এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গতকাল শুক্রবার সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস গ্যাব্রিয়েসাস বলেছেন, ভাইরাসটি নির্ণায়ক বিন্দুতে পৌঁছেছে এবং এর ‘মহামারী’ হয়ে ওঠার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার নতুন ১০টি দেশসহ গেল দুই মাসে ৫০টির বেশি দেশে এই ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার পরে এমন আশঙ্কার কথা শোনালেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান।
এদিকে চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার দেশটির ভেতর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ জনই হুবেই প্রদেশের। সব মিলিয়ে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯১ জনে। আর আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৭৮ হাজার ৯৬২ জনে। চীনের বাইরে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৯০০ জন আর মৃত্যুর সংখ্যা ৮০। সব মিলিয়ে বিশ্ব আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৮৬২ জন। আর মৃত্যু ২ হাজার ৮৭১ জন। চীনের সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছে ৩৬ হাজার ২১০ জন।
গত কয়েক দিন ধরে চীনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমলেও ভাইরাসটি এখন অন্য দেশগুলোতে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার চীনের চেয়ে দেশটির বাইরে বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, চীনের ভেতর ভাইরাসটিকে ‘বেঁধে রাখা’ সম্ভব না হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন চিকিৎসা উপকরণের মজুদ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি আগের চেয়ে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করছে। এর পরেও তেদ্রোস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারগুলোকে দ্রুত ও আরও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তেদ্রোস বলেন, চীন ছাড়া বাকি পৃথিবীতে যা ঘটছে, তা নিয়েই এখন আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এখন এমন এক সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছি যে, সংক্রমণ পরিস্থিতি যেকোনো দিকে যেতে পারে, নির্ভর করছে কীভাবে তা আমরা মোকাবিলা করব।
তিনি বলেন, ভাইরাসটির মহামারী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন আতঙ্কিত হওয়ার সময় নয়। এখন সময় সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও জীবন বাঁচানোর।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চীনসহ প্রায় অর্ধশত দেশে আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়াসহ অন্তত নতুন ১০টি দেশে ভাইরাসে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে।
গত কয়েক দিন ধরে ইরান ও ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ইরানের নারী ও পরিবারবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমে এবতেকারও আছেন বলে দেশটির গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও ২৫৬ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সতর্কতামূলক নানান পদক্ষেপ নিয়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ড ও হংকংয়ের পাশাপাশি জাপান ও ইরাকও তাদের দেশের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে।
সৌদি আরব বিদেশি ওমরাহযাত্রীদের দেশে ঢোকায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত জুলাইয়ে দেশটিতে হজ করতে যাওয়া বিদেশিদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
ইরান দেশের ভেতর মানুষের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে; তেহরান ও অন্যান্য শহরের জুমার নামাজের প্রার্থনাও বাতিল করা হয়েছে।
চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে আসা সব বিদেশির দেশে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ইতালিতে ১১টি শহরকে ‘কোয়ারেন্টাইন’ করে রাখা হয়েছে। গ্রিস তাদের কার্নিভাল সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বাতিল করেছে।
