বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে সৎ ও ‘কাঠঠোকরা’ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে গতকাল বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত ‘ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট-উত্তরণের’ শীর্ষক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্ব পালনের সময় বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) পুরো পরিচালনা পর্ষদকে অপসারণের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, গভর্নর পদে আরও শক্ত লোক প্রয়োজন।
বেসরকারি খাতের ফারমার্স বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে পদচ্যুত না করে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। তাকে অপসারণ করা হলো না কেন? বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান এক দিন আগে পদত্যাগ করেছেন, তাকে পদচ্যুত করা হলো না কেন?
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আরও বলেন, পৃথিবীর সব দেশে খুবই কাঠঠোকরা লোককে গভর্নর করা হয়। ওরা তো কারও সঙ্গে চললে অসুবিধা। সে জন্যই আমি বলব বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের টার্ম শেষ হয়ে আসছে, এবার একটা কাঠঠোকরা লোক দেন।
এ সময় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ইব্রাহিম খালেদ বলেন, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকাকালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। সে সময় ইউসিবির চেয়ারম্যান মামুনসহ ব্যাংকের পুরো বোর্ডকে বরখাস্ত করেছিলাম। প্রশ্নের মুখোমুখি যে হইনি তা নয়, আমরা বোর্ডকে বুঝিয়েছি। আমরা তো আওয়ামী লীগ করার জন্য দায়িত্ব নিইনি।
‘আপনারা আমাদের বসিয়েছেন আইন করার জন্য। আমরা কোড চেঞ্জ করিনি, করেছি তো করেছিই। আবার নির্বাচিত হয়ে এলে সমস্যা নেই। বলেছি ঘোর আপত্তি আছে। তাহলে আমরাও থাকব না আপনারাও থাকবেন না।’
তিনি বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত খেলাপি করে অনেকেই মওকুফ পেয়ে গেছেন। এরা কারা? গরিব মানুষ তো ঋণই পায় না। এদের মাফ করে দেওয়ার অর্থ হলো সরকার ও রাষ্ট্র খেলাপিবান্ধব। দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের সার্কুলার জারি করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাধ্য হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংককে বলা হচ্ছিল, আমি তখন ছিলাম।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, ঢাবি উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ।
