তরুণদের কান্ডে উদ্বেগ কপিল-আজহারের

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:০০ এএম

অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল শেষে ভারত ও বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে হওয়া বাজে ঘটনা আলোচনার ঝড় তুলেছে ক্রিকেট বিশ্বে। এই পর্যায়ের ক্রিকেটে এমন আগ্রাসী ও অভব্য আচরণ মানতে পারছেন না কেউই। ইতিমধ্যে ঘটনা তদন্ত করে নিয়ম অনুযায়ী দুই দলের পাঁচ ক্রিকেটারকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে আইসিসি। কিন্তু সাবেক ক্রিকেটাররা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এখনই এ ব্যাপারে বড় পদক্ষেপ দেখতে চান। ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটকে দাগ লাগানোর জন্য সমালোচনা করেছেন সাবেক ভারত গ্রেট আজহারউদ্দিন ও কপিল দেব। সামনে যেন আর এমন ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে আইসিসিকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কপিল দেব অবশ্য ক্রিকেটারদের আগ্রাসী মনোভাবের বিপক্ষে নন। তার মতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এটা ভালো। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার পক্ষে নন তিনি। এ ব্যাপারে আরও সচেতনতা চান সাবেক এই অলরাউন্ডার। টুইটারে যুব বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘটনার ব্যাপারে কপিল জানান, ‘আগ্রাসনকে আমি স্বাগত জানাই। এতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু আগ্রাসনকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম তুলে আপনি ভদ্রতার মাত্রা অতিক্রম করতে পারেন না। আমার মতে, তরুণ ক্রিকেটাররা ক্রিকেট মাঠে এমন ঘৃণিত আচরণ করবে এটা একদমই অগ্রহণযোগ্য।’

ভারতের অপর সাবেক অধিনায়ক আজহারউদ্দিন রবিবারের ঘটনায় কোচিং বা সাপোর্ট স্টাফদের দোষ দেখছেন। অভিষেক থেকে টেস্টে টানা তিন সেঞ্চুরির একমাত্র রেকর্ডধারী প্রশ্ন রেখেছেন- যুব ক্রিকেটারদের আচরণের ব্যাপারে সঠিক শিক্ষা দেওয়া হয়নি কেন? ক্রিকেটারদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি সাপোর্টি স্টাফরা কী করেছেন সেটাও জানতে চাইছেন তিনি। আজহারউদ্দিনও এ ব্যাপারে টুইটারে নিজের মন্তব্য দেন এভাবে, ‘অপরিণত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের ওপর আমিও ব্যবস্থা নিতাম পাশাপাশি ওদের মাঠে উত্তেজনার মুহূর্তে সঠিক আচরণের ব্যাপারে তাদের সাপোর্ট স্টাফরা কী শিক্ষা দিয়েছে সেটাও জানতে চাইতাম। এ ব্যাপারে দেরি হওয়ার আগে কিছু করতে হবে। ক্রিকেটারদের অবশ্যই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসতে হবে।’ 

রবিবার ফাইনালে বাংলাদেশের রাকিবুল হাসান জয়সূচক রানটি নেওয়ার পর উল্লাসে মাতেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। এ সময়ে মাঠে থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি, এমনকি ধাক্কাধাক্কিও হয়। এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক আকবর আলী। কিন্তু তার ক্ষমা প্রার্থনাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। পুরো ঘটনা নিয়ে গত পরশু তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন আইসিসির ম্যাচ রেফারি গ্রাহাম ল্যাব্রয়। সে অনুযায়ী শাস্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের তৌহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন আর জয়ের রান এনে দেওয়া রকিবুল হাসান। ভারতের আকাশ সিং ও রবি বিষ্ণয়কেও আইসিসির আচরণবিধির ২.২১ ধারা ভাঙায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিষ্ণয়ের ক্ষেত্রে ধারা ২.৫ ভাঙার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। তৃতীয় মাত্রার শাস্তি হওয়ায় সবাইকে কড়া শাস্তিই দেওয়া হয়েছে। আগামী দুবছর এই ৫ খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটে ১০, ৮ ও ৫ ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত