আমাদের ছেলেবেলায়, শিশুদের জন্য পাঠ্য একটি বই ছিল, নাম ‘হাসিখুশি’, তাতে একটি ছড়া থাকত, কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যারে পারি তারে ছোঁ। পুঁজিবাদ মানুষকে ওই দশাতে রাখতে আগ্রহী। মানুষ হাসিখুশি থাকুক, নিমগ্ন হোক স্থূল বিনোদনে, লিপ্ত থাকুক অর্থোপার্জনে, উত্তেজনা প্রকাশ করুক খেলার মাঠে, ছায়ার সঙ্গে কথোপকথন চালাক ঘরে বসে। লক্ষ্যটা হলো পুঁজিবাদের যে ব্যাধি পৃথিবীকে রুগ্ণ করছে, সর্বনাশের দ্বারপ্রান্তে টেনে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে মানুষ যেন সচেতন না থাকে। মানুষ চিন্তা করুক, চিন্তা তো তাকে করতেই হবে, কিন্তু সে চিন্তা হোক কানামাছি খেলার মতো। সবাই মিলে উত্ত্যক্ত করতে চায় চোখবাঁধা কানামাছিটিকে, সে বেচারা হাতড়ে হাতড়ে যাকে ছুঁতে পারবে তাকেই অপরাধী ভাববে। দোষ চাপানো চলবে পারস্পরিক। খেলাচ্ছে যে দুর্বৃত্ত আড়ালে থেকে সে হাসবে। এই দুর্বৃত্তটির আচার-আচরণ স্বভাব-চরিত্র তখন ক্রমাগত ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠছে। বৃত্তের ভেতর ঘুরতে থাকার ওই অগ্রগমন অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না পুঁজিবাদবিরোধী বিশ্বব্যাপী লড়াইটা স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সফল হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ বিশেষভাবে হাসিখুশি অবস্থাতেই আছে। তাদের অধিকাংশ হাসিই অবশ্য দুঃখী মানুষের নিরুপায় হাসি। তবু দেখলে মনে হবে হাসছে। যেন আশায় আছে উন্নতি চুইয়ে চুইয়ে পড়বে। উন্নতির ভাগ সেও পাবে। যেন কর্তাদের উন্নতি তারই উন্নতি। দেশে গণমাধ্যম এখন দু’ভাবে নিয়ন্ত্রিতএকদিকে সরকারের দ্বারা, অন্যদিকে সরকার সমর্থক মালিকদের দ্বারা। ফলে হাসির অন্তরালের কান্নাটা অজানাই রয়ে যায়। এখানে পুঁজিবাদী গণতন্ত্রও কাজ করছে না, আগামীতেও যে করবে এমন আশা নিতান্তই ক্ষীণ। ওদিকে পুঁজিবাদী সম্পর্কগুলো হুলস্থুল করে খাড়াখাড়ি বেড়ে চলেছে। নানাভাবে তার পৃষ্ঠপোষকতা চলছে। গরিবের ভালোর জন্য ক্ষুদ্রঋণের যে আয়োজন গ্রামীণ ব্যাংক ও অন্যান্য এনজিও করছে সেখানে উন্নয়ন যেটা ঘটছে সেটা পুঁজিবাদী ঘরানারই; ক্ষুদ্রঋণের কারখানা থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজিবাদীরাই বের হয়ে আসছে, যতটা পারছে। এটা মোটেই তাৎপর্যহীন নয় যে, পুরনো দিনের সমবায়ী উদ্যোগ-আয়োজনগুলো যা ছিল সেগুলো ইতিমধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, কারণ তারা অপুঁজিবাদী হওয়ার চেষ্টা করত। পুঁজিবাদ সর্বগ্রাসী এবং ভীষণ সন্ত্রাসী।
২ . উন্নতি তো হচ্ছে। অবশ্যই। কিন্তু সে-উন্নতির চরিত্রটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সেটা প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির মতোই, পাবলিকের রেলওয়েকে যে কোণঠাসা করতে ভালোবাসে। এই উন্নতি হাই-রাইজ বিল্ডিং-এর, চারদিকে যার দুঃসহ ট্র্যাফিক জ্যাম; পথ অবরুদ্ধ, যেমন প্রবেশের তেমনি নির্গমনের। ঢাকার মেয়রদের একজন ঘোষণা দিয়েছিলেন ফুটপাত থেকে হকাররা উঠে না গেলে উন্নয়নের স্বার্থে তাদের ওপর দিয়ে তিনি বুলডোজার চালিয়ে দেবেন। এখানকার সব উন্নতিই ওই বুলডোজার-মার্কা। পুঁজিপাট্টা হারিয়ে সন্ত্রস্ত হকাররা কাঁদতে কাঁদতে উঠে যাবে বুঝলাম, কিন্তু যাবেটা কোথায়? খাবে কী? সে চিন্তা অন্য কারও নয়, হকারদের নিজেদের ছাড়া। উন্নতির অন্তর্নিহিত দর্শনটা পুঁজিবাদী, এই দর্শনের বাস্তবায়নে যত উন্নতি হবে তত বাড়বে বৈষম্য। হকার উচ্ছেদ হবে, দেখা দেবে শপিং মল, যেখানে গরিব মানুষ কেনাকাটা দূরের কথা, ঢুকতেই সাহস পাবে না। বলা হচ্ছে ভিক্ষুক উচ্ছেদ করা চাই, কিন্তু মানুষ কেন ভিক্ষুক হয় সেটা ভাবা হচ্ছে না। ধনীর উন্নতি যে গরিবের ভিক্ষাবৃত্তির কারণ সেটা তো মিথ্যা নয়। তাহলে? তাছাড়া আমাদের ধনীরাও তো মনে মনে বড় বড় ভিক্ষুক, তারা বিদেশের মুখাপেক্ষী, ক্ষণে ক্ষণে বিদেশে যায়, পারলে স্থায়ী বসতি গড়ে। রাষ্ট্রের মালিকরা হাত পেতে বসে থাকেন বিদেশি সাহায্যের আশায়। শাসক শ্রেণিকে ভরসা করতে হয় বিদেশিদের সমর্থনের ওপর, বিনিময়ে তারা দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেনপ্রতিযোগিতামূলক ভাবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির দৃশ্যমান ছবি পাওয়া যাবে। শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু গুণ-মান? শিক্ষামন্ত্রী জিপিএ ৫-এর বৃদ্ধি নিয়ে প্রতি বছর সন্তোষ প্রকাশ করে থাকেন, কিন্তু দেখা গেল তিনিও সংশয়ে পড়েছিলেন, বলেছিলেন শুধু পরিমাণে কুলাবে না গুণগত মানও বৃদ্ধি করা চাই। মান কিন্তু বাড়েনি, ধারণা করা হয় যে সেটা নিম্নগামী। ধারণা নয়, প্রত্যক্ষ প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। এইচএসসি’তে সেরা ফল করেছে যারা তারাই কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার মতো বুকের পাটা রাখে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান শাখায় ভর্তির জন্য পরীক্ষা দিয়েছিল যে পরিমাণ শিক্ষার্থী তাদের সিংহভাগই করেছে ফেল। শিক্ষামন্ত্রীর সেটা অজানা থাকবার কথা নয়। না, মানবৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। শিক্ষার কেন্দ্রে থাকেন শিক্ষক। উপযুক্ত শিক্ষক যে আমরা পাচ্ছি না সেটা বলাই বাহুল্য। শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ ও দলীয় পক্ষপাতিত্বের প্রমাণিত অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগের নতুন এক পদ্ধতি চালু করা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। পদ-প্রার্থীদের নাকি লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে ও সংগ্রহ করতে হবে পুলিশের সার্টিফিকেট। যার সরল অর্থ দাঁড়াবে মেধাবানদের শিক্ষক হতে নিরুৎসাহিতকরণ। মেধাবান ও পরীক্ষিতদের জন্য পুনরায় লিখিত পরীক্ষা অমর্যাদার ব্যাপার। আর পুলিশের রিপোর্ট তো ভীষণ রকমের বিপজ্জনক। লিখিত পরীক্ষার ব্যবস্থা কোনো কালেই ছিল না। গোয়েন্দা রিপোর্ট পাকিস্তান আমলে চালু ছিল, এবং ওই ধরনের কার্যক্রম চালু থাকাটা ছিল অন্যতম কারণ যে জন্য ওই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমাদের বিক্ষোভ গড়ে উঠেছিল, এবং রাষ্ট্রটি ভেঙে আমরা বের হয়ে এসেছি। এখন চেষ্টা চলছে পুরনো ব্যবস্থাকে ফেরত আনবার। এই পুলিশি কার্যক্রম দুর্নীতি ও উৎপীড়ন উভয়কেই প্রসারিত করে দেবে। আমরা আশা করব সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হবে, কিন্তু ভরসা করি না, কারণ প্রতিবাদকারীদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে, তদবিপরীতে সংখ্যা বাড়ছে চাটুকারদের। বিশ্ববিদ্যালয় তো পরে আসবে, শিক্ষার ভিত্তিটাই তো দুর্বল। প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, মাধ্যমিক শিক্ষা অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত। শিক্ষকদের মান এবং ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত উন্নত না হলে শিক্ষার মান বাড়বে এরকম ভাববার কোনো কারণই নেই। নিয়োগ সুষ্ঠু নয়, নিয়োগের পরে প্রশিক্ষণ নেই। জবাবদিহি উঠে গেছে। প্রতিবেদন বলছে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক-ছাত্র অনুপাতের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার ভেতর বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে খারাপ। বাজেটে শিক্ষার জন্য বরাদ্দ কোনো মতেই বাড়ানো যাচ্ছে না।
৩. তাহলে কি এরকমই চলবেহাসিখুশি ও কানামাছি? না, চলবে না। পরিবর্তন আসবেই, তবে সেটা কীভাবে আসবে, কী চরিত্র নেবে, নৈরাজ্যের জন্ম দেবে নাকি উন্নত মানবিক সম্পর্কের সেটা নির্ভর করছে পুঁজিবাদবিরোধী আন্দোলনের ওপরই, যে-আন্দোলনকে ব্যক্তিমালিকানার জায়গায় সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। নৈরাজ্য থেকে রক্ষা করার ভরসা দেওয়ার ক্ষমতা অন্য কারও নেই, আছে শুধু পুঁজিবাদবিরোধী এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকামী আন্দোলনেরই। সে-আন্দোলন দেশে দেশে সামাজিক বিপ্লব সংঘটিত করবে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলবে, আশাটা এই রকমেরই। এর বাইরে সব আশাই দুরাশা মাত্র; এবং হতাশার লালনভূমি ভিন্ন অন্যকিছু নয়। উদারনীতিতে কুলাবে না। উদারনীতি হচ্ছে পুঁজিবাদের ভদ্রবেশী সংরক্ষক; চেনা যায় না; যে জন্য আরও বিপজ্জনক। উদারনীতির প্রধান কাজ হলো ব্যক্তিমালিকানার নির্মমতাকে আড়াল করে রাখা।
পুঁজিবাদবিরোধী আন্দোলন বাংলাদেশেও চলেছে। কিন্তু সফল হয়নি। সফল না-হওয়ার প্রধান কারণ নেতৃত্বদানকারীদের শ্রেণিচরিত্র। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সমবয়স্ক, অথচ চীনের কমিউনিস্টরা বিপ্লব করেছেন, ভারতের কমিউনিস্টরা বিপ্লবের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি। ভারতের বামপন্থি বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ অসামান্য। নির্যাতন, কারাভোগ, পলাতক জীবন-যাপন এবং প্রাণত্যাগ, সবকিছুতেই জাতীয়তাবাদীদের তারা যোজন যোজন পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন, কিন্তু পারেননি মুক্তিকামী মানুষকে সমাজতন্ত্র-অভিমুখে নিয়ে যেতে। দুর্বলতা ছিল নেতৃত্বে। নেতৃত্ব মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকেই এসেছে। আসাটাই স্বাভাবিক। নেতারা তাদের শ্রেণিবেষ্টনী মানেননি, ভেঙে বের হয়ে গেছেন; কিন্তু মনোভাবের দিক থেকে শ্রেণিচ্যুত হতে পারেননি। দীর্ঘকাল ধরে পরাধীন ছিল যে-দেশ তার মধ্যবিত্ত পরাশ্রয়ী হবে এটা অস্বাভাবিক নয়, বাম আন্দোলনের নেতৃত্বও ওই স্বাভাবিকতাকে পুরোপুরি পরিহার করতে পারেনি। নেতারা প্রথমে ছিলেন মস্কোর মুখাপেক্ষী। পরে বিভক্ত হয়ে গেছেন মস্কোপন্থি ও পিকিংপন্থিতে; পরাশ্রয়িতা শেষ হয়নি। নেতৃত্বের ভেতর ছিল পেটি বুর্জোয়া অস্থিরতা, যে জন্য কখনো সে উগ্র হয়েছে, কখনো নম্র। সামন্তবাদী গোষ্ঠীপ্রীতিও ছিল, ফলে উগ্ররা তো বটেই নম্ররাও ভাগ হয়েছে দলে উপদলে। অভাব ছিল জ্ঞানের তাত্ত্বিক জ্ঞান ছিল সীমিত, বাস্তবিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান ছিল সঙ্কীর্ণ, এবং দুই ধরনের জ্ঞানের প্রয়োজনীয় ঐক্য রয়ে গেছে অনার্জিত। জ্ঞানের দুর্বলতার কারণে নেতৃত্ব এটা বুঝতে পারেনি যে, কৃষককে সঙ্গে নিতে না পারলে বিপ্লব সম্ভব হবে না। কৃষক বরং এগিয়ে গেছে, বাংলায় তারা তেভাগা আন্দোলন করেছে, তেলেঙ্গানাতে বিপ্লবী অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির এমন ক্ষমতা ছিল না যে আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। সমাজ ও রাষ্ট্রে মূল দ্বন্দ্বটি কখন কেমন ছিল সেটি নিরূপণেও তারা ব্যর্থ হয়েছে, জ্ঞানের অভাবের কারণেই। এক হিসেবে সমাজতন্ত্রীরা কিন্তু বুর্জোয়াদের চেয়েও বড় বুর্জোয়া, হওয়ার কথা, কারণ এটা প্রত্যাশিত যে তারা বুর্জোয়াদের ইতিবাচক অর্জনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আরও এগিয়ে যাবে, সংবেদনশীলতা ও নৈতিকতায় বুর্জোয়াদের হারিয়ে দেবে, নতুন নতুন অর্জন সম্ভব করে তুলবে এবং বুর্জোয়াদের আধিপত্য ভেঙে ফেলে সমষ্টিগত সব অর্জনকে সর্বজনীন করে দেবে।
বামপন্থিরা সমাজ বিপ্লব চেয়েছেন, কিন্তু বিপ্লবের জন্য রাষ্ট্রক্ষমতা যে করতলগত করতে হবে এই সত্যটাকে গুরুত্ব দেননি। রাষ্ট্রক্ষমতা তাই চলে গেছে জাতীয়তাবাদীদের হাতেইবাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা সাতচল্লিশে ঘটেছে একবার, একাত্তরে ঘটল পুনর্বার। এই জাতীয়তাবাদীরা সবাই পুঁজিবাদে দীক্ষিতবিভিন্ন মাত্রায়। বামপন্থিদের একাংশ তাদের পেছনে পেছনে থেকে অভিযুক্ত হয়েছে লেজুড়বৃত্তির, আরেকাংশ রাষ্ট্রকে ভাঙবার প্রশ্নকে যথোপযুক্ত গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হয়ে ভুল লক্ষ্যবস্তুকে আক্রমণ করেছে। ওদিকে রাষ্ট্র বামপন্থিদের নাজেহাল করতে ছাড়েনি। হত্যা করেছে, জেলে পুরেছে, আবার নিজের বলয়ে টেনেও নিয়েছেলাভের প্রলোভন দেখিয়ে। আপোসকামিতা, অল্পে সন্তোষ, ব্যর্থতার বোধ, এসবও কাজ করেছে ভেতরে ভেতরে। মানুষ এখন অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ। গুমোট চলছে, হয়তো সেটা ঝড়ের পূর্বাভাস। পুঞ্জীভূত বিক্ষোভ যদি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশার ভেতর দিয়ে প্রকাশের পথ না পায়, তাহলে অনিবার্যভাবেই সেটা দক্ষিণমুখো হবে, এবং রূপ নেবে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের। এর লক্ষণ যে দেখা যাচ্ছে না এমন নয়। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী তৎপরতা প্রকাশ্যে চলছে, ওদের লালনভূমি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে, ক্ষমতাসীনদের বদৌলতে। বাংলাদেশে এখন সংস্কৃতিচর্চা সঙ্কুচিত হয়ে এসেছে, ধর্মীয় ওয়াজ ও নানাবিধ ভোজ চলছে সমানে। ভরসা বামপন্থিরাই। তাদের অবশ্যই পুঁজিবাদবিরোধী হতে হবে, কেবল অসাম্প্রদায়িক নয়, হওয়া চাই ধর্মনিরপেক্ষও, এবং যেতে হবে মেহনতিদের কাছেশ্রেণিচ্যুত হয়ে। আর সমাজ বিপ্লব হওয়া চাই সার্বক্ষণিক চিন্তা। কাজটা কঠিন, কিন্তু এছাড়া পরিবর্তনের কোনো আশা নেই। এমনকি ভরসা নেই নিরাপত্তারও। রুখে না দাঁড়ালে বাহাদুরদের বাহাদুরি উন্মত্ততার রূপ নেবে, পুঁজিবাদের ফ্যাসিবাদী চেহারা প্রকট থেকে প্রকটতর হতে থাকবে। এবং মৃত্যুর ছায়া কেবলই ক্রমবর্ধমান হবে, এখন যেমন হচ্ছে। জীবনের পক্ষে যারা তাদের দাঁড়াতে হবে একসঙ্গে।
লেখক
ইমেরিটাস অধ্যাপক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
