ফোন পাওয়ার দাবি কাদেরের ফখরুলের না

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:৫২ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টেলিফোনে তার সঙ্গে দলটির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে বিএনপি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কোনো আবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মির্জা ফখরুল। সন্ধ্যায় তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব স্বভাবসুলভ অসত্য কথা বলেছেন।’ রাজধানীর

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আমার সঙ্গে টেলিফোনে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের এই আবেদনটা জানাতে বলেছেন, মৌখিকভাবে। আমি সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। আমি এটুকু বলতে পারি, এ ছাড়া কোনো লেনদেন বা এ নিয়ে কোনো কথাবার্তা এসব আমাদের হয়নি। তলে তলে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে, কালকে টক শোতে শুনলাম, আমার মনে হয়, বাস্তবে বিষয়টা তেমন কিছু নয়।’  

তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়টি তারা আবেদন করতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। তবে তারা কী কী কারণে প্যারোলে মুক্তি চান সে বিষয়টা উল্লেখ করে লিখিতভাবে কোনো আবেদন এখনো করেননি। আইনমন্ত্রীর সঙ্গেও আমি কথা বলেছি। কিন্তু তারা বিচ্ছিন্নভাবে পরিবারের লোকজন ও দলের লোকজন, বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে কথা বলছেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিক কোনো আবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত পাননি। তারা মুখে বলছেন, তারা মুক্তি চান আবেদন করবেন, কিন্তু আবেদনটা লিখিতভাবে আসেনি। গতকাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা আইনমন্ত্রী কেউই বলেননি যে বিএনপি কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো আবেদন পেয়েছেন।’

খালেদা জিয়ার দল কিংবা পরিবার যদি আবেদন করে তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ‘যদিটা পরে দেখা যাবে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, প্যারোলের আবেদনের সঙ্গে বিষয়টার মিল আছে কি না, এটা খতিয়ে দেখা। তাদের আবেদন খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য যুক্তিযুক্ত কি না, এ বিষয়টা অবশ্যই দেখা হবে। যেহেতু খালেদা জিয়াকে আদালত দোষী করেছে, কাজেই মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টটা আদালতের কাছেই যেতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি আগে থেকেই বলে আসছি, বেগম জিয়ার এই মামলাটি রাজনৈতিক মামলা নয়। সরকারের বিবেচনার বিষয়টা তখনই আসে, যখন বিষয়টি রাজনৈতিক বিবেচনার হয়। বেগম জিয়ার এই মামলাটি হচ্ছে দুর্নীতির। দুর্নীতির মামলা এখন সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ার।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে অমানবিক কোনো কিছু সরকার করতে পারে না। তার যথাযথ চিকিৎসার বিষয়টি অবশ্যই সরকার মাথায় রাখে। তবে একটা বিষয় হচ্ছে, তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টা তার দলের লোকেরা যেভাবে বলেন, চিকিৎসকরা কিন্তু সেভাবে বলছেন না। চিকিৎসকরা চিকিৎসার ব্যাপারে রিপোর্ট দেবেন।’

বিএনপি একদিকে বলছে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে, আরেক দিকে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করছে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তাদের দ্বিচারিতা।’

মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সরকারের মধ্যে কাজের সুবিধার জন্য সময়ে সময়ে মন্ত্রিসভায় রদবদল করতে পারেন, কারও দায়িত্বের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। তারা কেউ তো বাদ যায়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি অস্বীকার করে মির্জা ফখরুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব স্বভাবসুলভ অসত্য কথা বলেছেন। আমি যে তাকে ফোন করেছি তা কে শুনেছে?’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান, কখন তাকে ফোন করা হয়েছে, কে শুনেছে তার কথা?’ 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত