রাজধানীর মাতুয়াইলের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় চিকিৎসক মোবারক হোসেনের (৩৩) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে মোবারকের বড়ভাই মো. রুহুল আমিন ডেমরা থানায় ওই হাসপাতালের পরিচালক মো. জামাল হোসেন (৫২) ও মালিক মো. আক্তার হোসেন মামুনকে (৩৯) আসামি করে এ মামলা করেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে হাসপাতালের পরিচালক জামালের কক্ষ থেকে চিকিৎসক মোবারকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, মোবারককে হত্যা করা হয়েছে। মিটফোর্ড হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শনিবার আসরের পর গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন থানার ধলিকুর নগর গ্রামে দাফন করা হয়। মোবারক নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড মোড় এলাকার প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল লিমিটেডে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মোবারকের চাচাতো ভাই ইউসুফ আহম্মেদ রাসেল বলেন, ‘মোবারকের কোমর, গলাসহ সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার পরও পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদনে সেটি উল্লেখ করেনি। পুলিশ প্রথম থেকেই এটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন।’ শ্যালক রনি বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালকের পরিচিত একজনের কাছে চার লাখ টাকা পেত মোবারক ভাই। সেই টাকা নিয়ে আলোচনার জন্য পরিচালকই ডেকে নেন ওই রুমে। পরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গলায় তোয়ালে পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন।’
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন ডেমরা থানার এসআই শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘দু’বার সুরতহাল প্রতিবেদন পরিবর্তন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় যখন প্রতিবেদন তৈরি করি তখন শরীরে দাগ ছিল না। পরে হয়তো রক্ত জমে গেছে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালকসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে গাঢাকা দিয়েছেন আসামিরা। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।’ ডেমরা থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। মোবারকের দুই পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও জানান তিনি।
