রাঙ্গামাটি সদরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অর্পণ চাকমা ওরফে বাবুধন চাকমা নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের মাইসভাঙ্গা এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। নিহত অর্পণ নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও ইউপিডিএফের (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) সশস্ত্র শাখার সদস্য। এছাড়া কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক তরুণ নিহত হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র-মাদকসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। রাঙ্গামাটি ও কুষ্টিয়া প্রতিনিধির পাঠানো খবর
এর আগে গত বছরের ২৩ আগস্ট বাঘাইছড়ির দোপাতা এলাকায় শক্তিমান চাকমা হত্যার অন্যতম আসামি সুমন চাকমা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
দুপুরে রাঙ্গামাটি সেনা জোনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুবলং ক্যাম্পের নিয়মিত টহল দল নৌযান বন্দুকভাঙ্গার বানাসছড়ি এলাকায় যায়। তারা মাইসভাঙ্গা এলাকায় অবতরণের পর পাহাড় থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আকস্মিকভাবে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে টহল দলও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। আরও একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর ২০-২৫ মিনিট গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় অর্পণ চাকমার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মৃতদেহের সঙ্গে একটি ব্যাগে টেলিফোন, চাঁদার রশিদ ও অন্য ব্যক্তিগত সরঞ্জামাদি পাওয়া যায়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় অস্ত্র, বেশ কয়েকটি পিস্তলের গুলি এবং এলজির কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, অর্পণ চাকমা ও তার সহযোগীরা গত ৩-৪ মাস ধরে বানাসছড়ি এলাকায় স্থানীয়দের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদা উত্তোলন করছিল।
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আল আমিন বলেন, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে গতকাল ভোর ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. শহিদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছে। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের একটি পান বরজের পাশে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার জামালপুর গ্রামের মো. মানিকের ছেলে।
ওসি আরিফুর বলেন, ওই পান বরজের পাশে দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাদক কেনাবেচার সংবাদ পেয়ে পুলিশ অভিযানে যায়। উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তারা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ শহিদুলকে উদ্ধার করা হয়। তাকে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, শহিদুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
