কাবা থেকে ২ কিমি দূরে রেখে হজ ব্যয় কমানোর প্রস্তাব

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:১২ এএম

হজ প্যাকেজের খসড়া চূড়ান্ত করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্যাকেজ ১ ও ২-এর বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম প্যাকেজ ৩-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হারেম শরিফ থেকে দুই কিলোমিটার দূরে নতুন প্যাকেজের হজযাত্রীদের রাখা হবে। প্যাকেজ ১ ও ২-এর হজযাত্রীদের রাখা হবে দুই কিলোমিটারের মধ্যে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্যাকেজ ১-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, প্যাকেজ ২-এ ৩ লাখ ৬০ হাজার এবং নতুন প্যাকেজ ৩-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। খসড়া প্যাকেজ তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশে হজ প্যাকেজের অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। আগামী সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে হজ প্যাকেজ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সবসময় দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এবার হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য নতুন প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইকোনমি ক্লাসের ওই হজযাত্রীদের প্যাকেজ মূল্য কম হবে। প্যাকেজ ১ ও ২-এর হজযাত্রীদের হারেম শরিফের দুই কিলোমিটারের মধ্যে রাখতে হয়। আর ৩ নম্বর প্যাকেজের হজযাত্রীদের রাখা হবে দুই কিলোমিটারের বাইরে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৩ নম্বর প্যাকেজের হজযাত্রীদের রাখা হবে দুই কিলোমিটারের বাইরে। হারেম শরিফ থেকে দুই কিলোমিটার দূরে আজিজিয়া নামক স্থানে ৩ নম্বর প্যাকেজের হজযাত্রীদের রাখা হবে। মূলত আয়ের দিক থেকে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ যেন হজ করতে পারে সেজন্যই ৩ নম্বর প্যাকেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে দুই কিলোমিটারের বাইরে হজযাত্রীদের রাখা হলে সংশ্লিষ্ট হাজিদের দুর্ভোগ বাড়বে বলে জানান সম্প্রতি ওমরা হজ পালনকারী সরোয়ার আলম। পেশায় সাংবাদিক সরোয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিরা হজে যান। তাদের দুই কিলোমিটার দূরে রাখা হলে যাতায়াতে সমস্যা হবে। অনেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বেন। কম দামের প্যাকেজ পেলে অনেকেই কষ্ট করে হজ পালন করবেন। এতে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে।

২০১৯ সালে প্যাকেজ-১-এর মূল্য ছিল ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। গত বছরের চেয়ে ৬ হাজার ৫০০ টাকা বেড়েছে এবার। গত বছর প্যাকেজ-২-এর দাম ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে গতবারের চেয়ে ১৪ হাজার টাকা বেড়েছে।

এবারে হজ প্যাকেজে বিমানভাড়া ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। প্রথম দফায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে দফায় দফায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। বিমান শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বিমানভাড়া নির্ধারণ করেছে। এর ওপর ভিত্তি করেই হজ প্যাকেজের খসড়া করা হয়েছে। এর ফলে গত বছরের চেয়ে চলতি বছর হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ১০ হাজার টাকা বেড়েছে। সাধারণ যাত্রীরা যেখানে ঢাকা-জেদ্দা রুটে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকায় আসা-যাওয়া করতে পারেন, সেখানে হজযাত্রীদের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। যা স্বাভাবিক ভাড়ার প্রায় তিনগুণ বেশি। হজযাত্রী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে বিমানভাড়ার ফারাক প্রায় ১ লাখ টাকা। এতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাড়তি বাণিজ্য হবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। আরও ৬০০ কোটি টাকা মুনাফা করবে সৌদি এয়ারলাইনস। হাব নেতারা জানিয়েছেন, গতবারের চেয়ে জ্বালানীর মূল্য কমেছে। নতুন কোনো কর আরোপ হয়নি। বিমানভাড়া বৃদ্ধি করে কার স্বার্থে সৌদি এয়ারলাইনসের হাতে হজযাত্রীদের ৬০০ কোটি টাকা তুলে দেবে। হজযাত্রীদের সাধারণ যাত্রীদের তুলনায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বেশি ভাড়া গুনতে হবে।

সারা বছরই প্রবাসী শ্রমিক ও অন্যান্য যাত্রীরা ৪০ হাজার টাকায় ঢাকা থেকে সৌদি আরবে রিটার্ন টিকিটে আসা-যাওয়া করছেন। অথচ হজযাত্রীদের বিমানভাড়া গুনতে হচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। একই বিমানে পাশের আসনে বসা সাধারণ যাত্রীর তুলনায় একজন হজযাত্রীকে প্রায় তিনগুণ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। হজের সময় হজ ফ্লাইট ছাড়াও নিয়মিত ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন করা হয়।

হাব নেতারা বলছেন, দুই-তিনগুণ ভাড়া দিয়েও হজযাত্রীরা বাড়তি কোনো সুবিধা পান না। বরং কখনো ফ্লাইট বাতিল, আবার কখনো দীর্ঘ ট্রানজিটে দুর্ভোগে পড়েন। আবার ফ্লাইট বিলম্বের কারণে হজযাত্রীদের দিনের পর দিন হজক্যাম্পে ইহরাম বেঁধে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হজযাত্রী ছাড়া বিমান বছরজুড়ে প্রায় সব খাতে বিপুল পরিমাণ লোকসান দেয়। অনিয়ম ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাতের দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও অনুসন্ধান করে এর সত্যতা পেয়েছে। সেই লোকসান পুষিয়ে নেওয়া হয় হজযাত্রীদের কাছ থেকে। এ কারণেই জেট ফুয়েলের দাম না বৃদ্ধি পাওয়াসহ নতুন কোনো কর আরোপ না হওয়ার পরও বিমানভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

২০২০ সালের হজ চুক্তি অনুযায়ী এবার হজে যেতে পারবেন ১ লাখ ৩৭ হাজার বাংলাদেশি। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ধর্ম মন্ত্রণালয় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবে। সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যের ওপর ভিত্তি করে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো তাদের নিজস্ব হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদিয়া এয়ারলাইনস সমানসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত