নাট্যাঙ্গনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি ৭২-এ পা রাখবেন তিনি। লিপ-ইয়ারের হিসাবে স্বভাবতই চার বছর পর সুযোগ হয় জন্মদিন উদযাপনের। এ উপলক্ষে তাকে ঘিরে আজ থেকে আরণ্যক নাট্যদলের আয়োজনে শুরু হচ্ছে ছয় দিনব্যাপী উৎসব। এসব নিয়েই তার সঙ্গে কথা বলেছেন পাভেল রহমান। ছবি : ওমর ফারুক
১৮’র তারুণ্যে
বয়স যাই হোক, আমি ১৮’র তারুণ্যকে ধারণ করি। চার বছর পর জন্মদিন উদযাপনের বিষয়টি আমি ভীষণ উপভোগ করি। প্রতি বছর জন্মদিন পালনের ঝামেলা পোহাতে হয় না। এবার বেশ আয়োজন করে জন্মদিন উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে আরণ্যক নাট্যদল। ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ছয় দিনব্যাপী ‘দ্রোহ দাহ স্বপ্নের নাট্য আয়োজন’ অনুষ্ঠিত হবে।
জীবনকে মূল্যায়ন
আমার কাছে জীবন আনন্দের, আবার বেদনারও। আমি সব সময় জীবনকে উদযাপন করতে শিখেছি। জীবনে যেমন হাসি-সুখ আছে, আবার দুঃখ-কষ্টও আছে। জীবন উপভোগ ও উদযাপনের জন্য পৃথিবীতে অনেক ব্যবস্থা রয়েছে। আবার যখন শুনি দাঙ্গাতে মানুষ মারা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে শিশু-নারীসহ মানুষ মারা যাচ্ছে অহেতুক যুদ্ধে, জীবিকার আশায় ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে তখন মনটা বিমর্ষ হয়। আবার অনেক সুসংবাদ পাই, মানবতার গল্প শুনি। এটাই জীবন, সুসংবাদ এবং দুঃসংবাদ পাশাপাশি হেঁটে চলে।
জীবনের আক্ষেপ
আমি জীবন নিয়ে গর্বিত। ৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান, ছাত্র আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে, আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে আমি অংশ নিয়েছি। এসব ঘটনার অংশ হতে পেরে আমি গৌরব অনুভব করি। আবার রাষ্ট্রের অন্যায় যখন দেখি, তখন প্রতিবাদ করতে না পারলে কষ্ট পাই। আমার জীবদ্দশায় অনেক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সেসবের জন্যও কষ্ট লাগে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্বপ্ন দেখব, স্বপ্নকে ছড়িয়ে দিয়ে একটি সুন্দর দেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করব।
প্রথমত, জীবনটাকে সচল রাখার চেষ্টা করব। এই দেশটাকে বাসযোগ্য করে তোলার জন্য কাজ করব। এখন আমি যে মাধ্যমটিতে কাজ করি, সেখান থেকে একটা সুন্দর দেশ গড়ার জন্য আমি একটা ছক বা ছবি আঁকতে পারি। এই স্বপ্ন দেখার কাজটা করেন চিত্রশিল্পী, নাট্যশিল্পীসহ বিভিন্ন মাধ্যমের মানুষ। কিন্তু সুন্দর দেশ গড়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তো আমার হাতে নেই। আমি তো রাজনীতি করি না। সুন্দর দেশ গড়ার জন্য আমি শুধু স্বপ্নই দেখতে পারি। দেশ গড়ার সিদ্ধান্তটা নেন রাজনীতির মানুষ। ভবিষ্যতেও আমি স্বপ্ন দেখব। মানুষকে স্বপ্ন দেখার কথা বলব।
এ প্রজন্মের উদ্দেশে
আমি ভীষণ দুঃখ পাই, যখন দেখি অনেকেই অন্ডশ্রম শিল্পযাত্রার দিকে ধাবিত হচ্ছে। অ-শ্রম শিল্পযাত্রা বলতে বোঝাতে চাচ্ছি, অনুশীলনহীন শিল্পযাত্রা। পরিশ্রম করব না, কিন্তু আমি শিল্পে সফলতা চাই। এটা তো সম্ভব না। কিন্তু আমাদের এখানে সেটা করার চেষ্টা করছে অনেকেই। শোবিজ অঙ্গনে দেখি, অনেক তরুণ স্টার হতে চায়। কিন্তু কিছু শিখতে চায় না। তরুণদের অনুরোধ করব তারা যেন এগুলো থেকে ফিরে আসে। শিল্পচর্চায় পরিশ্রম ছাড়া কিছু হয় না।
নাট্যোৎসবে যা থাকছে
এই নাট্য আয়োজনে আমার রচিত পাঁচটি নাটকের মঞ্চায়ন হবে। পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য, সেমিনার, প্রদর্শনী, গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, সংবর্ধনা ও থিয়েটার আড্ডা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি থাকবেন অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ এবং ভারতের থিয়েটার ও চলচ্চিত্রসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে সংগীতের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন হবে। নৃত্য পরিবেশন করবেন সাদিয়া ইসলাম মৌ ও তার দল। সংগীত পরিবেশন করবেন বুলবুল ইসলাম, অণিমা রায় ও শারমীন সাথী ইসলাম। সরোদ বাজাবেন ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খান। সন্ধ্যায় পার্বতীপুরের ইয়াংস্টার থিয়েটার মঞ্চায়ন করবে ‘রাষ্ট্র বনাম’ নাটকটি। এরপর চারদিন
যথাক্রমে মঞ্চস্থ হবে আমার নির্দেশনায় আরণ্যক নাট্যদলের ‘রাঢ়াঙ’, আরণ্যকের নতুন প্রযোজনা ‘ফেইসবুক’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী, ফয়েজ জহিরের নির্দেশনায় বাঙলা থিয়েটারের প্রযোজনা ‘‘চে’র সাইকেল’’ ও আমার নির্দেশনায় আরণ্যকের ‘সঙক্রান্তি’।
