কম্বোডিয়ার তৈরি পোশাক পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এতে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়বে বলে মনে করছেন কম্বোডিয়ার রপ্তানিকারকরা। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরাও মনে করছেন যে, এ ঘটনায় ইইউতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে। তবে এ সুযোগ পেতে হলে কম্বোডিয়ার মতো বাংলাদেশকেও কমদামের পোশাক রপ্তানি করতে হবে।
কম্বোডিয়ার পত্রিকা খেমের টাইমস বলছে, ইইউতে একই ধরনের পোশাক পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া। তবে জিএসপি সুবিধা স্থগিতের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়বে। এতে ক্রেতারা কম্বোডিয়া ছেড়ে অন্য দেশগুলো থেকে পোশাক পণ্য আমদানিতে আগ্রহী হবে বলে জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা। স্থগিতাদেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুবিধা পেলেও উচ্চমূল্য সংযোজন পণ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ভিয়েতনাম।
কম্বোডিয়ার গণতন্ত্র, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও আইনের শাসনের অবক্ষয়ের কারণে গত সপ্তাহে কম্বোডিয়ার জিএসপি সুবিধা আংশিক স্থগিত করেছে ইইউ।
জিএসপি সুবিধার আওতায় ইইউর বাজারে বছরে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি করে বিশে^র দ্বিতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ। তবে এ স্থগিতাদেশে বাংলাদেশ খুব বেশি সুবিধা পাবে না বলে মনে করছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে কম্বোডিয়া থেকে ৪৩৩ কোটি ডলারের ২০৭ রকম পোশাক আমদানি করেছে ইইউ। ২০৭ ধরনের পোশাকের মধ্যে ৪৬টিতে জিএসপি সুবিধা পায় দেশটি। ২০১৮ সালে ৯২ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের ৪৬টি পণ্য আমদানি করেছিল ইইউ। অর্থাৎ ইইউর ২০ শতাংশ পোশাক আমদানিতে এ স্থগিতাদেশের প্রভাব পড়বে। তাই বাংলাদেশের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কম্বোডিয়ার জিএসপি সুবিধা স্থগিতের কারণে বাংলাদেশ খুব বেশি সুবিধা পাবে বলে মনে হয় না। কারণ কম্বোডিয়া খুব কম পোশাক ইইউতে রপ্তানি করে। ফলে কম্বোডিয়ার জায়গা দখল করলেও এতে বাজার খুব একটা বড় হবে না।
তিনি বলেন, কম্বোডিয়ার চেয়ে ভিয়েতনামের ইস্যুটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করে ফেলেছে। এতে তারা বড় বাণিজ্য সুবিধা পাবে। কম দামে পণ্য রপ্তানি করতে পারবে, যা বাংলাদেশের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং ।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে এ বিষয়ে বলেন, কম্বোডিয়ার জিএসপি সুবিধায় স্থগিতাদেশে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের কম মূল্যের পণ্যে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ স্থগিতাদেশে বেশি লাভবান হবে ভিয়েতনাম। কারণ বেশি দামের পণ্য নিয়ে কাজ করে না বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, কম্বোডিয়ার জিএসপি সুবিধা স্থগিত হতে পারে- কয়েক মাস ধরেই আশঙ্কা করছিলেন ইইউর ক্রেতারা। এ কারণে তারা প্রস্তুতি হিসেবে আগে থেকেই পোশাক ক্রয়ে বাংলাদেশের প্রতি ঝুঁকেছেন। এতে বেশ কিছু অর্ডার এরই মধ্যে পেয়েছেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা।
