সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে পরামর্শ করে চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে দেওয়া দলীয় এক সংবর্ধনায় এ কথা বলেন তিনি।
আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর ট্রেনযোগে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছান রেজাউল করিম। ফেরার পর ফুলেল শুভেচ্ছা ও ঢাকঢোল বাজিয়ে তুমুল উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করে নেন দলের চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘চট্টলবাসী আমার প্রতি যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন সে জন্য আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি কৃতজ্ঞ আমার নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে, যিনি আমাকে মূল্যায়ন করেছেন, আমার ওপর আস্থা রেখে চট্টলবাসীর খেদমত করার জন্য মেয়রপ্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থার প্রতিদান প্রয়াত নেতাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও পালন করে যাব। একটা কথা দিতে পারি, অর্থবিত্তের প্রতি আমার কোনো মোহ নেই। প্রয়াত এম এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী ও চট্টলবীর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীরা যে পথে গিয়েছেন, আমিও সেই পথে যাব।’
এ সময় চট্টলার শেখ মোজাফফর আহমদ, এম এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, এম এ হান্নান, এম এ মান্নান, কাজেম আলী মাস্টার, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, আতাউর রহমান খান কায়সার, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এবং সদ্যপ্রয়াত চট্টলবীর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে স্মরণ করেন রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন সবাই যোগ্য প্রার্থী। কিন্তু নেত্রী আমার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি, এ ছাড়া আর কিছু নই। কথা দিতে পারি, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৭ বছর এই চট্টলবাসীর সেবা করেছেন। এই চট্টগ্রামকে সমগ্র বাংলাদেশে একটা মডেল সিটি হিসেবে উপহার দিয়েছেন। পরের ৫ বছর সিটি করপোরেশন আমাদের হাতে ছিল না। আবার ২০১৫ সালে এই সিটি করপোরেশন আমাদের হাতে এসেছিল। মহিউদ্দিন চৌধুরী যে উন্নয়ন করেছেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। আমি যদি আপনাদের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হতে পারি সেই ধারা বহমান রাখব।’
চট্টগ্রামের হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে চাই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই মেয়রপ্রার্থী বলেন, ‘এই চট্টলা একসময় সৌন্দর্যের রানী ছিল। আজ পাহাড় কাটায় চট্টলা ধ্বংসের মুখে, নদী দূষণে কর্ণফুলী আজ মরে যেতে বসেছে। আপনাদের ভোটে যদি নির্বাচিত হতে পারি—এই চট্টগ্রামকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, দুর্নীতিমুক্ত, নির্মল, পরিবেশবান্ধব করে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলব। তা একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। আমি চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, পেশাজীবী, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল এবং প্রগতির পক্ষে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পক্ষে সেই সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে পরামর্শ করে কাজ করব।’
সমাবেশে বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বদিউল আলম, এম এ রশিদ, কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল, সফর আলী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন, নগর যুবলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন বাচ্চু, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
