হ্যাশট্যাগ মি-টুর মাধ্যমে হলিউডের প্রযোজক হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো। পরে অ্যাঞ্জেলিনা জোলিসহ একে একে অন্তত ৬০ জন নারী হার্ভের নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। একসময়ের প্রবল প্রতাপশালী এই প্রযোজকের বিরুদ্ধে বিচারকদের সামনে ছয় নারীর সাক্ষ্য নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি
হার্ভের সুপার বোল সানডে পার্টি
গত ২ ফেব্রুয়ারি আদালতের শুনানিতে হাজির হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ‘সুপারর বোল সানডে’ পার্টির আয়োজন করেন যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত হলিউড প্রযোজক হার্ভে ওয়েনস্টেইন। এই পার্টি সম্পর্কে ‘পেজ সিক্স’কে দেওয়া এক বক্তব্যে হার্ভের লোকরা জানায়, দুঃসময়ে পাশে থাকা মানুষদের ধন্যবাদ জানাতেই তিনি এই পার্টির আয়োজন করেছেন।
দ্য ইনডিপেনডেন্টের বরাতে জানা গেছে, হার্ভের পার্টিতে জনাবিশেক লোকের উপস্থিতি ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন তার আইনজীবী ও বন্ধু-বান্ধব। এর কিছুক্ষণ পর নিউ ইয়র্ক সিটির আদালত কক্ষে হার্ভের বিরুদ্ধে জ্যাসিকা মান সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বেঘোরে ঘুমাচ্ছিলেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৩ সালে জ্যাসিকাকে ধর্ষণ করেছিলেন হার্ভে। জ্যাসিকা ছাড়াও আরও পাঁচ নারীকে ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তবে, এ বিষয়ে হার্ভের মুখপাত্র সালি হফমিস্টার বলেন, এ ধরনের যেকোনো অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, সম্মতি ছাড়া তিনি কারও সঙ্গেই শারীরিক সম্পর্ক করেননি।
আদালতে বিভিন্ন সময়ের হার্ভের নির্যাতনের শিকার নারীরা তাদের সাক্ষ্য দিচ্ছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাকি জীবন কারাগারেই থাকতে হবে একসময়ের এই হলিউড মুঘলকে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষিত ও নির্যাতিত নারীদের সাক্ষ্যে একবার চোখ বোলানো যাক
অ্যানাবেলা সিওরা
বহু বছর আগে সংঘটিত ধর্ষণের বর্ণনা দিয়ে হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন অ্যানাবেলা সিওরা। বিচারকদের সামনে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। তাকে ঘুষি মেরেছি, লাথি মেরেছি।’
এত চেষ্টার পরও হার্ভের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারেননি সিওরা। হার্ভে তাকে নিচে ফেলে দেয় এবং ধর্ষণ করে। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে সিওরা বলেন, ‘সে আমার ওপর চড়ে বসে এবং ধর্ষণ করে। আমি ‘না না’ বলে চিৎকার করেছিলাম। এর বেশি কিছু করার আমার আর উপায় ছিল না। আমার শরীর অসাড় হয়ে গিয়েছিল। অস্বাভাবিকভাবে কাঁপতে শুরু করেছিলাম। সেই অনুভূতিটা অনেকটা সিজার করার মতো কিংবা এমন কিছু।’
সিওরা আরও সাক্ষ্য দেন, ধর্ষণের পরও কয়েক বছর ধরে হার্ভে তাকে হয়রানি করেন। একবার লন্ডনের একটি হোটেল কক্ষে অবস্থান করছিলেন তিনি। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সেই কক্ষে এসে ঢুকে পড়েন হার্ভে। এমননি সিওরাকে জোর করে কক্ষ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত কান ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত ছিলেন সিওরা। সেখানে তিনি যে হোটেল কক্ষে অবস্থান করছিলেন, তার দরজায় কেউ কড়া নেড়েছিল ভোর ৫টার দিকে। দরজা খুলে সিওরা দেখেন একটি অন্তর্বাস পরে বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন হার্ভে। তার এক হাতে একটি বাচ্চাদের তেলের বোতল, অন্য হাতে ছিল একটি ভিডিও টেপ। এমন পরিস্থিতিতে কক্ষের মধ্যে থাকা সবগুলো কল-বোতামে চাপ দিয়েছিলেন সিওরা। কল পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের দু-একজন চলে এলে হার্ভে সেই স্থান ত্যাগ করে চলে যান।
অভিনেত্রী রোজি প্যারেজ এসব বক্তব্য সমর্থন করে সাক্ষ্য দেন, ১৯৯৩ সালে হার্ভে ওয়েনস্টেইনের যৌন আক্রমণের কথা তাকে বলেছিলেন সিওরা। তবে, সিওরার অভিযোগ আমলে নেবেন না বিচারকরা। কারণ ২৫ বছর পার হয়ে গেলে ধর্ষণের অভিযোগ মার্কিন আদালতে আর গ্রহযোগ্য হয় না।
মিমি হ্যালি
ফ্যাশন ডিজাইন সম্পর্কিত ‘প্রজেক্ট রানওয়ে’ টেলিভিশন সিরিজের সাবেক সহকারী ছিলেন মিমি হ্যালি। ২০০৬ সালে হার্ভে ওয়েনস্টেইন তাকে ধর্ষণ করেন। সেই সময়টিতে হার্ভে ছিলেন তার বস। হার্ভের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মিমি বলেন, একবার একটি মিটিংয়ের কথা বলে তাকে নিজের হোটেল কক্ষে ডেকেছিলেন হার্ভে। সেখানে মিমিকে তিনি প্যারিস ভ্রমণের সময় সঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব দেন।
গত ২৭ জানুয়ারি আদালতে দাঁড়িয়ে ধর্ষিত হওয়ার বর্ণনা দেন মিমি হ্যালি। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে হার্ভে ওয়েনস্টেইনের অ্যাপার্টমেন্টেই ওই ঘটনাটি সংঘটিত হয়। সেদিন হঠাৎ করেই মিমিকে জোর করে চুমু খেতে শুরু করেছিলেন হার্ভে। সোফায় বসে পড়ে মিমি তাকে বিরত হওয়ার আহ্বান জানান। মিমি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সাধারণ কথাবার্তাই হচ্ছিল। টেলিভিশনটি চালু ছিল। তাই মাঝেমধ্যে আমাদের চোখ টেলিভিশনের দিকেও যাচ্ছিল। এমনই একপর্যায়ে তিনি আমার সামনে এসে দাঁড়ান এবং জোর করেই আমাকে চুমু খেতে শুরু করেন।’
সেই সময়টিতে হার্ভেকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিতে চাইলেও ব্যর্থ হন মিমি। তিনি বলেন, ‘সে আমাকে পেছনে টেনে নিল এবং চুমু খেয়েই যাচ্ছিল। তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো শক্তি আমার ছিল না।’
মিমিকে একটি বিছানায় জোর করে ফেলে দেন হার্ভে। এ সময় হার্ভের হাত মিমির জননাঙ্গের দিকে এগোতে শুরু করলে চিৎকার করে ওঠে সে। মিমি সে সময় ঋতুচক্রের মধ্যে থাকলেও হার্ভে তার প্যাড টেনে ছুড়ে ফেলে দেন এবং ধর্ষণ করেন।
ওই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর আরও একবার নির্যাতনের শিকার হন মিমি। এই ঘটনাটি ঘটেছিল ট্রিবেকা হোটেলে। মিমি দ্বিতীয়বার তার কাছে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি ভেবেছিলেন হয়তো এই ধরনের ঘটনা আর ঘটাবেন না হার্ভে। কিন্তু তার ধারণা ভুল ছিল। হোটেল কক্ষে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হার্ভে তাকে বিছানার ওপর ছুড়ে ফেলে দেন এবং ধর্ষণ করেন।
হার্ভে যে সময় মিমিকে ধর্ষণ করেছিলেন, সেই সময়গুলোতে মিমি হ্যালির রুমমেট ছিলেন এলিজাবেথ এন্টিন। গত ২৮ জানুয়ারি মিমির বক্তব্যকে সমর্থন করে এলিজাবেথ সাক্ষ্য দেন, ২০০৬ সালের গ্রীষ্মে মিমি তাকে হার্ভে ওয়েনস্টেইনের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছিলেন। এ সময় মিমিকে তিনি আইনের আশ্রয় নিতেও বলেছিলেন।
ডন ডানিং
গত ৫ জানুয়ারি সকালে আদালতে দাঁড়িয়ে হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সাক্ষ্য দেন সাবেক অভিনেত্রী ডন ডানিং। জানা যায়, ২০০৪ সালে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ডন ডানিংয়ের জননাঙ্গ স্পর্শ করেছিলেন হার্ভে। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনার পর যৌনতার বিনিময়ে ডানিংকে বিভিন্ন সিনেমায় সুযোগ দেওয়ার অফার করেন হার্ভে।
একটি চরিত্রের ব্যাপারে কথা বলার জন্য প্রথমবারের মতো হার্ভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন ডানিং। আদালতের সাক্ষ্যতে তিনি বলেন, ‘আমি হার্ভের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় তিনি আমাকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে গেলেন। পরে সেই কক্ষে একটি বিছানার ওপর তার পাশেই আমি বসেছিলাম। আমার পরনে একটি স্কার্ট ছিল সেদিন। তিনি আমার স্কার্টের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দেন। এমনকি আমার অন্তর্বাসের ভেতরেও তার হাতটি নিয়ে যান।’
ডানিংয়ের বক্তব্যকে সমর্থন করে আদালতে সাক্ষ্য দেন তার সাবেক প্রেমিক লিংকন ডেভিস। তিনি বলেন, ‘সেই মিটিং থেকে হতবাক, মন খারাপ ও রাগান্বিত অবস্থায় ফিরে এসেছিল ডানিং এবং কান্নায় ভেঙে পড়ছিল।’
তারেল উলফ
একসময় একটিবার ওয়েট্রেসের কাজ করা তারেল উলফ এখন মডেলিং পেশায় জড়িত। গত ৫ জানুয়ারি আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে উলফ জানান, ২০০৫ সালে সহো লাউঞ্জে তার সামনেই একবার স্বমেহন করেছিলেন হার্ভে এবং হার্ভের দ্বারা ধর্ষণেরও শিকার হয়েছিলেন তিনি।
উলফ জানান, সিপ্রিয়ানি আপস্টেয়ার্সে কাজ করার সময় হার্ভে ওয়েনস্টেইনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিচারকদের সামনে নিজের সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘হার্ভে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আমি কী করি। জবাবে বলেছিলাম, আমি অভিনয় করি।’
এ সময় হার্ভে উলফকে বলেন, ‘তুমি দেখতে দারুণ। আমার লোকদের সঙ্গে তোমার কথা বলা উচিত।’ এরপরই উলফকে জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে ক্লাবের একটি নির্জন অংশে নিয়ে যান তিনি।
নিজের সাক্ষ্যতে উলফ আরও বলেন, “একবার হার্ভের সামনে পড়ে গিয়েছিলাম আমি। এ অবস্থায় আমি তাকে বলি যে, আমাকে কাজে ফিরে যেতে হবে। আর তার ভাবখানা ছিল ‘এক সেকেন্ড, এক সেকেন্ড’ এমন।” উলফ বলেন, ‘এ সময় আমি দেখলাম সে স্বমেহন করছে।’
এ ঘটনার কয়েক দিন পর হার্ভের কোম্পানি থেকে কেউ একজন উলফকে ফোন করে একজন পরিচালকের সঙ্গে মিটিংয়ের কথা বলেন। উলফ ভেবেছিলেন তাকে হয়তো একটি অডিশনের জন্য ডাকা হয়েছে। তার জন্য একটি গাড়ি পাঠানো হয়েছিল। সেই গাড়িটি তাকে ক্রসবি স্ট্রিটে হার্ভের অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যায়। উলফ অভিযোগ করেন, সেই অ্যাপার্টমেন্টের হার্ভে তাকে একটি বিছানায় জোর করে শুইয়ে দেন। এমন পরিস্থিতিতে হাত-পা অসাড় হয়ে যায় তার।
উলফ বলেন, “সে আমার ওপরে চড়ে বসে। আমি তাকে বলি ‘আমি পারব না।’ এরপর সে আমাকে বলে যে, তার জন্মনিয়ন্ত্রণ করা আছে।” উলফ আরও বলেন, ‘সে আমাকে ধর্ষণ করে।’
জ্যাসিকা মান
গত ৩১ জানুয়ারি হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেন ৩৪ বছর বয়সী জ্যাসিকা মান। তিনি জানান, ২০১৩ সালে হার্ভের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন তিনি। পরে হার্ভের সঙ্গে একটি আপত্তিজনক এবং দুঃসহ শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
আদালতকে জ্যাসিকা জানান, অসীম ক্ষমতাধর হার্ভের ভয়ে এবং পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে এমন সম্পর্ক তিনি চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
নিজের সাক্ষ্যতে জ্যাসিকা জানান, তিনি তার রুমমেটের সঙ্গে একটি পার্টিতে গিয়েছিলেন। সেখানেই হার্ভে তাকে জোর করে একটি হোটেল কক্ষে নিয়ে যান এবং চুমু খান। পরে হার্ভের সঙ্গে আরও একবার দেখা হলে, তিনি আবারও জ্যাসিকাকে পাঁজকোলা করে একটি হোটেল কক্ষে টেনে নিয়ে যান এবং তাকে নগ্ন হতে বলেন। দরজা আটকে দিয়ে জ্যাসিকাকে সেদিন ধর্ষণ করেন হার্ভে।
ধর্ষিত হলেও হার্ভের সঙ্গে একটি স্থায়ী ও সত্যিকারের সম্পর্কে যাওয়ার চিন্তা করেছিলেন জ্যাসিকা। সেই সম্পর্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে জ্যাসিকা বলেন, ‘সে আমাকে অনেক নোংরা কথা বলত এবং অন্য অভিনেত্রীদের সঙ্গে তুলনা করে আমাকে বিদ্রুপ করত। আর সে আমাদের সম্পর্ককে ভিডিও করতে চাইত। যদিও এটি করার সুযোগ আমি তাকে কখনো দিইনি।’
জ্যাসিকা আরও জানান, হার্ভে একবার তার ওপর মূত্রত্যাগও করেছিলেন। একজন অভিনেতার সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা হার্ভেকে বলেছিলেন জ্যাসিকা। সেদিন এক নির্মম যৌন নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হার্ভে আমাকে বিছানার কোনায় ছুড়ে মারে এবং জামা খুলে ফেলতে বলে। আমি তার সহানুভূতি প্রার্থনা করেছিলাম। কিন্তু সে আমাকে আবারও জামা-কাপড় খুলতে বলে। আমি এতে রাজি না হলে সে প্যান্ট এবং জামাটি এত দ্রুত টেনে খুলে ফেলে যে, দুই পায়ের কয়েক জায়গার চামড়া কেটে গিয়েছিল। পরে সে আমার মুখে বীর্যপাত করে। আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। কোনোক্রমে হামাগুড়ি দিয়ে বাথরুমে গিয়ে মুখ এবং ক্ষতস্থানগুলো পরিষ্কার করেছিলাম।’
সেই মুহূর্তটিতে জ্যাসিকাকে হার্ভে বলেছিলেন, ‘ঠিক আছে, এবার যাও। এবার তুমি তোমার সম্পর্ক চালিয়ে যাও। আর আমার জন্য তুমি কী করতে পারো? তুমি বরং আমার জন্য অন্য মেয়েদের নিয়ে এসো।’
৩ ফেব্রুয়ারি জ্যাসিকাকে জেরা করেন হার্ভের আইনজীবীরা। হার্ভে তার ওপর ঠিক কীভাবে মূত্রত্যাগ করেছিলেন সে সম্পর্কে জানতে চান তারা। এর জাবাবে জ্যাসিকা জানান, তিনি একটি শাওয়ারের মধ্যে ছিলেন। এ সময় হার্ভে তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি কখনো সোনালি স্নান করেছো?’ জ্যাসিকা ‘না’ বলার পর দেখতে পান হার্ভে তার ওপর মূত্রত্যাগ করছে।
জেরার এই পর্যায়ে হার্ভের আইনজীবী ডোনা রোটুন্নো জ্যাসিকাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কেন তাকে নিষেধ করেননি কিংবা ওই স্থান ত্যাগ করেননি?’ জবাবে জ্যাসিকা বলেন, ‘আমি হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম। আমি শাওয়ারের এক কোনায় সরে গিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলাম।’ এ সময় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ডোনা আদালতের সামনে ২০১৩ সালে হার্ভেকে পাঠানো জ্যাসিকার একটি ইমেইল উপস্থাপন করেন। ওই ইমেইলে জ্যাসিকা হার্ভের প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
লরেন ইয়ং
হার্ভের সারা গায়ে চুল এবং আঁচিল ছিল। আর তার বিশেষ জননাঙ্গটিও স্বাভাবিক নয়। ভরা আদালতে এভাবেই হার্ভের বিরুদ্ধে মুখ খুলেন মডেল অভিনেত্রী লরেন ইয়ং। আদালতকে তিনি জানান, একটি হোটেলের বাথরুমে কীভাবে হার্ভে আচমকা তার ডান বুক চেপে ধরেছিলেন এবং তাকে ঠেলে বেসিনের কোনায় চাপা দিয়েছিলেন।
ইয়ং আরও জানান, কীভাবে সেখানে হার্ভে তার সামনে জামা-কাপড় খুলে ফেলে। তারপর তার সামনেই স্বমেহনের মতো কুকর্মটি করে।
যেভাবে ভরা আদালতে ইয়ং মুখ খোলেন তা নিয়ে সবাই কিছুটা থতমত খেয়ে যান। এতটা খোলাখুলি যে, তিনি বলতে পারবেন তা বোধহয় খোদ হার্ভেও আশা করেনি। ইয়ং কিন্তু পুরো ঘটনার কথা লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৩ সালে একটি স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা করতে তাকে বেভারলি হিলসের বিলাসবহুল হোটেলে ডেকে পাঠায় হার্ভে। হলিউডের বড় প্রযোজক ডেকেছে। তাই নিজের সবচেয়ে দামি পোশাকটা গায়ে চড়িয়ে সেখানে হাজির হন ইয়ং। মেক্সিকান মডেল ক্লডিয়া স্যালিনাস হার্ভের নিমন্ত্রণের কথা জানান বলে আদালতকে জানান ইয়ং। এও জানান, তিনি ক্লডিয়ার সঙ্গেই হার্ভের জন্য অপেক্ষা করেন। পরে হার্ভে তাকে নিয়ে একটি হোটেল কক্ষে হাজির হন। সঙ্গে ছিলেন ক্লডিয়াও। সেখানে তাকে নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করার পর বাইরে ক্লডিয়াকে রেখে দরজা বন্ধ করে দেন হার্ভে। তারপর নিজের পরনের পোশাক খুলে ফেলেন। প্রথমে তা দেখে হেসে ফেলেন ইয়ং। তারপর আতঙ্কে বাথরুম ছেড়ে বের হওয়ারও চেষ্টা করেন। কিন্তু বিফল হন। তার সামনে এসে দাঁড়ায় হার্ভে। তারপর তাকে জানায়, সব অভিনেত্রীকেই এ কাজ করতে হয়। ইয়ং চেঁচাতে থাকেন নো, নো, বলে। এই অবস্থায় তার ডান বুক সজোরে চেপে ধরেন হার্ভে। বুক চেপে ধরেই তাকে ঠেলে বেসিনের কাছে নিয়ে যান তিনি। আর অন্য হাতে তার শরীরটা চেপে ধরে এবং তার পোশাকের চেন খুলে দেয়।
