ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার বাউলশিল্পী টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের শরিয়ত বয়াতিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। শরিয়ত বয়াতির জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রুল জারি করে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনিরা হক মণি ও আবদুল্লাহ আল নোমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।
গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের রৌহাট্টেক পীর এ কামেল হজরত হেলাল শাহর দশম বার্ষিক মিলনমেলায় মুসলমানদের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’ আঘাত করার অভিযোগ ওঠে শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে গত ৯ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামের একটি মসজিদের ইমাম মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। এরপর শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালতে গত ২৯ জানুয়ারি জামিন নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘শরিয়ত বয়াতির প্রায় ৫২ মিনিটের সেই বক্তব্যের ভিডিওর অনুলিখন আমরা হাইকোর্টে উপস্থাপন করে বলেছি, তিনি যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা ফকির লালন সাঁই ও কবি নজরুলের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক গানের বরাত দিয়ে বলেছেন। সেখানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো কিছু নেই। কিন্তু তার বক্তব্যগুলোকে বিকৃত করে খণ্ডিত অংশ এজাহারে উপস্থাপন করে এই মামলা করা হয়েছে। তিনি (শরিয়ত বয়াতি) যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় পড়ে না। আমাদের বক্তব্য শুনে আদালত তার জামিন প্রশ্নে দুই সপ্তাহের রুল জারি করেছেন।’
