দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার দিন গত শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সমাবেশ করেছে বিএনপি। কিন্তু এদিনের কর্মসূচিতে দেখা যায়নি দলটির সংসদ সদস্যদের। এ বিষয়ে গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির একাধিক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিব। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের চেয়ারপারসন দুই বছর ধরে কারাবন্দি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে। দল এখন চরম বিপর্যয়ের মধ্যে। এমন দুর্দিনে বিএনপির সংসদ সদস্যদের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে যেসব কর্মসূচি দেওয়া হয়, তাতে তাদের দেখা যায় না। তারা পৃথকভাবেও কোনো কর্মসূচি পালন করেন না। জ্যেষ্ঠ নেতারা আরও বলেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করে। তখন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে দলের সংসদ সদস্যরা হরতালে সংসদ ভবন এলাকায় মিছিল করতেন। কিন্তু এখন যারা সংসদ সদস্য রয়েছেন তাদের গত রবিবারের হরতালে রাজপথে দেখা যায়নি।
দলের সংসদ সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেন না এমন অভিযোগ খন্ডন করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কর্মসূচি থাকলে বিএনপি অফিস থেকে আমাকে জানানো হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারিতে নয়াপল্টনে যে সমাবেশ হয় তাতে তিনি অংশ নিতে পারেননি। কারণ আগে থেকেই তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় রয়েছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ মো. হারুন অর রশীদ, বগুড়া-৪ মোশাররফ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া, ঠাকুরগাঁও-৩ জাহিদুর রহমান ও বগুড়া-৬ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।
দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, বিএনপির জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। চেয়ারপারসন দুই বছর ধরে কারাবন্দি। বন্দি অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসার অভাবে গুরুতর অসুস্থ তিনি। এ অবস্থায়ও দলের সংসদ সদস্যরা কোনো আন্দোলনে দৃশ্যমান নয়। এটা দুঃখজনক।
তারা বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো হরতাল পালন করে বিএনপি। এদিন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যদের রাজপথে দেখা যায়নি। এমনকি গত শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে কোনো সংসদ সদস্যকে দেখা যায়নি।
বিএনপির এসব নেতা বলেন, ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিএনপি। তখন বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলের সংসদ সদস্যদের সরব উপস্থিতি ছিল। হরতালে সংসদ ভবন এলাকায় নিয়মিত মিছিল করতেন। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি তেমন লক্ষণীয় নয়। প্রথম হরতালে সংসদ ভবন এলাকায় সংসদ সদস্যদের মিছিল করতে দেখা যায়নি।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দেয়। ওই দিনই তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর থেকে অনশন, মানববন্ধন, সভা, সমাবেশ করে আসছে বিএনপি। কিন্তু কোনো কর্মসূচিতে দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত অপর সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা এত বড় নেতা নই। বিএনপি অফিস থেকে আমাদের ফোন করা হয় না। তবে নিজ নির্বাচনী এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মসূচি পালন করি। কারণ আমি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
সংরক্ষিত নারী কোটায় বিএনপির নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছর নিজের টাকায় ৫টি দেশে গেছেন তিনি। ওইসব দেশে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিয়েছেন। এটা তিনি করেছেন নিজের টাকায়। এজন্য দলের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা নেননি। সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখছেন তিনি। এর বাইরে টিভি টক শোতে নেত্রীর মুক্তির জন্য জোরালো বক্তব্য তুলে ধরছি। এছাড়া কলাম লিখছি। দলের ডাকা কর্মসূচিতেও অংশ নিই। মঞ্চে উঠে ধাক্কাধাক্কি করতে পারি না বলে উঠি না।
