রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৮

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:৪৩ এএম

সাগরপথে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় বঙ্গোপসাগরে সেন্টমার্টিনের কাছে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্টের কর্মকর্তা এম এস ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে করা ওই মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায়

প্রধান আসামি করা হয়েছে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ার সৈয়দ আলমকে। ট্রলারডুবির ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, মানবপাচারের জন্য মালয়েশিয়াগামী ট্রলারটি পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তার অভিযোগে আটক ৮ জনের মধ্যে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের গতকাল দুপুরে কক্সবাজার আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়।

ওসি প্রদীপ বলেন, ‘পুলিশ মামলাটির তদন্তকাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি মানবপাচারের সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মানবপাচার আইনের মামলায় গ্রেপ্তার আটজন হলেন টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ার সৈয়দ আলম (২৮), ফয়েস আহমদ (৫০), সাদ্দাম হোসেন (২০), জুম্মাপাড়ার মো. রফিক (২৬), রাজারছড়ার হুমায়ুন কবির (২০), উখিয়ার বালুখালী ১০ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. ওসমান (২২), নোয়াখালিয়াপাড়ার জুম্মাপাড়া এলাকার আবদুস সালাম (৩০) এবং কচ্চপিয়া গ্রামের মো. আয়ুব (৩৫)।

এদিকে গতকাল ভোরে সেন্টমার্টিনের কাছে সাগর থেকে আরও এক রোহিঙ্গাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে তাকে টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে কোস্টগার্ড। গত মঙ্গলবার ভোরে সেন্টমার্টিনের কাছে সাগরে ডুবন্ত কোরালে ধাক্কা খেয়ে রোহিঙ্গাদের ট্রলারডুবির ঘটনায় এ নিয়ে মোট ৭৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো। এর আগে গত মঙ্গলবার স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ৪ শিশু ও ১১ নারীর লাশ উদ্ধার করেন। গতকাল বুধবার নতুন করে আর কারও লাশ পাওয়া যায়নি।

ওসি প্রদীপ কুমার দাস জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় জীবিত উদ্ধার করা ৭৩ জনকে টেকনাফ থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের পরবর্তীতে কোথায় রাখা হবে সে নির্দেশনা দেবে আদালত। পুলিশ আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে।

গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৩৮ জনকে বহনকারী ছোট ট্রলারটি ডুবন্ত কোরালের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে তলা ফেটে ডুবে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃতদেহ এবং জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭৩ জনকে। সে হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ জন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার গভীর রাতে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়া থেকে দুটি ট্রলার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর মধ্যে একটি ট্রলার ভোর পৌনে ৬টার দিকে সেন্টমার্টিন থেকে ৩-৪ নটিক্যাল মাইল পূর্ব-দক্ষিণে সাগরে দুর্ঘটনায় পড়ে ডুবতে শুরু করে। সাগরে মাছধরা জেলেদের মাধ্যমে খবর পেয়ে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও যোগ দেয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত