আলোহা বাংলাদেশের আয়োজনে শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় পর্যায়ের অ্যাবাকাস ও মেন্টাল অ্যারিথমেটিক প্রতিযোগিতা।
প্রতিযোগিতায় দেশের ছয় শর বেশি স্কুল থেকে ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী এবং ভারতের আলোহার ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে আলোহা বাংলাদেশ।
শিশুরা কত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সমাধানে পৌঁছাতে পারে তা পরীক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিযোগিতাটি আয়োজিত হয়। প্রতিযোগিয় অংশগ্রহণকারীদের পাঁচ মিনিটের মধ্যে ৭০টি জটিল গাণিতিক সমাধান করতে বলা হয়।
আয়োজনের প্রথম পর্ব জাতীয় সংঙ্গীতের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পেটরু বোগদান স্ট্যান, হেড অফ আলোহা অ্যায়ারল্যান্ড।
এরপর শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানোর পর শুরু হয় পরীক্ষা। মোট মাট চার ব্যাচে প্রায় ৩৫০০ হাজার শিক্ষার্থী এ ম্যাথ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
এদিন বিকেলে দ্বিতীয় পর্বে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় আলোহা বাংলাদেশের থিম সং দিয়ে। থিম সং পরিবেশনা করেন ক্ষুদে গানরাজের শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পেটরু বোগদান স্ট্যান, হেড অফ আলোহা অ্যায়ারল্যান্ড, আলোহা ত্রিপুরা হেড মি. রনবীর রায়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আলোহা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জনাব সাইফুল করিম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আলোহা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হায়দার চৌধুরী এবং মো. শামসুদ্দিন টিপু, ডিরেক্টর আলোহা বাংলাদেশ।
স্বাগত বক্তব্যে আলোহা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘মস্তিষ্কের মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আলোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিক মালয়েশিয়া থেকে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে আলোহা বাংলাদেশ। আমরা লক্ষ্য করছি প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অয়শগ্রহণ করে। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য ফলাফল করছে। শুধু তাই নয় আলোহার শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে নানাধরণের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে এবং বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করছে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হেড অফ আলোহা অ্যায়ারল্যান্ড বোগদান স্ট্যান বলেন, ‘আমরা চাই পুরো পৃথিবীজুড়ে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তার সৃষ্টিশীল বিকাশ ঘটুক। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতি বছর বাংলাদেশের এত ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণ আমাকে বিস্মিত করে, অনুপ্রাণিত করে। আমরা চাই এ মেধাবী মুখগুলো ভবিষ্যতে দেশের উন্নতিতে অংশগ্রহণ করুক।’
শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর অতিথিদের শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেয়া হয়। এরপর আলোহা কোয়ালিফাইড শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। শেষে ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মাঝে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন আলোহার শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য জাতীয় পর্যায়ে উন্নিত শিক্ষার্থীরা এ বছরের জুলাইয়ে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।
অনুষ্ঠান সহযোগী হিসেবে ছিল এ্যালপেনলিবে, হাইজিন পার্টনার হোয়াইট প্লাস কিডস্, হেলথ কেয়ার পার্টনার ই.ডাব্লিউ. ভিলা মেডিকা ও ডিএমএফআর মলিকুল্যার ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক।
ইভেন্ট এ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক পার্টনার হিসেবে ছিল ভিমরুল কমিউনিকেশন লিমিটেড।
