মেলায় বসন্তের ছোঁয়া

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৪৫ এএম

ক্যালেন্ডারের পাতায় বদলে গেছে বাংলা বর্ষপঞ্জি। এবার এক দিন পিছিয়ে হবে বাংলা পয়লা ফাল্গুন। এ তথ্যটা জানা ছিল না মিরপুরের বাসিন্দা জহিরুল ইসলামের। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বইমেলায় এসেছিলেন তিনি। বললেন, ‘বসন্ত উদযাপন করতেই আসা। কিন্তু বইমেলায় এসে জেনেছি, এবার পয়লা ফাল্গুন এক দিন পিছিয়েছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে অন্যপ্রকাশের স্টলের সামনে কথা হচ্ছিল এই দম্পতির সঙ্গে। বইমেলায় আসার জন্য জহিরুলের স্ত্রী সেজেছিলেন হলুদ শাড়িতে। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আমরা বসন্ত উদযাপন করতেই বেরিয়েছি। এবার আমাদের বসন্তই উদযাপিত হয়নি।’

গতকাল বইমেলায় ঘুরে দেখা যায় বসন্তের আমেজ। বাসন্তী রঙের শাড়িতে এসেছিলেন মেয়েরা। কারও মাথায় ছিল ফুলের টায়রা। তরুণরাও এসেছিলেন পাঞ্জাবি পরে। হাতে হাত রেখে ঘুরতে দেখা গেছে অনেক যুগলকে। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ শুক্রবার পয়লা ফাল্গুন হলেও বইমেলায় বসন্ত এসে গেছে গতকালই। আজ শুক্রবার যেন বসন্তের আনুষ্ঠানিক উদযাপন দ্বিগুণ আনন্দ জোগাবে বইপ্রেমীদের। পয়লা  ফাল্গুনের দিনটিতে বইমেলা প্রাঙ্গণ বাসন্তী রঙে ছেয়ে যাবে বলেই মনে করছেন প্রকাশকেরা। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছরই বইমেলায় বসন্ত, ভালোবাসা দিবস ঘিরে আমাদের নানা রকম প্রস্তুতি থাকে। এবার ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উৎসব একই দিনে পড়েছে। পাশাপাশি দিনটি শুক্রবার হওয়ায় মেলায় জনসমুদ্র হবে বলেই মনে হচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, লোকজনের ভিড় বেশি হলে বই বিক্রি কম হয়। ভিড় ঠেলে কেউ বই কিনতে চান না। আমার ধারণা আজ বসন্তের দিনে বই বিক্রি তুলনামূলক কমই হবে। তবে মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হবে বইমেলা। এ জনসমুদ্র বইমেলাকে অন্য মাত্রা দেবে।’

শুক্রবার বসন্ত উৎসব ঘিরে প্রকাশকেরা নতুন বই মেলায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একাধিক প্রকাশক জানিয়েছেন, নতুন উপন্যাস, কবিতার বই প্রকাশ হবে পয়লা ফাল্গুনে। কোনো কোনো স্টলে বইপ্রেমীদের হাতে ভালোবাসার প্রতীক গোলাপ ফুল তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, বসন্ত উৎসবে বইমেলায় প্রতিবারই নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি থাকে। বইপ্রেমীরা যেন নির্বিঘেœ মেলায় ঘুরে বেড়াতে পারেন তার জন্য আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতি রয়েছে।

 

মূল মঞ্চ

বৃহস্পতিবার বইমেলার মূল মঞ্চে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় সুব্রত বড়–য়া রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন বড়য়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লুৎফর রহমান রিটন ও মনি হায়দার। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন সুব্রত বড়য়া। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। আলোচনা পর্বের পর কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন মাহবুব সাদিক, শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, মুনীর সিরাজ ও মাসুদ হাসান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মো. শাহাদাৎ হোসেন, অনিমেষ কর ও তামান্না সারোয়ার নীপা। নৃত্য পরিবেশন করেন জলতরঙ্গ ডান্স কোম্পানীর নৃত্য শিল্পীরা। সংগীত পরিবেশন করেন দিনাত জাহান মুন্নী, আঞ্জুমান আরা শিমুল, কাজী মুয়ী শাহরিয়ার সিরাজ জয়, মো. রেজওয়ানুল হক ও সঞ্জয় কুমার দাস। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন পলাশ (পারকেশন), টুটুল বড়য়া (বেইজ গিটার), এমিল মুরছালিন (গিটার), মো. জাহিদুর রহমান (কি-বোর্ড) ও পলাশ চক্রবর্তী (অক্টোপ্যাড)।

এ ছাড়া বিকেলে ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, মৌলি আজাদ, রাসেল আশেকী ও শোয়েব সর্বনাম।  

নতুন বই

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মেলায় নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ১৮০টি। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত সুব্রত বড়–য়ার ‘বঙ্গবন্ধুর জীবন কথা’, অনন্যা এনেছে আনিসুল হকের ‘কবিতাসমগ্র’, একই প্রকাশনী থেকে রকিব হাসানের গোয়েন্দা কাহিনি ‘শয়তানের বাঁশি’, অন্যধারা প্রকাশ করেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কবিতার বই ‘আমার একজনই বন্ধু’, আদর্শ এনেছে জাকির তালুকদারের উপন্যাস ‘হাঁটতে থাকা মানুষের ল’, কথাপ্রকাশ এনেছে আনজীর লিটনের প্রবন্ধ ‘গদ্যের ধারাপাত’, নালন্দা এনেছে সুধাংশু শেখর বিশ^াসের ভ্রমণগল্প ‘মস্কোর ঘণ্টা’, সময় প্রকাশন এনেছে প্রসূন রায়ের ‘রাশিয়ার পরিব্রাজক প্রথম খণ্ড’ প্রভৃতি।

আজ শুক্রবার বইমেলার আয়োজন

আজ শুক্রবার বইমেলার ১৩তম দিন। মেলার দ্বার খুলে যাবে বেলা ১১টায়। দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুপ্রহর। মেলা চলবে টানা রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১০টায় শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আসাদ চৌধুরী রচিত ‘সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শোয়াইব জিবরান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আনিসুর রহমান ও নূরুন্নাহার মুক্তা। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক খুরশীদা বেগম। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত