দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় গে-ারিয়ার সাবেক যুবলীগ নেতা দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াকে গতকাল রবিবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সংস্থাটি। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত মাসের ১৯ তারিখে অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় তাদের পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এর আগে গত বছর ২৩ অক্টোবর এনুর বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। আর ১৪ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রুপনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী। গত ১৩ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এনু ও রুপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, এনু ও রুপনের ঢাকায় ১২০টি ফ্ল্যাট ও ১৫টি বাড়ির তথ্য মিলেছে। তাদের পুরান ঢাকার ২৯ বানিয়ানগরে লোহালক্কড় বিক্রির একটি দোকান ছিল। থাকতেন দোকানের পেছনের একটি টিনশেড বাড়িতে। গত বছর রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হলে র্যাব জানতে পারে, এনু-রুপনের মালিকানাধীন ১৫টি বাড়ি আছে। কিন্তু সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে তারা ২২টি বাড়ির তথ্য দেয়। আর সিআইডির রিমান্ডে জানা যায় ১২০টি ফ্ল্যাটের তথ্য। এ বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এনু ও রুপন ঢাকায় প্রথম ওয়ান-টেন জুয়া ও অবৈধ ক্যাসিনো চালু করেন। এ থেকে অর্জিত টাকা তারা বস্তায় করে বাড়িতে নিয়ে যেতেন। বাধাহীনভাবে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে ‘মোটা অঙ্কের’ টাকা দিয়ে তারা ভাগিয়ে নেন থানা আওয়ামী লীগের পদ। অনেক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তাকে টাকার বিনিময়ে ‘ম্যানেজ করে’ চলতেন তারা।
গত সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর দিকে এনু ও রুপনের গেন্ডারিয়ার বানিয়ানগর ও মুরগিটোলার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বেশ কয়েকটি সিন্দুক থেকে কোটির বেশি টাকা ও সাড়ে আট কেজি সোনা পাওয়া যায়। র্যাব তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করে। এর মধ্যে অর্থপাচারের মামলায় গত ১৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।
