করোনাভাইরাসের প্রভাব

চীনা অর্থায়নের প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করবে সরকার

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৩১ পিএম

চীনে মারাত্মক আকার নেওয়া করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে। মেগা প্রকল্প ছাড়াও সরাসরি চীনা ঋণ, চীনা ঠিকাদারি ও সে দেশের  লোকবল কাজ করছে এ রকম সব প্রকল্পেই এই স্থবিরতা চলছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে চীনা অর্থায়নের প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করবে সরকার। 

গতকাল বুধবার এক কর্মশালায় এই বার্তা দিয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা। ‘স্বল্পোন্নত দেশের  (এলডিসি) কাতার থেকে টেকসই উত্তরণে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নাজিয়া সালমা কনফারেন্স হলে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইআরডির বিদায়ী সচিব মনোয়ার আহম্মেদ। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট  ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) জন্য এই কর্মশালার আয়োজন করে ইআরডি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, ইআরডির যুগ্ম সচিব আবদুল বাকি, ডিজেএফবির সভাপতি হুমায়ুন কবীর, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিই (এডিপি) মূল উন্নয়ন বাজেট। আমাদের সরকার প্রধানের (প্রধানমন্ত্রী) নিবিড় তদারকির কারণে ৬২ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড  বৈদেশিক সহায়তা এসেছে। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অর্থ ব্যয় কাক্সিক্ষত হয়নি। কাক্সিক্ষত হলে এ সহায়তা আরও বাড়ত।

এ সময় ইআরডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চীনের সঙ্গে আগে করা চুক্তি অনুযায়ী ঋণের সুদ-আসল পরিশোধের দায় রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে একদিকে নির্মাণ ব্যয় বাড়ে। অন্যদিকে প্রকল্প থেকে সেবা সুবিধা পাওয়া না গেলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। অথচ প্রকল্পের স্থবিরতার জন্য বাংলাদেশ কোনোভাবে দায়ী নয়। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে টেকসই উত্তরণে অংশীদারিত্ব প্রকল্পের পরিচালক এবং ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম কর্মশালায় বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে চীনা প্রকল্পের চুক্তি পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, চুক্তি সইয়ের শর্তেই পর্যালোচনার কথা বলা আছে। দুই পক্ষের যে কোনো এক পক্ষের ইচ্ছায় চুক্তি পর্যালোচনার সুযোগ থাকে। সে রকম কিছু হলে বাংলাদেশও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেবে।

কর্মশালায় বলা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে না। পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) মাধ্যমে রপ্তানি প্রবাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা হবে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঋণের সুদের হার বাড়বে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশ যে চাঁদা দেয় তার হার বাড়বে। শিক্ষা বৃত্তি কমে যাবে।

এসব অসুবিধার বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। ক্রেডিট রেটিং বাড়বে। এতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে। এখন অনেক সংস্থাই ঋণ দিতে আগ্রহ কম দেখায়। এই সুবিধায় বেসরকারি খাতও কম সুদে ঋণ পাবে। এর ফলে বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আসবে। ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হলে বিদেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে। বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়বে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশের জনশক্তিও আলাদাভাবে মূল্যায়ন পাবে। তাদের মজুরি বাড়বে। ফলে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বাড়বে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দর কষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত