ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ৬৯ রানে ৫ উইকেট নেই বিসিবি একাদশের। আউট হয়ে গেছেন নাঈম শেখ, যুব বিশ্বকাপের ৪ জন- পারভেজ ইমন, মাহমুদুল জয়, শাহাদাত হোসেন ও আকবর আলী। অল্প রানেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা। ঠিক সেই অবস্থায় খেলতে নেমে আরেক যুবা টাইগার তানজিদ হাসান তামিম অধিনায়ক আল-আমিন জুনিয়রকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা জবাব দিলেন জিম্বাবুয়ের বোলারদের। ৩৫.১ ওভারে ২১৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে শেষ করলেন দুদিনের ম্যাচটা। অনুমিতভাবেই ড্র হলো তা।
আগের দিন ৭ উইকেটে ২৯১ রান তোলা জিম্বাবুয়ে গতকাল আর ব্যাটিংয়ে নামেনি। বোলারদের প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতে সকালেই ইনিংস ঘোষণা করে তারা। খেলতে নেমে বিসিবি একাদশ তামিম-আল আমিনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৫৯.৩ ওভারে করে ৫ উইকেটে ২৮৮। অর্থাৎ ওভারপ্রতি রান ৪.৮৪। সাতে ব্যাট করতে নেমে যুব বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ দলের ওপেনার তামিম ৯৯ বলে করেন অপরাজিত ১২৫। তার ইনিংসে ছিল ১৪ চার ও ৫ ছয়। ৪০ বলে হাফসেঞ্চুরি ছোঁয়া তামিম চা বিরতির পরপরই সেঞ্চুরি পূরণ করেন ৮৭ বলে। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মেরেছিলেন। ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিংটায় তার স্বাভাবিক খেলার পরে বলেছেন, ‘আসলে আমি সব সময় স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছি। আমার জোনে যেটা পাই, সেটা মারার চেষ্টা করি’ ম্যাচ শেষে বলেছেন তিনি। বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পরপরই একটি টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে খেলা; কিছুটা চাপ থাকলেও উপভোগ করেছেন বলে জানান তানজিদ, ‘আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে এসেছি, এসেই একটা জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলা। একটু চাপের ছিল। কিন্তু আমরা চাপ হিসেবে নিইনি, চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমরা অনেক উপভোগ করেছি।’ এখনো ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ না খেলা তানজিদ দুবছর ধরে সাদা বলের ক্রিকেটই খেলেছেন। এই প্রথম খেললেন লাল বল। ‘লাল বল খেলা আসলে কঠিন ছিল। আমরা কেবল মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেছি’ বলেছেন তিনি। ইনিংস গড়তে ম্যাচ অধিনায়ক আল আমিনের পরামর্শের কথা কথা উল্লেখ করে তাকে ধন্যবাদ জানান তানজিদ, ‘যখন ক্রিজে আসি তখন পরিস্থিতিটা সত্যি অন্যরকম ছিল, আমরা চাপে ছিলাম, উনি আমাকে স্রেফ বলেছেন সহজাত ক্রিকেটটা খেলার জন্য।’
খেলা শেষ হওয়ার আগে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন পাঁচে নামা আল-আমিন। তিনি ১৬ চারে ১৪৫ বলে খেলেন ১০০ রানের ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে ইনিংস : ৯০ ওভারে ২৯১/৭ ইনিংস ঘোষণা (শাহাদাত ৩/১৬)। বিসিবি একাদশ ইনিংস : ৫৯.৩ ওভারে ২৮৮/৫ (তামিম ১২৫*, আল আমিন ১০০*, পারভেজ ইমন ৩৪)। ফল: ম্যাচ ড্র।
