বৃষ্টি অথবা মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে প্রায় সারাদেশে। গতকাল মঙ্গলবার কিছু এলাকায় অল্প সময়ের জন্য মুষলধারে বৃষ্টি হলেও অধিকাংশ জায়গাতেই হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। রাজধানীসহ অনেক জায়গায় দিনভর দেখা মেলেনি সূর্যের। বৃষ্টিতে রাস্তার অসহনীয় ধুলাবালি সাফ হয়ে গেলেও অসময়ের বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকেই। দিনমজুর ও কর্মজীবী মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে গম ও সরিষা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টিতে দিনের তাপমাত্রা কমে গেছে অনেকটাই। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামীকাল থেকেই অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করবে। বাড়বে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। তবে আজ সারা দিনই হালকা ভোগান্তিতে ফেলতে পারে মেঘ-বৃষ্টির খেলা।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বুধবারও (আজ) প্রায় সারা দেশেই বৃষ্টিপ্রবণ অবস্থা থাকতে পারে। রাজশাহীতে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ১৫-২০ মিলিমিটারের বেশি হবে না। এছাড়া রাজধানীসহ অন্যত্র সর্বোচ্চ ১-৫ মিলিমিটার করে বৃষ্টি হতে পারে। পরের দিন (আগামীকাল) থেকে অবস্থার উন্নতি হবে। বৃষ্টি কেটে যাবে, তাপমাত্রাও বাড়তে থাকবে।’
গতকাল প্রায় সব বিভাগেরই কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে তুলনামূলক বেশি হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নওগাঁর বদলগাছীতে হয়েছে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি। আগের দিন নীলফামারীর ডিমলায় হয়েছে সর্বোচ্চ ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি।
আমাদের পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, দুপুর থেকে জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পথঘাটের ধুলা থেকে অনেকটাই স্বস্তি মিলেছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েন। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, মার্চের শুরু থেকেই কালবৈশাখী ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে।
হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দুপুর পর্যন্ত ওঠেনি সূর্য। সকাল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাহির হওয়া মানুষজন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও বিড়ম্বনায় পড়েছেন। অসময়ে বৃষ্টিতে গম, সরিষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা নাজনীন জানান, যারা গম আবাদ করেছেন তারা ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে সমস্যা হবে না। এছাড়া বৃষ্টির পর সরিষা ওঠানোর পরামর্শ দেন তিনি।
গতকাল দিনভর রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। ঝরেছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। দেখা মেলেনি সূর্যের। হঠাৎ করেই এমন বিরূপ আবহাওয়ায় দিনমজুর ও কর্মজীবী মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন। রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি ছিল কম। রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
