২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সিসি ক্যামেরা অকেজো

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৩৬ এএম

নিরাপত্তার জন্য বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে সাড়ে তিন বছর আগে স্থাপিত ২৬১টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা এখনো সচল হয়নি। ২০১৫ সালে ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্যামেরাগুলো স্থাপন শুরু করে বরিশাল সিটি করপোরেশন। ক্যামেরাগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য নগরীর বিভিন্ন স্থানে ৮টি বুথ নির্মাণ করা হয়। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালের জুনে। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জটিলতাসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে এই প্রকল্প কোনো কাজে আসেনি। আর ক্যামেরাগুলোও অরক্ষিত ও অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের রাজাবাহাদুর সড়ক, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বান্দ রোড, বঙ্গবন্ধু উদ্যান, আমতলা মোড়সহ বিভিন্ন সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা রয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ ক্যামেরাগুলো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় নগরীর নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সিটি করপোরেশন একটি প্রকল্পপ্রস্তাব প্রস্তুত করে অনুমোদন নেয়। ২০১৫ সালের শেষ দিকে ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে ২৬১টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ক্যামেরাগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৮টি বুথ নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। তখন বরিশাল সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে দুটি মনিটর স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, তখনকার সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময় সিসি ক্যামেরাগুলো নগরীতে স্থাপন করা হয়। প্রথমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে সংযোগ দেওয়া হলেও করপোরেশন সিসি ক্যামেরা পরিচালনায় কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তখনকার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন একাধিকবার অনুরোধ করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর ক্যামেরাগুলো আর কাজে আসেনি।

এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৬১টি ক্যামেরা স্থাপন করেছিল সিটি করপোরেশন। ক্যামেরাগুলো নিয়ন্ত্রণে আমদের কার্যালয়ে একটি মনিটর স্থাপনের কথা ছিল কি না তা আমার জানা নেই। তবে আমরা ক্যামেরাগুলো নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব চেয়েছিলাম। তারা রাজিও হয়েছিল। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে ওই ক্যামেরাগুলোর বেশিরভাগ অচল।

করপোরেশনের আইটি বিভাগ সেগুলো সচল করে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে এখনো সেগুলো আমরা পাইনি। আমরা নিজস্ব উদ্যোগে ৩০-৪০টি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। বর্তমানে মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও কিছু ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে করপোরেশন স্থাপিত ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।

নগরীর সিসি ক্যামেরার দায়িত্বে থাকা বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, ২০১৬ সালে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়।

ক্যামেরাগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য নগরীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, নাজিরের পুল, চৌমাথা, আমতলার মোড়, জেলা ও দায়রা জজ বাসভবন, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, নগর ভবন, এনেক্স ভবনের সামনে ৮টি বুথ নির্মাণ করা হয়। তখন বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে জটিলতার কারণে ক্যামেরাগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চালু না হওয়ায় সেগুলোতে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমান মেয়র সিসি ক্যামেরা চালুর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। বিষয়টি আইটি বিভাগকে বলা হয়েছে। ক্যামেরাগুলোতে যেসব সমস্যা আছে সেগুলো সমাধান করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত