উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও সড়ক-মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি কীভাবে চলে সে প্রশ্ন রেখে এ বিষয়ে বিআরটিএর (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, সড়কে কোনো ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে পারবে না। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেয়। বিআরটিএ গতকাল ফিটনেসবিহীন গাড়ি নবায়ন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেয় হাইকোর্টের একই বেঞ্চে। এতে বলা হয়, হাইকোর্টের নির্দেশনা সাপেক্ষে গত বছর ২৩ অক্টোবর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ফিটনেসবিহীন প্রায় ৫ লাখ গাড়ির মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৪ গাড়ির ফিটনেস নবায়ন করা হয়েছে। তবে নবায়নের বাইরে থাকা গাড়িগুলোর বিষয়ে বিআরটিএর তরফে কোনো বক্তব্য না পেয়ে হাইকোর্ট উষ্মা প্রকাশ করে এ বিষয়ে বিআরটিএ কী ভূমিকা রাখছে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
আদালতে বিআরটিএর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, বিআরটিএ জানিয়েছে, তারা ১ লাখ ৬৫ হাজার গাড়ির ফিটনেস নবায়ন করেছে। কিন্তু বাকিগুলোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতে পারেনি। সেজন্য আদালত উষ্মা প্রকাশ করে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি সড়কে যাতে ফিটনেসবিহীন কোনো গাড়ি না চলে সে বিষয়ে বিআরটিএকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। পরবর্তী আদেশ ও শুনানির জন্য আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্ট এর আগে এক আদেশে পেট্রলপাম্প ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে ফিটনেসবিহীন কোনো গাড়িতে জ¦ালানি সরবরাহ না করতে নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের আদেশ প্রতিপালন-সংক্রান্ত পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে।’
গত বছর ২৪ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে সারা দেশে লাইসেন্স নেওয়া কিন্তু ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির পরিসংখ্যান জানতে চেয়েছিল। এরপর একই বছর ২৩ জুলাই এক আদেশে দুই মাসের মধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়িগুলো নবায়ন করার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ি যেন কোনোভাবেই সড়ক ও মহাসড়কে না চলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি করার নির্দেশ দেয় আদালত।
এর আগে গত বছর ২৩ মার্চ একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন গাড়িসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। এরপর আদালত রুলসহ আদেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল এটি শুনানিতে আসে।
