সাভারের আশুলিয়ায় পাঠাওয়ের মোটরসাইকেলচালক শামীম বেপারি বাবুকে (২৮) হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে র্যাব। তারা হলো মামুনুর রশিদ (২২), মাহবুবুর রহমান (২০) ও মোমিন মিয়া (২০)। র্যাব বলছে, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার রূপায়ণ মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে রক্তমাখা প্যান্ট ও ছিনতাইকারী চক্রের চারটি মোবাইল ফোন ও নিহত শামীমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। শামীমের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা যায়নি।
স্বজনরা জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার রামপুরা ফরাজি হাসপাতালের সামনে থেকে যাত্রী নিয়ে মোহাম্মদপুরে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন শামীম। গভীর রাতেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরদিন বেলা ১১টার দিকে টেলিভিশনে আশুলিয়ায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার খবর দেখেন তারা। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
গতকাল দুপুরে র্যাব-১-এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা দিনের বেলায় নামমাত্র বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও রাত হলেই তারা ভয়ংকর হয়ে উঠত। অধিকাংশ সময় ছিনতাই শেষে ভিকটিমকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যখম করে নিরাপদে ফিরে যেত তারা। এভাবেই শামীমকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করে তারা। গ্রেপ্তারকৃতরা আরও তিনটি ছিনতাইয়ে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। র্যাব কর্মকর্তা বুলবুল জানান, নিহত শামীম বেপারির স্ত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের অর্থ উপার্জনক্ষম ছিলেন শামীমই। তিনি রাজশাহীর বাঘা থানাধীন চৌমুধিয়া গ্রামের শাহিন বেপারির ছেলে। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে শামীম সবার ছোট। তিনি খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া মধ্যপাড়ায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করেছেন। সচ্ছলতার আশায় মোটরসাইকেল কিনে পাঠাও অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করতেন। শাফী উল্লাহ বুলবুল আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সাধারণ ছিনতাইকারীদের মতো টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি ছিনতাই করত না। তারা শুধু মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহন ছিনতাই করে। তারা সাধারণ যাত্রীবেশে আবার কখনো বিয়ের জন্য গাড়ি ভাড়া করার কথা বলে ছিনতাই করে। তাদের দলনেতা মামুনুর রশিদ। সে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, আগে গার্মেন্টসে কাজ করত। তবে ৫ বছর ধরে ছিনতাইয়ে জড়িত। ঘটনার আগের দিন রাতে তারা শামীমের মোটরসাইকেলে করে গাবতলী থেকে আশুলিয়া যায়। ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে ফের শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটরসাইকেলে গাবতলী থেকে আশুলিয়ায় পৌঁছে দিতে বলে। রাত ৮টার দিকে গাবতলী থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় আশুলিয়ার উদ্দেশে রওনা করেন শামীম। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার কাঠগড়া পালোয়ানপাড়া পৌঁছালে মামুন সিগারেট খাওয়ার কথা বলে শামীমকে থামায় এবং তাকে কৌশলে রাস্তার পাশে বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় সেখানে ওত পেতে থাকা মাহবুব ও মোমিন শামীমের ওপর হঠাৎ আক্রমণ করে। একপর্যায়ে গলা কেটে হত্যার পর মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। মাহবুবুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, জামগড়া এলাকায় তার চায়ের দোকান আছে। তার চায়ের দোকানে বসেই ছিনতাইয়ের সব ধরনের পরিকল্পনা হয়। ঘটনার দিন শামীমের গলায় প্রথমে ছুরি দিয়ে সে আঘাত করে। এ সময় অন্য আসামিরা শামীমকে হাত-পা চেপে ধরে। গ্রেপ্তার মোমিন মিয়া জানায়, সে গার্মেন্টসকর্মী ছিল। প্রায় ১১ বছর ধরে আশুলিয়া এলাকায় থাকে। সে এই চক্রের হয়ে ছিনতাইকৃত গাড়ি বিক্রির কাজ করে।
