রাজধানীর কুর্মিটোলায় ফুটপাতে গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ওপর উঠে গেছে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার। এতে ১৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের সবাইকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত পাঁচজনের তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং দুজনকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারসহ চালককে পুলিশ আটক করেছে।
এর আগে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই দুপুরে কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে রেষারেষিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কুর্মিটোলা এলাকায় ফুটপাতে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়। এ সময় বাসচাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন রমিজউদ্দিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া ও রাজীব। তাদের মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নজিরবিহীন এ আন্দোলনে এক সপ্তাহ অচল ছিল ঢাকার সড়ক। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলায়। পরে সরকারের তরফে সব দাবি পূরণের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে আসে।
গতকালের দুর্ঘটনায় আহতদের বিষয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ১৮ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও দুজনকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটজন কুর্মিটোলা হাসপাতালে রয়েছেন। অন্যদের অবস্থা তেমন গুরুতর নয়।
ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. শিহাবউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্ঘটনায় ১৮ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তামান্না বেগম (৩০) ও তার মেয়ে মাদ্রাসাছাত্রী সুমাইয়া আক্তার (১০) এবং জাহিদা খাতুন (৪৫)। নিউরোসায়েন্সে রয়েছেন শারমিন (২২) ও আবদুল্লাহ (২)। তাদের দুজনেরই মাথায় আঘাত লেগেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে আহত তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে জাহিদা খাতুনের ডান পা ভেঙে গেছে। তার অবস্থা অনেকটা গুরুতর। সুমাইয়ারও পায়ে ফ্র্যাকচার রয়েছে। তামান্নার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
আহত তামান্না জানান, তাদের বাসা খিলক্ষেত ১ নম্বর রোডে। বাসার পাশেই একটি হেফজখানায় শিক্ষকতা করেন। মসজিদে ইমামতি করেন তার স্বামী ফরিদ। তিনি ও স্বামী শেখ ফরিদ, ছেলে আবদুল্লাহ ও মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যান তার শাশুড়ি তুলা বেগমের চিকিৎসার জন্য। সেখানে অনেক সিরিয়াল দেখে শাশুড়িকে রেখে তারা চারজন বাসায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাদের রেখে ফরিদের আবার হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য হাসপাতালসংলগ্ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা। এ সময় তাদের পাশে আরও অনেকেই দাঁড়িয়ে ছিল। তারা যখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল তখন একটি প্রাইভেট কার তাদের ওপর উঠিয়ে দেয়।
আহত জাহিদা খাতুন জানান, তার বাসা বাড্ডা বেরাইদ। তিনি ও ছেলে আ. আজিম (১১) চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরার জন্য বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তখনই দুর্ঘটনার শিকার হন।
গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানান, ফুটপাতে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল বেশ কয়েকজন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার রাস্তার বাম দিকে ঢুকে যায়। একই সময় একটি বাসও স্টপেজে থামে। তখন প্রাইভেট কারের চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারলে গাড়িটি ফুটপাতে উঠিয়ে দেয়। এতে ফুটপাতে থাকা অন্তত ১৮ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে নারীও রয়েছে। প্রাইভেট কারের চালককে আটক করা হয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি সাহান আহম্মেদ বলেন, ‘প্রাইভেট কারটির মালিক মো. রবিউল নিজেই চালাচ্ছিল। সে বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় ভাড়া টানত। প্রাইভেট কারসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
