‘মনে রাখবেন আমি এসেছি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। ওখানে ঝামেলা লেগেই থাকে।’ প্রশ্নটা লুফে নিয়ে পাল্টা জবাব রাসেল ডমিঙ্গোর। তাতে স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ। যে চ্যালেঞ্জ হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনকেও। জাতীয় দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো অবশ্য সব অনাকাক্সিক্ষত বাধার পাহাড় টপকানোর চ্যালেঞ্জটা দিয়েছেন নিজেকেই।
বোর্ড সভাপতি ঘোষণা দিয়ে আবার জাতীয় দলে হস্তক্ষেপ করা শুরু করেছেন। বুধবার মিডিয়াকে বলেছেন, ম্যাচের আগের দিন তাকে জানাতে হবে টিম। সেটা বদলানো যাবে না। খেলা শুরুর পর হুট করে ব্যাটিং অর্ডারও বদলে ফেলা যাবে না। এমন হরেক শর্ত টিম ম্যানেজমেন্টকে দিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন নাজমুল হাসান। গতকাল দুপুরে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টের আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি প্রধানকে নিয়ে টিম সংক্রান্ত বিষয়ে চমৎকার ব্যাট করলেন ডমিঙ্গো। রীতিমতো ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে খেলা যাকে বলে। এলো মোস্তাফিজুর রহমান-মাহমুদউল্লাহর কথাও।
নাজমুল হাসান বনাম ডমিঙ্গো
‘প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দল নিয়ে আমার আবেগঘন কথাবার্তা হয়। তিনি মনেপ্রাণে চান দল ভালো করুক। তার সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি। গেল সপ্তাহে ব্যস্ত ছিলাম চমৎকার কিছু প্র্যাকটিস সেশন নিয়ে।’ প্রেস কনফারেন্সে বোর্ড সভাপতির বিষয়টা এলে ডমিঙ্গো তার নিজের অবস্থানটা দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন, ‘দল নিয়ে কাউকে কিছু জানাতে হবে এমনটা আসলে সরকারিভাবে আমাকে কেউ বলেনি। এখন পর্যন্ত এমনটা আমার ভাবারও কারণ নেই যে আমাকে তা করতে হবে। দল নিয়ে প্রেসিডেন্ট যেমন প্রবল টান অনুভব করেন আমিও তার মতোই অনুভব করি। আমাকে বেতন দেওয়া হয় সিদ্ধান্ত নিতে এবং আমার কাজটা করার জন্য।’
এরপর শেষে আসে ওই প্রশ্নটা। মাত্র ২২ বছর বয়সে কোচিংয়ে ঢুকে পড়া আজকের ৪৫ বয়সের ডমিঙ্গোর। এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনো কি কোনো বোর্ড প্রেসিডেন্টের এহেন চাওয়া ও দাবির মুখোমুখি তিনি হয়েছেন কি না!
বর্ণবাদের কারণে একদা দীর্ঘসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ জানিয়ে ডমিঙ্গো দীর্ঘ জবাবে প্রাজ্ঞ কূটনীতিকের পরিচয় দিয়ে দেন, ‘এমন তো না যে আমি ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মানুষ। যেখানে যা চাইবেন তা করতে পারবেন। আমি দক্ষিণ আফ্রিকার। ওখানেও সবকিছু এমন কঠিন। নির্বাচন করা সহজ ব্যাপার না। ওখানেও মানুষ গাদা গাদা মতামত ও এজেন্ডা নিয়ে থাকে। এটা আমার কাজের অংশ এবং সেটা আমাকেই সামলাতে হবে। সবচেয়ে ভালোভাবে।’ পাশে বসা টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হককে হাত দিয়ে দেখিয়ে ডমিঙ্গো পরের কথায় যান, ‘খেলোয়াড় ও অধিনায়কদের এসব থেকে দূরে রাখা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে এর মাঝখানের মানুষটা হতে হয়। এটা বিরাট এক ভূমিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় এসব আমি আগে করে এসেছি। ওখানে মেলা ঝামেলা ও চ্যালেঞ্জ। আমার জন্য এখানে এটা তাই আলাদা কিছু নয়। আমি ঠাণ্ডা আছি এসব নিয়ে।’
‘ফিজ’কে টেস্ট থেকে দূরে রাখার কারণ
মোস্তাফিজ শেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৯ সালের মার্চে, নিউজিল্যান্ড সফরে। গেল নভেম্বরে ভারত সফরে টেস্ট দলে ছিলেন। খেলা হয়নি। গেল পাকিস্তান সফরের টেস্টের দলেই তাকে রাখা হয়নি। আবার ফেরত আনা হয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে। কিন্তু তাকে খেলানো হবে না এই টেস্টে। কেন তাকে টেস্ট থেকে দূরে রাখা?
‘মোস্তাফিজের পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি যে আছে তা জানি। আমি মনে করি কিছু টেকনিক্যাল কাজ না করা পর্যন্ত সে টেস্টের জন্য তৈরি হবে না। ডানহাতিদের জন্য বল ভেতরে ঢুকানোর কাজটা তাকে করতে হচ্ছে। তাকে দলে রাখা মানে সেই প্রক্রিয়ায় যাতে সে আমাদের বোলিং কোচের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। তাকে খেলানোর জন্য দলে নেওয়া হয়নি। নেওয়া হয়েছে ট্রেনিং করে নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য। ওটিসের (গিবসন) সঙ্গে থেকে আস্থা ও সম্পর্কে আসার ব্যাপার আছে। দলের সঙ্গেই থাকবে ও। মোস্তাফিজ এই টেস্টে খেলছে না। রোজ বল করবে। তাকে এমন অবস্থায় নিজেকে নিয়ে যেতে বলেছি যাতে টেস্ট ও সাদা বলে খেলা তার উপকারে আসে।’
মাহমুদউল্লাহ লড়ে ফিরবে
টানা ব্যর্থতার পর অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ বাদ পড়েছেন পাকিস্তান সফরের পর। আজ থেকে খেলবেন ঘরোয়া ক্রিকেটের ফাইনালে। মাঝে খবর হলো, কোচ তাকে সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বাদ দিয়ে শুধু লাল বলে মন দিতে বলেছেন। কিন্তু সেই কোচ গতকাল বিশ্বাস নিয়েই বললেন যে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক আবার ফিরবেন টেস্টে।
‘সে এখন দলের বাইরে। তবে আমি তাকে ভবিষ্যতের বিবেচনায় রেখেছি। আমাদের সাদা বলের অংশ হিসেবে তাকে দেখি। রিয়াদও পণ করেছে যে টেস্ট দলে ফিরবে।’ ডমিঙ্গো বলছিলেন, ‘৪৯টা টেস্ট খেলেছে ও। বাংলাদেশের দারুণ এক পারফরমার। এই মুহূর্তে দলে তার জায়গা নেই। সাদা বলের অন্যতম এই খেলোয়াড়ের এমন প্রত্যয় ও লড়ে দলে ফেরার ভাবনাটা চমৎকার। খেলোয়াড়দের আর খেলতে না বলার কাজ আমার না। একজন খেলোয়াড় যে এতটা লম্বা সময় ধরে খেলছে এবং সাফল্য পেয়েছে তার অবশ্যই অধিকার আছে দেশের হয়ে খেলাটা শেষ করার। আমি তাকে বেনিফিট অব ডাউট দেব।’
