ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হওয়া ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আলমগীর। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ভোট পুনঃগণনার পর ঝুড়ি প্রতীকের এই প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন। তবে সংশোধিত ফল প্রত্যাখ্যান করে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভোটের দিন বিজয়ী ঘোষিত প্রার্থী জুবায়েদ আদেল। এ ওয়ার্ডের ফল বদলে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দায়ী করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পর ফল প্রকাশের সময়প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ‘ভুলে’ টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকের প্রার্থী জুবায়েদ আদেলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। সেদিন আদেলের টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৪৫ ভোট পড়েছে জানিয়ে তাকে
বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তখন শেখ আলমগীরের ঝুড়ি প্রতীকে দেখানো হয়েছিল ২ হাজার ২৩৫ ভোট।
ফল ঘোষণার পর শেখ আলমগীর আপত্তি জানালেও তা আমলে নেননি রিটানিং কর্মকর্তা। পরে কেন্দ্র ও রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলের কপি সংগ্রহ করে তা চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। তথ্য-প্রমাণ হাজির করায় রিটার্নিং কর্মকর্তা আগে ঘোষিত ফল বাতিল করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, ‘আরমানিটোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরুষ ভোটকেন্দ্রে ঝুড়ি প্রতীকে পড়েছিল ৪৩৯ ভোট আর ঘুড়িতে ২০২ ভোট। কিন্তু সেটি উল্টে গিয়েছিল। এতে পুরো রেজাল্টে টিফিন ক্যারিয়ারের প্রার্থী জিতে গিয়েছিলেন। পরে ঝুড়ি প্রতীকের প্রার্থী অভিযোগ দিলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা গেছে প্রার্থী ও প্রিজাইডিং অফিসারের ফলাফল ভিন্ন। আমরা বাধ্য হয়ে ফল স্থগিত করেছি, আমরা বিধি ও আইন দেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার বলেছেন, তিনি লিখতে ভুল করেছেন। তিনি ক্ষমা চেয়ে লিখিতও দিয়েছেন। ফল যাচাইয়ে আরমানিটোলার ৪৩৯ ভোট ঝুড়ি প্রতীকে যোগ করায় শেখ আলমগীরের ভোট দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৭২ ভোট, যা জুবায়েদ আদেলের (টিফিন ক্যারিয়ার) মোট ভোটের চেয়ে বেশি। এছাড়া এএম কাইয়ুম (রেডিও) ৭২৩ ভোট ও ইরোজ আহমেদ (ঘুড়ি) ১ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়েছেন। যেহেতু শেখ মোহাম্মদ আলমগীর ঝুড়ি প্রতীকে ৯টি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়েছেন, সেজন্য সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত হিসেবে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করেছি।’
তবে ইভিএমে গৃহীত ভোটের সংশোধিত ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রথমে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষিত জুবায়েদ আদেল। তিনি বলেন, ‘ইভিএমে জালিয়াতি করে আমাকে পরাজিত করানো হয়েছে। কারণ আমাকে আগে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। আমাকে কাগজও দেওয়া হয়েছে। আমি নতুন ফল মানি না। ইভিএমে যে ফলাফল পাল্টানো সম্ভব তা প্রমাণিত হলো।’ এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন জুবায়েদ আদেল।
