দাখিল পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে আসন পুনর্বিন্যাস

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত ৮

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:১৬ এএম

দাখিল পরীক্ষায় আসন পুনর্বিন্যাস হওয়ায় অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে পরীক্ষার্থী শেখ তানভির মিয়া ও তার সহযোগীদের হামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার দাঁতমন্ডল এরফানিয়া আলিম সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রের হল সুপার জহিরুল ইসলামসহ আটজন আহত হয়েছেন। গত শনিবার রাত ৮টায় উপজেলার দাঁতমন্ডল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। আহতরা হলেন দাঁতমন্ডল এরফানিয়া আলিম সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রের হল সুপার ও খান্দুরা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক জহিরুল ইসলাম, দাখিল পরীক্ষার্থী শাহরিয়ার কামাল (১৬), আয়েত আলী (১৭), মফিজুল ইসলাম (১৫), রাজু মিয়া (১৭), মিনারা বেগম (১৫), লাখী আক্তার (১৬) ও হ্যাপী আক্তার (১৬)। আহত পরীক্ষার্থীও খান্দুরা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তারা পরীক্ষা দিতে দাঁতমণ্ডল গ্রামে অবস্থান নেয়। পুলিশ ও আহত হল  সুপার জহিরুল ইসলাম জানান, বোর্ডের নিয়মানুযায়ী পরীক্ষার্থীদের আসন বিন্যাস করার কথা। কিন্তু সেই নিয়ম না মেনে বাংলা প্রথমপত্র, দ্বিতীয়পত্র ও ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষাকালে আসন বিন্যাস হয়েছিল। এ অনিয়মটি হলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দৃষ্টিতে এলে গত শনিবার নিয়ম অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে দাঁতমন্ডল মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী শেখ তানভির মিয়া ও তার ৬-৭ জন সহযোগী গত শনিবার রাত ৮টার দিকে দাঁতমন্ডল গ্রামের দরজ মিয়ার বাড়িতে অবস্থান নেওয়া হল সুপার জহিরুল ইসলামের কক্ষে ঢুকে আসন বদলের বিষয়টি জানতে চায়। তখন জহিরুল বলেন, আগে আসন বিন্যাসে অনিয়ম হয়েছিল, তাই সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে নতুন করে আসন বিন্যাস করা হয়েছে। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তানভির ও তার সহযোগীরা জহিরুলকে মারধর করতে থাকে। পরে চিৎকার শুনে পাশের রুমে থাকা শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করাা হয়। পরে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তানভীর ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। নাসিরনগর থানার ওসি সাজেদুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াও হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। চিকিৎসা শেষে আহতরা ওই রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফুজ্জামান চৌধুরী সুমনের বাসায় রাত্রিযাপন করেন। ওসি বলেন, অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে একজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালানোর ঘটনা দুঃখজনক। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা আশরাফী বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আইন আইনের গতিতেই চলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত