রহস্যেঘেরা এক মৃত্যু

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫:২০ এএম

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যুরহস্য এখনো নানা আলোচনা জন্ম দিয়ে চলেছে। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের তদন্তে বারবার উঠে এসেছে আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান। পিবিআইয়ের নতুন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার আদ্যোপান্ত নিয়ে লিখেছেন সুদীপ্ত সাইদ খান

সালমান শাহ

সালমান শাহর জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়ায়। বাবা কমরউদ্দিন চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন, মা নীলা চৌধুরী করতেন রাজনীতি, একাধিকবার সংসদ নির্বাচনও করেছেন। একমাত্র ছোট ভাইয়ের নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরান (ইভান)। শিশু বয়স থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত হন সালমান।

ছোট পর্দায় সালমান

১৯৮৫ সালে বিটিভির আকাশ ছোঁয়া নাটক দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন সালমান শাহ। পরে দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফিরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫), স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে অভিনয় করেন। ‘নয়ন’ নাটকটি শ্রেষ্ঠ একক নাটক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করে। ১৯৯০ সালে মঈনুল আহসান সাবের রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত পাথর সময় ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। এছাড়া ১৯৯৪ সালে অভিনয় করেন ইতিকথা ধারাবাহিকেও।

সালমান-সামিরার বিয়ে

চলচ্চিত্রে পা রাখার আগেই বিয়ে করেছিলেন সালমান শাহ। ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তবে সামিরা ও সালমানের বিয়ে নিয়ে পরিবারে জন্ম হয় নানা জটিলতার। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী সামিরাকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। শুরুতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করলেও মা নীলা চৌধুরীর সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো না থাকায় আলাদা বাসায় বসবাস শুরু করেন সালমান। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ইস্কাটনের বাসাতেই স্ত্রীর সঙ্গে কাটিয়েছেন।

সিনেমায় অভিষেক

১৯৯২ সালে প্রযোজনা সংস্থা আনন্দমেলা ভারত থেকে তিনটি সিনেমার কপিরাইট নিয়ে আসে। সেই তিনটি সিনেমার জন্য তারা নতুন নায়ককে নিতে চান। দায়িত্ব পড়ল পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ওপর। তিনি হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকলেন নতুন নায়ক। একসময় পেয়ে গেলেন ইমন নামের একটি ছেলেকে। মা নীলা চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে ইমনকে নির্বাচিত করলেন সিনেমার জন্য। নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো সালমান শাহ। পরিচালক সোহান বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমি সালমানকে পাই। তারপর তাকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিই নাচ-গান, ফাইট এবং অভিনয়ের ওপর।’ তিনি জানান, ১৯৯২ সালের ৩১ আগস্ট কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুভির মহরত হয়। আর প্রথম শ্যুটিং শুরু করি ১৩ সেপ্টেম্বর। সালমান-মৌসুমীকে নিয়ে কাজ করতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। কারণ বুঝতাম তাদের নিয়ে কীভাবে কাজ করতে হবে।

১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পায়। প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন সালমান শাহ।

শাবনূরের সঙ্গে জুটি

১৯৯৪ সালে ‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বাঁধেন শাবনূর। প্রথম মুভিতেই ব্যাপক সফলতা পায় এ জুটি। সালমান-শাবনূর জুটির সফলতার দিকে তাকিয়ে পরিচালক প্রযোজকরা একের পর এক মুভিতে নিতে থাকেন তাদের। সালমান অভিনীত ২৭টি সিনেমার ভেতরে ১৪টিতেই নায়িকা ছিলেন শাবনূর। এভাবেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সবচেয়ে সফল জুটি হিসেবে পরিচিতি পায় এ দুজন। শাবনূর বলেন, ‘সালমানের সঙ্গে আমার প্রথম মুভি “তুমি আমার”। তখন তো সে মৌসুমী আপুর সঙ্গে অভিনয় করত। শ্যুটিংয়ের সময় মাঝেমধ্যে দেখতাম। আমি তো তখন ছোট ছিলাম। এতকিছু বুঝতাম না। একের পর এক মুভিতে ওর সঙ্গে অভিনয় করলাম। অনেক সিনেমা করার পর আমি বুঝতে শুরু করলাম, মানে ম্যাচিউরড হলাম। নিজেদের বোঝাপড়াটাও বাড়ল। ও কোন বিষয়টা কীভাবে ডেলিভারি দিচ্ছে আর আমি কোনটা কীভাবে ডেলিভারি দিচ্ছি সেটা নিয়ে ভাবতাম। নিজেকে ঝালাই করে নিতাম। সালমানের ব্যাপারে আমি একটা কথাই বলব, ন্যাচারাল অ্যাকটিং যেটা বলে সেটা সালমানের ভেতর ছিল। দুজনই শ্যুটিং করার সময় দুষ্টুমি করতাম। শুধু আমার সঙ্গেই নয়, সবার সঙ্গেই সে খুব বন্ধুভাবাপন্ন ছিল, অনেক নম্র ছিল, আর্টিস্ট-ডিরেক্টরদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হবে তা বুঝত, তাদের সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে পারত। অনেক মজার মানুষ ছিল। দেখা গেছে, মজা করতে করতে কখন যে শ্যুটিং শেষ হয়ে গেছে তা বুঝতেই পারতাম না। সে যেমন হাস্যোজ্জ্বল ছিল, তেমনি অনেক চঞ্চলও ছিল। চটপটে ছিল বলে খুব দ্রুত কাজ করতে পারত। আমি ওর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারতাম না। ও আমাকে মাঝেমধ্যেই তাড়া করত।’

মাফিয়া চক্রের নজরে

জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সালমান শাহর দিকে নজর পড়ে মাফিয়া চক্রের। শোনা যায় ওই সময়ের আলোচিত ব্যক্তি আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব ছিল সালমানের। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি কেউ। তবে সালমান শাহর মৃত্যুর পর আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের নাম আলোচনায় আসে। পরিবারের পক্ষ থেকেও সালমান শাহ হত্যার নেপথ্যের ইঙ্গিত সেদিকেই ছিল। এছাড়াও আরও অনেকের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন জয়প্রিয় এ নায়ক। এমনকি শিল্পী সমিতির সঙ্গেও তার বেশ কয়েকবার ঝামেলা তৈরি হয়েছিল। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সালমান শাহকে একবার দুই সপ্তাহের জন্য শিল্পী সমিতি নিষিদ্ধও করেছিল।

১৯৯৫ সালের ২৯ জুলাই দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় একটি সংবাদ ছাপা হয় যার শিরোনাম ছিল, ‘নায়ক সালমান শাহর প্রাণনাশের চেষ্টা : অভিনয় থেকে বিদায় নিতে পারেন’। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার তেজতুরী বাজার এলাকায় একটি প্যাকেজ নাটকের শ্যুটিং চলাকালে মাসুম নামে এক যুবক সালমান শাহকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা চালায়। শ্যুটিং ইউনিটের লোকজন ও আশপাশের লোকজন সেখানে দ্রুত ছুটে আসে এবং ছুরিসহ ছেলেটিকে আটক করে। পরে তাকে ছুরিসহ তেজগাঁও থানায় সোপর্দ করা হয়। থানায় একটি মামলাও হয়। যুবকটি তখন শাসায়, তাকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না। রাজনীতি করে। দলের নেতারাই তাকে ছাড়িয়ে আনবে। তারপর সে দেখে নেবে সালমান শাহকে। এ ঘটনার পর ১ আগস্ট সালমান শাহ প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করে সরকার, প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানান। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে তিনি অভিনয় থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে হুঁশিয়ারিও দেন। এরপর তিনি আরও দুবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক জটিলতায়

একের পর এক সিনেমা করার বদৌলতে শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে সালমান শাহর। সেই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সে সময়ের পত্রপত্রিকায় মুখরোচক নানা খবর প্রকাশ পেত। সেসব খবরের বদৌলতে সামিরার সঙ্গে সালমানের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। এমনটাই জানিয়েছে পুলিশের তদন্ত সংস্থা। শাবনূরের সঙ্গে সালমানের সখ্যের বিষয়টি সালমানের ঘনিষ্ঠজনরাও স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে মা নীলা চৌধুরীর সঙ্গে স্ত্রী সামিরার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় তাদের নিয়েও নানা যন্ত্রণা পোহাতে হতো সালমানকে।

মৃত্যু

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। দিনটি ছিল শুক্রবার। এদিনই সালমান শাহ মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের জাল বিস্তার হয় সে সময়। স্ত্রী সামিরা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, সালমান আত্মহত্যা করেছেন। তাকে ড্রেসিংরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। ২৪ বছর ধরে চলছে সেই মামলা। সর্বশেষ চলতি বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ড নয়, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন।

২৪ বছর ধরে চলমান মামলা

সালমান শাহর মৃত্যুর পরপরই তার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্য তৈরি হয়। একদিকে সম্পর্কের জটিল রসায়ন, অন্যদিকে আবেগী সালমানের আত্মহত্যা প্রবণতা। স্ত্রী সামিরা ও মা নীলা চৌধুরী অবস্থান নেন দুই পক্ষে। সেই দুই পক্ষের বাদানুবাদ চলে আসছে ২৪ বছর ধরে।

১৯৯৬ সালে ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের মৃত্যুর পর অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি।

অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। এরপর বেশ কয়েকবার একে আত্মহত্যা বলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলেও সালমানের পরিবার তাতে নারাজি আবেদন করে পুনঃতদন্ত চায়।

এরপর ২০১৬ সালের শেষদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নতুন করে সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্তভার দেওয়া হয়। এই মৃত্যুর ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা তা নির্ধারণে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে মামলাটি আবারও আদালতে উঠে।

গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধানম-িতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পারিবারিক কলহের কারণেই আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান শাহ। এ তথ্য জানান পিবিআইপ্রধান পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার। এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেন।

কী আছে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে

শাবনূরের সঙ্গে সালমানের প্রেম, স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মা নীলা চৌধুরীর সঙ্গে জটিল সম্পর্ক, সন্তান না হওয়া, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতাসহ নানা কারণে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

ব্রিফিংয়ে পিবিআই জানায়, সালমান শাহর সঙ্গে শাবনূরের প্রেম ছিল। তাদের অন্তরঙ্গতার বিষয়টি সামিরা সহ্য করতে পারত না। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো সালমানের। মৃত্যুর আগের দিন সালমান শাহ এফডিসিতে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিং করছিলেন। সেখানে হঠাৎ সামিরা এসে উপস্থিত হন। তিনি তখন সালমান ও শাবনূরকে অন্তরঙ্গভাবে আবিষ্কার করেন। এরপর সামিরা রাগ করে চলে যান। স্ত্রী চলে গেলে সালমানও বেরিয়ে যান ডাবিং বাদ দিয়ে।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে শাবনূরকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন সালমান। এমনকি সামিরা ও শাবনূরকে নিয়েই সংসার করতে চেয়েছিলেন এ চিত্রনায়ক। কিন্তু তাতে রাজি হননি সামিরা। অন্যদিকে সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিল সংসারে। মা নীলা চৌধুরীকে প্রচণ্ড ভালোবাসলেও স্ত্রী-শাশুড়ির সম্পর্ক ভালো ছিল না। সম্পর্কের এ জটিল রসায়নও পোড়াত সালমানকে। সালমান শাহর মামার বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, মৃত্যুর আগের রাতে সালমান বলেছিলেন তিনি সামিরাকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন জীবন শুরু করবেন। এসব নানাবিধ কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত জানিয়ে পিবিআই জানায়, চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কী ছিল সালমানের সুইসাইড নোটে

সালমান শাহর আত্মহত্যার পক্ষে বেশকিছু তথ্য-উপাত্তের কথাও জানানো হয় পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে একটি হলো সালমানের সুইসাইডাল নোট! পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সে এ বিষয়ে সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘সিআইডি তদন্তকালে সামিরার কাছ থেকে এ সুইসাইডাল নোটটি উদ্ধার করে। সেটি সালমানের প্যান্টের পকেট থেকে উদ্ধার করা হয়।’

সালমান শাহ সুইসাইডাল নোটে লেখেন, ‘আমি চৌ. মো. শাহরিয়ার। পিতা কমরুদ্দীন আহমেদ চৌধুরী। ১৪৬/৫, গ্রীণ রোড ঢাকা #১২১৫ ওরফে সালমান শাহ। এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, আজ অথবা আজকের পরে যে কোনো দিন আমার মৃত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহত্যা করছি।’

ত্রিমুখী সম্পর্ক নিয়ে শাবনূরের বক্তব্য

বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে শাবনুর বলেন, ‘সালমান যেমন হেল্পফুল ছিল, তেমনি ওর স্ত্রী সামিরাও অনেক হেল্পফুল ছিল। অনেক ভালো মনের মানুষ ছিল। সামিরাকে নিয়ে যে যাই বলুক না কেন, আমি বলব ও অনেক ভালো একটা মেয়ে ছিল। সামিরাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করতাম। ওর সঙ্গে আমার ফ্রেন্ডলি সম্পর্ক ছিল। সালমানের মৃত্যুর পর আমাদের সম্পর্কে অনেকে অনেক কিছুই লিখেছে। এখনো লিখছে। আমি জানি না কেন আমাকে জড়ানো হচ্ছে। আর যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সত্য নয়। সালমান বেঁচে থাকতে তো এমন কোনো অভিযোগ শুনিনি। সামিরাকেও অনেকে অনেক দোষারোপ করেছে। ওর সম্পর্কে মানুষ না জেনেই লিখেছে। আমি বলছি কারণ ওকে আমি দেখেছি। আবার অনেকে সালমান ও আমার সম্পর্কে অনেক উল্টাপাল্টা লিখেছে। এটাও ঠিক নয়।’

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

পিবিআইয়ের এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সালমানের পরিবার। দেশ রূপান্তরকে সালমানের মামা আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘পিবিআই যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছি। শিগগিরই আমরা ফের তদন্ত করার জন্য আবেদন জানাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সালমানের মা নীলা চৌধুরী অসুস্থ। লন্ডনে আছেন তিনি। তার সঙ্গে কথা বলে আইনজীবীর মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব আমরা।’

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, বারবার কেন একটা হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে। কার স্বার্থে এসব করা হচ্ছে। আমি এ তদন্ত প্রতিবেদন মানি না। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আমরা আবারও আবেদন জানাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত