হাইকোর্টে খালেদার জামিন শুনানি রবিবার

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:২৪ এএম

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হবে আগামী রবিবার। গতকাল বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন। আদালত সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শুনে শুনানির জন্য রবিবার দিন ধার্য করেন।

দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিন চেয়ে গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে জামিনের আবেদনটি করেন তার আইনজীবীরা। এতে বলা হয়, ‘আবেদনকারীর (খালেদা জিয়ার) শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। এখন তিনি গুরুতর অসুস্থ। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না, খেতে এমনকি ওষুধও নিতে পারছেন না। তাই দ্রুত তাকে যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশে নিয়ে আধুনিক, উন্নত চিকিৎসা বা থেরাপি দেওয়া প্রয়োজন। তার এই অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক উন্নত থেরাপি বা চিকিৎসার স্বার্থে নতুন করে জামিনের এই আবেদনটি করা হয়েছ।’

গতকাল আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব। এ সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘আমরা তো এর আগে আবেদন খারিজ করেছিলাম। আপিল বিভাগও এই আদেশ বহাল রেখেছিল।’ জবাবে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আমরা তো আবারও আসতে পারি। জামিনের জন্য একাধিকবার আসতে তো বাধা নেই।’ এ সময় আদালত এটি রবিবার শুনবেন বলে আইনজীবীদের জানান। 

খন্দকার মাহবুব হোসেন ছাড়াও খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন, কায়সার কামাল ও সগির হোসেন লিওন প্রমুখ।

দুর্নীতি দমিন কমিশনের (দুদক) করা দুটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া কারা কর্র্তৃপক্ষের অধীনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার কারামুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল আলোচনা চলছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। এই সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল হাইকোর্টে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা বাতিল চেয়ে একই বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। গত বছরের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট ওই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের দেওয়া অর্থদণ্ডের আদেশ স্থগিত করে। এরপর মামলার বিচারিক আদালতের নথি হাইকোর্টে আসার পর ২০ জুন জামিনের আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। পরে ৩১ জুলাই জামিন আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। এই আদেশ বাতিল ও বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করলে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সে আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়। আদেশে সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়ার সম্মতি থাকলে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট’ দিতে বলে। 

এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। এরপর সাজা থেকে খালাস চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের আপিল ও সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ হাইকোর্ট এক রায়ে তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে করা আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত