অমর একুশে গ্রন্থমেলায় জাল টাকার বিড়ম্বনায় পড়েছেন প্রকাশনা সংস্থাগুলোর বিক্রয়কর্মীরা। একটি চক্র মেলায় জাল টাকা দিয়ে বই কিনছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রকাশক। পেন্ডুলাম প্রকাশনীর রুম্মান তার্শফিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের স্টলে মেলার প্রথম সপ্তাহে দুটি জাল এক হাজার টাকার নোট পেয়েছি। এরপর আমাদের স্টলের সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি।’ একই রকম অভিযোগ করেছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী সুলতানা জান্নাত। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে। লোকজন এখানে এসে বই কিনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়ালেখায় সহযোগিতা করে। পাশাপাশি নিজেদের অব্যবহৃত জিনিসপত্রও দিয়ে যায়। এখানে এসেও জাল টাকার নোট দিয়ে ঠকিয়ে গেছে চক্রটি। আমাদের স্টলে যারা আছেন সবাই স্বেচ্ছাসেবী। তাই টাকা হাতে নিয়ে চিনতে পারেনি।’
এদিকে জাল টাকার চক্রটির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মীদেরও সতর্ক থাকতে হবে। জাল টাকাসহ হাতেনাতে কাউকে ধরতে পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।’ বইমেলায় অংশ নেওয়া একাধিক প্রকাশক জানিয়েছেন, এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আরেকটু সতর্ক ভূমিকা রাখা উচিত। চৈতন্য’র প্রকাশক রাজিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেলায় জাল টাকার একটি চক্র কাজ করছে। এ বিষয়ে আমাদের স্টলের বিক্রয়কর্মীদের সতর্ক করেছি।’
মূল মঞ্চ
গতকাল বুধবার বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অনুপম হায়াৎ রচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজেদুল আউয়াল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোরশেদুল ইসলাম ও মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন অনুপম হায়াৎ। সভাপতিত্ব করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
প্রাবন্ধিক বলেন, “অনুপম হায়াৎ রচিত বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধুর আমলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন ও নানা প্রসঙ্গ, চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি পথে বিচ্ছুরিত আলোর মন্তাজ’ শীর্ষক অধ্যায়-বিন্যাসে বঙ্গবন্ধুর সাংস্কৃতিক সত্তাকে পরিস্ফুট করা হয়েছে। নিষ্ঠাবান গবেষক তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে এই বিশেষ কাজটিকে পূর্ণতা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নানা সময়ে নির্মিত তথ্যচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র প্রভৃতিতে বঙ্গবন্ধুর নানামুখী উপস্থাপনের বৃত্তান্তও তিনি তুলে ধরেছেন যদিও এ বিষয়ে আরও প্রামাণ্যতার প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের একটি গ্রন্থ বঙ্গবন্ধুপ্রেমী এবং একই সঙ্গে চলচ্চিত্র-উৎসাহীজনদের কাছে প্রয়োজনীয় সংগ্রহ হিসেবেই আদৃত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
লেখক অনুপম হায়াৎ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন রাজনৈতিক বিপ্লবের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পথরেখাও নির্মাণ করতে হবে।’ সভাপতির বক্তব্যে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কেবল মহান রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সংস্কৃতিমনা। বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক আকাক্সক্ষা ও রাজনৈতিক স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মে।’ আলোচনা পর্বের পর কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন জরিনা আখতার, সাজ্জাদ শরিফ, জাহিদ মুস্তাফা ও নওশাদ জামিল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ফয়জুল্লাহ সাঈদ, মাহমুদুল হাকিম তানভীর ও আদিবা ইসমাত। সংগীত পরিবেশন করেন ফেরদৌস আরা, বশিরুজ্জামান সাব্বির, নবীন কিশোর, প্রিয়াংকা বিশ্বাস ও অনন্যা আচার্য্য। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন কাজী ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), রিচার্ড কিশোর (গিটার), মো. শফিউজ্জামান (কি-বোর্ড), মো. আমির হোসেন (অক্টোপ্যাড)।
এছাড়া ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মারুফ রায়হান, জয়দীপ দে, অরুণ কুমার বিশ্বাস ও শিমুল সালাহ্উদ্দিন।
নতুন বই
বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৫৪টি। এর মধ্যে অন্যপ্রকাশ এনেছে আরিফ মঈনুদ্দীনের কাব্যগ্রন্থ ‘দি প্রফেট’, বাংলা একাডেমি এনেছে অনুপম হায়াৎ-এর ‘বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র’, বাংলানামা থেকে ড. মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র অবিনাশী দলিল’, শিশু গ্রন্থকুটির থেকে ঝর্না দাশ পুরকায়স্থ’র ‘দীন দয়ালের হঠাৎ ম্যাজিক’, মূর্ধণ্য প্রকাশনী এনেছে সরকার আমিনের কবিতার বই ‘চোখের জলে শ্যাওলা থাকে না’, অনন্যা থেকে রকিব হাসানের গোয়েন্দা কাহিনী ‘হান্টিং লজের রহস্য’, পাঞ্জেরী থেকে পলাশ মাহবুবের ছড়ার বই ‘কুক্কুরু কু’, অন্যধারা থেকে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কবিতার বই ‘নোনা জলে বুনো সংসার’।
আজ মেলার আয়োজন
আজ বৃহস্পতিবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১২তম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেলে মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সুব্রত বড়–য়া রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুজন বড়–য়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন খালেদ হোসাইন, লুৎফর রহমান রিটন ও মনি হায়দার। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
