চুড়িহাট্টার আগুনে অবহেলাজনিত প্রাণনাশের মামলা

ওয়াহেদ ম্যানশনের দুই ভাইসহ অভিযুক্ত হচ্ছেন অন্তত ৫ জন

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:১৮ এএম

পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবহেলাজনিত প্রাণনাশের মামলার অভিযোগপত্রে ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকের দুই ছেলেসহ অন্তত পাঁচ ব্যক্তি অভিযুক্ত হচ্ছেন। পুলিশ বলছে, তাদের অবহেলা ও অনুমোদনহীন রাসায়নিক গুদামের কারণেই আগুন মাত্রা ছাড়িয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি হিসাবে পুড়ে মারা যান ৬৭ জন। দগ্ধ হন আরও অনেকেই। তবে তদন্তে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও গাফিলতির তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে তাদের নাম-পরিচয় জানাতে রাজি হননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

পুলিশের লালবাগ জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চুড়িহাট্টার আগুনের ঘটনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার গঠিত তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত প্রাণনাশের মামলার তদন্ত শেষের দিকে। কিছু কাজ বাকি আছে। আজকালের মধ্যে আগুনে পুড়ে নিহত লাশগুলোর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাব বলে আশা করছি। সব ঠিকঠাকমতো এগোলে আশা করছি শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক দুই ভাইসহ অন্তত পাঁচজনের অবহেলার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বাকি আসামিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন ‘অবহেলার কারণে সৃষ্ট অগ্নিসংযোগের ফলে মৃত্যু ঘটাসহ ক্ষতিসাধনের’ অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন স্থানীয় মো. আসিফ। ওই আগুনে তার বাবা জুম্মানকে (৫২) হারিয়েছেন তিনি। মামলায় ওয়াহেদ ম্যানশনে মালিকে দুই ছেলে মো. হাসান ও সোহেল ওরফে শহীদ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত বারবার তাগাদা দিলেও তদন্ত কর্মকর্তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আসামিদের স্থায়ী ঠিকানা না পাওয়ায় প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট চকবাজার থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করতে না পারলে আবারও সময় প্রার্থনা করা হবে।

গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চুড়িহাট্টা মোড়ের কাছে চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশন থেকে লাগা আগুন আশপাশের কয়েকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভবন ও আশপাশের দোকানে থাকা রাসায়নিক আর প্লাস্টিক-পারফিউমের গুদাম আগুনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ৬৭ জনের পোড়া লাশ মর্গে পাঠান উদ্ধারকর্মীরা।

এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারে মো. আসিফ বলেন, ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক মো. হাসান ও সোহেল ওরফে শহীদ তাদের চারতলা বাড়ির বিভিন্ন ফ্লোরে দাহ্য পদার্থ রাখতেন। মানুষের জীবনের ঝুঁকি জেনেও অবৈধভাবে রাসায়নিকের গুদাম করার জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে বাসা ভাড়া দেন তারা। তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গত বছর ১৬ এপ্রিল এজাহারভুক্ত আসামি দুই ভাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাদের। মো. হাসান ও সোহেল ওরফে শহীদ গত বছর ৮ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। এরপর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এ জামিনের মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়ে দেয় উচ্চ আদালত।

মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ মোরাদুল ইসলাম। তিনি বদলি হওয়ায় এখন তদন্ত করছেন পরিদর্শক (তদন্ত) কবীর হোসেন। তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে কাজ অনেকখানি এগিয়ে যাবে। প্রাথমিকভাবে এজাহারভুক্ত পাঁচ-ছয়জনের অবহেলার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তাদের অনেকেরই স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত