হস্তক্ষেপ করিয়ে পরিবারের লোকজন দিয়ে বাস্তবায়ন করছেন। এভাবে এখন আপনারসহ পরিবারের সবার দামি একাধিক গাড়ি হয়েছে, বাড়ি হয়েছে। আলাদিনের চেরাগ পাইছেন! অথচ ছোট্ট একটি ওষুধের দোকান ছাড়া আপনাদের আর কিছুই ছিল না।’

এই আওয়ামী লীগ নেতা জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে বলেন, ‘মেহেরপুরে একজন কালা জাহাঙ্গীর আছে। কথায় আছে বাঁশের চেয়ে কঞ্চি মোটা হলে যা হয়। তিনি এখন মন্ত্রীকে চালান।’

মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহাফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘মুজিবনগরকেন্দ্রিক মেহেরপুর পৌরসভায় উন্নয়ন হোক এটা জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী চান না। তাকে সন্তুষ্ট করতে না পারার কারণে মন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চাপ প্রয়োগ করে তদন্ত দল পাঠিয়ে উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করছেন। তিনি ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পথে বাধা সৃষ্টি করে সেই টাকা ফেরত পাঠিয়েছেন। তিনি ডিসিকে দিয়ে ঘুষ দাবি করেন। না দিলে পৌরসভায় মেয়রকে বাতিল করে প্রশাসক বসানোর হুমকি দেন। এখন সরকারি ও দলীয় কোনো অনুষ্ঠান বা মিটিংয়ে দলীয় জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ না করে মন্ত্রীর ভাই ব্রাদারদের প্রধান অতিথি বিশেষ অতিথি করা হয়। এভাবে দলকে ধ্বংস করবে না।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিয়াজান আলী বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ আমরা সকলে মিলে একবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলে এসেছি। প্রয়োজনে আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব। তবুও দলকে রক্ষা করে ছাড়ব।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দলকে গতিশীল করতে ও এলাকাকে এবং এলাকার মানুষকে এগিয়ে নিতে মন্ত্রিত্ব দিয়েছেন। ডিসির মাধ্যমে দলীয় নেতৃত্বকে বিভক্ত ও অপমানিত করে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নিজের বিত্তবৈভব বাড়ানোর জন্য মন্ত্রিত্ব দেননি।’

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রব, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাভলী ইয়াসমিন, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুর আনাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান রুপক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জনি প্রমুখ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত