বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত তিন তথ্য জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী তিনি অ্যাডভান্স চিকিৎসার জন্য সম্মতি দিয়েছেন কি না, দিলে সেই চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না এবং শুরু হয়ে থাকলে সবশেষ অবস্থা কী এ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্যকে কোনো রকম ব্যর্থতা ছাড়াই আগামী বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরদিন সকাল সাড়ে ১০টায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করেছে আদালত।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকালে গতকাল রবিবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ। দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন কারা কর্র্তৃপক্ষের অধীনে গত এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। এ ছাড়া তার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, মইনুল হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, কায়সার কামাল, সগির হোসেন লিয়ন প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রাষ্ট্রপক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, মমতাজ উদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ, সারওয়ার হোসেন বাপ্পী প্রমুখ। শুনানিকালে আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়াও সরকার সমর্থক ও বিএনপিপন্থি বিপুলসংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
এ মামলায় গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে বলা হয়, খালেদা জিয়ার সম্মতি থাকলে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট’ দিতে হবে। দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিন চেয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জামিন আবেদনটি করেন তার আইনজীবীরা। এতে বলা হয়, ‘আবেদনকারীর (খালেদা জিয়ার) শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না, খেতে এমনকি ওষুধও নিতে পারছেন না। তাই দ্রুত তাকে যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশে নিয়ে আধুনিক, উন্নত চিকিৎসা বা থেরাপি দেওয়া প্রয়োজন। আধুনিক উন্নত থেরাপি বা চিকিৎসার স্বার্থে নতুন করে জামিনের এ আবেদনটি করা হয়েছে।’ এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যগত বিষয়ে সবশেষ তথ্য পাওয়ার নির্দেশনা চেয়ে গতকাল সংশ্লিষ্ট আদালতে একটি সম্পূরক আবেদন করেন আইনজীবী সগির হোসেন লিয়ন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে শুনানি শুরু হয়।
২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা বাতিল চেয়ে একই বছরের ১৮ নভেম্বর আপিল করলে গত বছরের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট ওই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের দেওয়া অর্থদণ্ডের আদেশ স্থগিত করে। এরপর বিচারিক আদালতের নথি আসা সাপেক্ষে শুনানি শেষে ৩১ জুলাই তার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। ওই আদেশ বাতিল ও বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়।
এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। এরপর সাজা থেকে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল ও সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ হাইকোর্ট এক রায়ে তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে করা আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তার আইনজীবীরা বলছেন, কারামুক্তি পেতে এ দুটি মামলায় জামিন পেতে হবে খালেদা জিয়াকে।
