ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে খোলা আকাশের নিচে শপথ নিয়েছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গতকাল রবিবার শপথ অনুষ্ঠানে কেজরিওয়ালের সঙ্গে তার সরকারের ছয় মন্ত্রীও শপথ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া কেজরিওয়ালের সঙ্গে মনীশ শিশোদিয়া, সত্যেন্দ্রর জৈন, গোপাল রাই, কৈলাস গেলহত, ইমরান হুসেইন ও রাজেন্দ্র গৌতম মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি আসেননি। মোদি নিজের নির্বাচনী আসন বারানসি সফরে গেছেন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে।
শপথ গ্রহণের পর দেওয়া ভাষণে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল বলেন, ‘পার্টির সংশ্লিষ্টতা যে কারও জন্য কাজ করার পথে কখনোই বাধা হয়নি। নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে। যাকেই ভোট দিয়ে থাকুন না কেন আপনি আমার পরিবারেরই অংশ। পার্টি পরিচয় কখনোই আমাকে কোনো কাজে বাধা দিতে পারেনি।’
বিনামূল্যে জনগণের কাছে বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দিয়েই বাজিমাত করেছেন কেজরিওয়াল, বিরোধীদের এমন সমালোচনার জবাবে কেজরিওয়াল বলেন, ‘পৃথিবীতে যা কিছু অমূল্য, ভগবান তা বিনামূল্যেই দিয়েছেন। সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেব কেন? হাসপাতালে বিনামূল্যে কেন চিকিৎসা পাবে না মানুষ? কেজরিওয়াল দিল্লিবাসীকে ভালোবাসেন, দিল্লিবাসীও কেজরিওয়ালকে ভালোবাসেন, এই ভালোবাসার কোনো মূল্য হয় না।’
অনুষ্ঠানে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কেজরিওয়াল বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারের সময় আমার বিরুদ্ধে আপনারা যা বলেছেন তা আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি অনুরোধ করব আপনারাও নেতিবাচক বিষয়গুলো ভুলে যাবেন। দিল্লির এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমরা কেন্দ্রের সঙ্গেও কাজ করব।’
দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন এএপি ৭০ আসনের মধ্যে ৬২টি আসন জিতে নেয়। বাকি আটটি আসন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি পায়। এই জয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো দিল্লির ক্ষমতায় আসেন কেজরিওয়াল।
তার এই শপথ অনুষ্ঠানে দিল্লি থেকে নির্বাচিত লোকসভার বিজেপি দলীয় আট সদস্য ও দিল্লি বিধানসভার নবনির্বাচিত আট বিজেপি বিধায়ককেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ভারতের কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই অনুষ্ঠানকে ‘নির্দিষ্টভাবে দিল্লি’ সংক্রান্ত বলে ঘোষণা করেছেন বিশ্লেষকরা।
