জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানভীন সুইটি। প্রায় তিন দশক ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। কাজ করেছেন থিয়েটার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে। এখন ছোটপর্দা ও মঞ্চ নিয়েই বেশি ব্যস্ততা। সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
অভিনয় নিয়েই ব্যস্ততা...
মাঝে অভিনয় কমিয়ে দিয়েছিলাম। এখন আমাকে নিয়মিত ছোটপর্দায় দেখা যাচ্ছে। এখন নিয়ম করে দুটি ধারাবাহিক নাটকের শ্যুটিং করছি। দীপ্ত টিভিতে প্রচার হচ্ছে আমার অভিনীত ও সাজ্জাদ হোসেন দোদুল পরিচালিত ‘ভালোবাসার আলো আঁধার’ শিরোনামের একটি নাটক। এতে আমি একজন আইনজীবীর চরিত্রে কাজ করছি। এতে আরও যারা অভিনয় করছেন সবাই যার যার জায়গা থেকে সুপরিচিত। যখন একটি সেটে পরিচিত শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাই তখন সময়টা ভালো কাটে। অভিনয়ের মানও ভালো হয়। নাটকটি দর্শক পছন্দ করছে বুঝতে পারি যখন বাইরে গেলে কেউ এটা নিয়ে জানতে চায় তখন। এছাড়া বিটিভিতে প্রচার হচ্ছে ‘কালের যাত্রা’ নামের একটি নাটক। এটি পরিচালনা করেছেন আকরাম খান। থিয়েটার পাগল মানুষের গল্প নিয়ে এই ধারাবাহিকটি এগিয়ে যাচ্ছে। আমি এতে চঞ্চল চৌধুরীর স্ত্রীর চরিত্র করছি। চঞ্চল থিয়েটার নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।
মঞ্চে নতুন নাটক...
অভিনয় শুধু আমার পেশা নয়, প্যাশনও বলতে পারেন। তাই অভিনয় থেকে দূরে থাকাটা আমার জন্য কষ্টকর। বিশেষ করে মঞ্চ থেকে চাইলেও দূরে যেতে পারব না। অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শোবিজ ও মঞ্চ দুটোকেই মেইনটেইন করে কাজ করছি। আমি থিয়েটারের (বেইলি রোড) সঙ্গে জড়িত। আবারও দলের নতুন নাটকের মহড়া করছি। নির্দেশনা দিচ্ছেন রামেন্দু মজুমদার। সহযোগী নির্দেশক হিসেবে আছেন ত্রপা মজুমদার। নাটকটির নাম ‘যামিনী না যেতে’। এপ্রিলে মঞ্চে আসবে নাটকটি।
অভিনয়শিল্পীর জীবন...
অভিনয়শিল্পী হওয়া খুব কঠিন একটি কাজ। নিয়মিত চর্চার দরকার হয়। একজন ভালো অভিনয়শিল্পীর উচ্চারণ ঠিক হতে হবে। এছাড়া সময়জ্ঞান, ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং জ্যেষ্ঠদের সম্মান করার মতো কিছু গুণ থাকতে হবে। ডেডিকেশন এবং সম্মান যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিনয়শিল্পীদের জীবন সাধারণ মানুষদের মতোই। অভিনয় আমাদের কাজ। এর বাইরে কিন্তু আমরা আর পাঁচজন নারীর মতো ঘরবাড়ি পরিষ্কার করি, খাবার রান্না করি, পরিবারের দেখভাল করি। বাইরে বের হলে যারা কাছে এসে ছবি তোলে বা অটোগ্রাফ নেয়, তারা আমাদের একটু ভিন্ন মানুষ মনে করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা...
নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা করিনি। শুধু এটুকু বলতে পারি, আমৃত্যু অভিনয় করতে চাই। মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, সাধ্যমতো মানুষকে সাহায্য করতে চাই। মানুষ বড় কিছু হলে সমাজের প্রতি তার দায়িত্বও বেড়ে যায়। তাই সমাজ ও অভিনয়শিল্পীদের জন্য কিছু করতে চাই। এক কথায় ভালো মানুষ হতে চাই।
আমরাই সংগঠন...
শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। কিন্তু তা কোনো সংগঠনের আওতায় করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আমরা শিল্পীরাই তো এক একটি সংগঠন। আমরা চাইলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা থেকে শুরু করে সামাজিক উন্নয়নমূলক নানা কাজ করতে পারি। আমি সেই চিন্তাধারা নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।
