ইরানের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কভিড ১৯-এ আক্রান্ত

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:১১ এএম

ইরানে করোনাভাইরাসের সংবাদ প্রকাশের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ইরাজ হারিসি নিজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল তিনি নিজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছে এএফপি। এর আগে গত সোমবার তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে তাকে কাশি দিতে দেখা যায়।

এক টুইটবার্তায় ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ দেওয়ার সময় হারিসি বলেন, ‘আমি অবশ্যই করোনাকে পরাস্ত করব।’ ইরানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ দুজনকে নিয়ে ইসলামিক রিপাবলিকটিতে মৃতের সংখ্যা ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার ইরানি গণমাধ্যম ইতেজাঅনলাইন ওয়েবসাইটের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ওয়েবসাইটটি জানায়, ‘পরীক্ষায় দেখা গেছে তারা নতুন করোনাভাইরাসটিতে আক্রান্ত ছিলেন।’ গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে ইরানেই নতুন ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এদিকে আশি হাজারের বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে ২৬৯৮ জনের মৃত্যু ঘটানো নতুন করোনাভাইরাস যাতে বিশ্বজোড়া প্রাদুর্ভাব হয়ে দেখা দিতে না পারে, সেজন্য আরও জোরেশোরে প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

কোনো সংক্রামক ব্যাধি যখন মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়, রোগতত্ত্বের ভাষায় তখন তাকে বলে প্যানডেমিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে তারা এখনই ‘প্যানডেমিক’ তকমা দিচ্ছে না। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে সেদিকে না যায়, সেজন্য সব দেশকেই প্রস্তুতির মধ্যে থাকতে হবে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দেশটির মূল ভূখণ্ডে ৫০৮ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৪০৯ জন। সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৬৫৮ জনে। আর বিশ্বে এ সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

সোমবার চীনে মোট ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে ভাইরাসে। এর মধ্যে ৬৮ জনই মারা গেছেন হুবেই প্রদেশে, যে অঞ্চলকে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রভূমি বলা হচ্ছে। চীনের মূল ভূখণ্ডে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৬৩ জনে। চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে সোমবার, সব মিলিয়ে চীনের বাইরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫ জন। তাদের মধ্যে ইরানে ১২ জন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতে ৭ জন করে, জাপানে চারজন, হংকংয়ে দুজন এবং ফিলিপাইন, ফ্রান্স ও তাইওয়ানে একজন করে আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।

এক সপ্তাহ আগেও করোনাভাইরাসের প্রকোপ চীনের মধ্যেই ছিল বেশি। কিন্তু গত কয়েক দিনে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানের পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। সোমবার ইরাক, আফগানিস্তান, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনেও কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে অর্থনীতির জন্য। সেই উদ্বেগে মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে সূচক পতন ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্ব অর্থনীতির এই থমকে যাওয়া সাময়িক। তারা আশা করছেন, বছরের প্রথম প্রান্তিকের পর ভাইরাসের প্রকোপ কমতে শুরু করলে ব্যবসা-বাণিজ্যও দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত