আকবর আলি, বাংলাদেশের যেকোনো ফরম্যাটে বিশ্বকাপের স্বাদ এনে দেওয়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক। ফাইনালে সামনে থেকে দলকে জিতিয়েছেন বিশ্বকাপ। ম্যাচসেরাও তিনি। রবিবার উৎসবপর্বের পর বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ভারতের কলকাতার দৈনিক ‘সংবাদ প্রতিদিন’কে সাক্ষাৎকার দেন। দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো
বাংলাদেশকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতানোর পর আপনার দুটো নাম হয়েছে জানেন?
আকবর : কী?
আকবর দ্য গ্রেট। আর মহেন্দ্র সিং ধোনি জুনিয়র! ২০১১ বিশ্বকাপে গোটা টুর্নামেন্টে রান পাননি ধোনি। কিন্তু ফাইনালে জিতিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। আপনার স্ক্রিপ্টও একদম অবিকল। গোটা টুর্নামেন্টে রান পাননি। কিন্তু ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ৪৩ নট আউট।
আকবর : হা হা (হাসি)। আমি সোশ্যাল মিডিয়া চেক করারই সময় পাইনি। আসলে খেলা শেষ হতে না হতেই সেলিব্রেশন শুরু হয়ে গেল। একটার পর একটা জিনিস ঘটে চলেছে। একটা কথা বললে বিশ্বাস করবেন কিনা আমরা যে ঠিক কী করে উঠেছি, এখনো ঠিকমতো বিশ্বাস হচ্ছে না। কেমন যেন ঘোরের মধ্যে আছি। মনে হয়, দেশে ফিরলে মহাত্ম্যটা বুঝতে পারব।
বিশ্বজয়ের উৎসব কেমন হলো?
আকবর : ড্রেসিংরুমে সবাই সবাইকে জড়িয়ে ধরছে। চেঁচাচ্ছে। নাচছে। গাইছে। কিছুক্ষণ আবার ফুটবল গেম খেললাম জেতার পর। এখন ডিনার করতে ঢুকলাম। আসলে কী যে চলছে, ভাষায় বোঝানো কঠিন।
ম্যাচ শেষে একটা অনভিপ্রেত ঘটনাও তো ঘটল। ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়ে গেল। এর তো কোনো দরকার ছিল না।
আকবর : ঠিকই। যা হয়েছে, খুব খারাপ হয়েছে। আসলে ভারত যখন ব্যাট করছিল, আমাদের বোলাররা ওদের কিছু কঠিন সময় উপহার দিয়েছে। আবার আমরা যখন ব্যাট করতে নেমেছি তারাও ছাড়েনি। যা হয়েছে ঠিক হয়নি। ঘটনা কে ঘটিয়েছে, ভারতের কোনো ক্রিকেটার ছিল, অত জানি না আমি। তবে আমার টিমের পক্ষ থেকে আমি নিজে পুরো ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
একটা কথা বলেন। ভারতের দেওয়া ১৭৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে আপনারা এক সময় ৬৫-৪ হয়ে গিয়েছিলেন। তখন মনে হয়নি যে এত খাটাখাটনি করেও কাপটা হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে?
আকবর : নাহ। আমি তখন ক্রিজে ছিলাম যখন ইমন (পারভেজ হোসেন) রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে বেরিয়ে গেল। স্কোর বোর্ডে বাংলাদেশ ৬৫-৪। আমি বেশি কিছু চিন্তা করিনি তখন। শুধু ভেবেছি যতক্ষণ পারব ব্যাট করে যাব। চেষ্টা করব যতদূর নিয়ে নেওয়া যায়।
আপনারা ফাইনালে ওঠার পর থেকেই বারবার বলা হচ্ছে, গত দু’বছরের পরিশ্রম এর পেছনে রয়েছে। গত দু’বছরে ঠিক কী কী হয়েছে একটু বলবেন?
আকবর : গত দু’বছর অবিশ্বাস্য গিয়েছে। প্রত্যেকের সাপোর্ট ছিল টিমটার সঙ্গে। এখানে শুধু পনেরো জনের কথা বলব না, বলব ত্রিশ জনের স্কোয়াডটার কথা, যারা প্রতিদিন একে অন্যকে তাতিয়ে যেত সেরাটা বার করে আনতে। দিনের পর দিন এটা ঘটেছে। আর আমাদের সাপোর্ট স্টাফ? ওরা একেকজন কিংবদন্তি!
পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে আপনার পার্টনারশিপটা নিয়ে একটু বলুন। পেশিতে টান ধরায় মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ইমন। কিন্তু ফিরে এসে আপনার সঙ্গে ৪১ রানের পার্টনারশিপ করে গেলেন।
আকবর : এই ইনিংস ইমনের চরিত্র বোঝায়। শুধুমাত্র স্কিল দিয়ে খেলা যায় না এ রকম ইনিংস। সাহস লাগে। মানসিক দৃঢ়তা দেখাতে হয়। আরও একজনের কথা বলব, পেসার শরিফুল ইসলাম। কী বলটাই না করল! বিশেষ করে ভারতীয় ইনিংসের ৪১তম ওভারটা। জশস্বী জসওয়ালসহ পরপর দু’বলে দুটো উইকেট তুলে নিল। ভারতকে ১৭৭ রানে অলআউট করাটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ভেবেছিলাম ২৩০ থেকে ২৪০ রান করবে ওরা (ভারত)। কিন্তু ১৭৭ অলআউট হয়ে গেল।
নিজের ইনিংসটা নিয়ে এবার কিছু বলুন।
আকবর : (হাসি) দেখুন, গোটা টুর্নামেন্টে আমি ব্যাট করার তেমন সুযোগ পাইনি। আজ ভাবলাম, হাতে প্রচুর ওভার আছে। সময় নিয়ে খেলি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা ৪৩ নট আউটের ইনিংসকে জীবনের সেরা ইনিংস মনে হচ্ছে, যা বাংলাদেশকে জিতিয়ে দিল? আপনার হাতে পুরস্কার তুলে দিল?
আকবর : এখনো পর্যন্ত জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইনিংস বলব। আজকের এই ৪৩ নট আউট আমৃত্যু মনে থাকবে।
