সিলেটের ছাত্ররাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রস্থল টিলাগড় নগরবাসীর কাছে এখন এক আতঙ্কের নাম। দিনে দিনে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে এলাকাটি। এখানে একের পর এক ছাত্র খুন হচ্ছে। ছাত্রলীগের আধিপত্যের রাজনীতির কারণে টিলাগড় যেন সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা সবসময় আতঙ্কে থাকেন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপের সদস্যরা টিলাগড়ে আস্তানা গেড়ে দিনে-রাতে সবসময়ই সরব থাকে। সংগঠনটির এসব নেতাকর্মীর অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ভূমিদখলের অভিযোগ রয়েছে। সিলেট আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই নেতার ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রলীগের এ আধিপত্যের রাজনীতি চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত টিলাগড়ে খুন হয়েছে ছাত্রলীগের আটজন কর্মী। এর মধ্যে গত এক দশকেই খুন হয়েছে ছয়জন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে টিলাগড়ে ছাত্রলীগের দুটি উপগ্রুপের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন সংগঠনের কর্মী অভিষেক দে দ্বীপ (২০)।
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের ছাত্ররাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রস্থল টিলাগড়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে টিলাগড়ে ছাত্রদল-শিবিরের প্রভাব থাকলেও গত ১০-১২ বছর ধরে এখানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দাপট প্রবল। আর ছাত্রলীগের এ দাপটের নেপথ্যে রয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিত সরকার। আজাদ ও রণজিতই মূলত টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের হর্তাকর্তা। তাদের ছত্রছায়ায় টিলাগড়ে ছাত্রলীগের অনেক গ্রুপ-উপগ্রুপ সক্রিয়। আজাদ ও রণজিত গ্রুপের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে প্রায়ই রক্তাক্ত হয় টিলাগড়। এর বাইরে রয়েছে বিভিন্ন উপগ্রুপের ত্রাসও। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে টিলাগড় এলাকার এক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সবসময় অজানা এক ভয়ের মধ্যে থাকি। ছাত্রলীগের কিছু ছেলের গু-ামি দেখেও না দেখার ভান করি। আমাদের এই এলাকা প্রায়ই অশান্ত হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যে অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে এই টিলাগড়ে। আওয়ামী লীগের দুই নেতার প্রশ্রয় না পেলে ছাত্রলীগ এখানে এত বেপরোয়া হতে পারত না।’
টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের সহিংসতা প্রসঙ্গে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সিলেট জেলা ও মহানগরে ছাত্রলীগের কমিটি নেই।
এ কারণে দলে চেইন অব কমান্ডও নেই। নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লাকেন্দ্রিক ছাত্রলীগের গ্রুপ-উপগ্রুপ গড়ে উঠেছে। এদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ছাত্রলীগের শক্তিশালী কমিটি প্রয়োজন। এছাড়া অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগকেও এ ব্যাপারে শক্ত হাতে হাল ধরতে হবে।’
