সৃজিত-মিথিলার তারকাখচিত রিসেপশন
ভারতীয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি ও বাংলাদেশের অভিনেত্রী মিথিলা বিয়ে করেছেন গত বছরের ৬ ডিসেম্বর। সে সময় ঘরোয়া আয়োজনেই বিয়েটা সেরে ফেলেছিলেন তারা। সৃজিতের দক্ষিণ কলকাতার বাসায় তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। দুই পরিবারের সদস্য ও কাছের কিছু বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত হয়েছিলেন সে আয়োজনে। বিয়ের পরদিনই হানিমুনে সৃজিত-মিথিলা গিয়েছিলেন সুইজারল্যান্ড। দুই পরিবারের আসা-যাওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা বাকি ছিল। অবশেষে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সৃজিতের রাজকুটিরে হয়ে গেল তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানের আগেই রঙ খেলায় মেতেছিলেন সৃজিত, মিথিলা ও মিথিলার মেয়ে আইরা। সেই সুন্দর মুহূর্তটি শেয়ার করে সৃজিত লিখেছেন কবীর সুমনের একটি গানের কয়েকটা লাইন, ‘তোমার কথার রং কি লাল? হলুদ সবুজ হালকা নীল/বুঝিবা শুভ্র শরৎকাল/তোমার কথার শঙ্খচিল।’
রিসেপশন অনুষ্ঠানে টলিউডের অভিনয়শিল্পী, কণ্ঠশিল্পী ও পরিচালকরা তো ছিলেনই, তারকা ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীকেও দেখা গেছে। আরও এসেছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, প্রবীণ অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় ও অপর্ণা সেন, জনপ্রিয় জুটি প্রসেনজিৎ ও ঋতুপর্ণা, অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তী, অভিনেতা জিৎ, অভিনেত্রী তনুশ্রী শঙ্কর ও সুদীপ্তা, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, স্ত্রী বরখাকে নিয়ে অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, সস্ত্রীক অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য, গায়ক রুপম, জয় ও গায়িকা সোমলতা, গায়ক ও সংগীত পরিচালক জিৎ গাঙ্গুলী ও অনুপম রায়, গার্লফ্রেন্ড সুরঙ্গনার সঙ্গে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ঋদ্ধি সেনসহ অনেকে।
লতার আশীর্বাদ আয়ুষ্মানের জন্য
গান ও অভিনয় দুটোতেই অনবদ্য বলিউড অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা। এ কথা তার ভক্তরা অনেক আগেই জানেন। কিন্তু যারা আয়ুষ্মানকে পছন্দ করেন না, তারাও হয়তো এবার এ কথায় বিশ্বাস করতে শুরু করবেন! কারণ, ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর, যার জন্য আশীর্বাদ পাঠান, তার কি আর কোনো সার্টিফিকেট লাগে? লতার কাছ থেকে গান ও অভিনয় নিয়ে আশীর্বাদ পেলেন আয়ুষ্মান।
এই তরুণ অভিনয়শিল্পী বলিউডে এসেই অভিনয়ে মাত করেছেন। শুধু কি তাই, সুযোগ পেলেই দু-লাইন গেয়েও দিয়েছেন নিজের ছবিগুলোয়। আর ২০১৮ সালে অভিনীত ‘আন্ধাধুন’ সিনেমায় তিনি অনবদ্য গান ও অভিনয়ে। এ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কারও গেছে তার ঘরে। এবার সেই সিনেমা দেখে মুগ্ধ ও আবেগাপ্লুত লতা মুঙ্গেশকর। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়ুষ্মানের জন্য আশীর্বাদ লিখে দিলেন লতা। তিনি টুইটারে লেখেন, ‘আয়ুষ্মানজি নমস্কার। আমি আপনার সিনেমা আন্ধাধুন আজ দেখেছি। আপনি খুব ভালো অভিনয় করেছেন। আর যে গান গেয়েছেন, সেটা আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। অভিনন্দন আপনাকে। শুভকামনা আপনার জন্য। আপনার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক।’
এমন টুইট হয়তো কোনো পুরস্কারের থেকেও বেশি আয়ুষ্মানের কাছে। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর কাছে। আয়ুষ্মান রিটুইট করে লেখেন, ‘লতাদি, আপনার এই লেখা আমার কাছে অনেক কিছু। আমি এখন থেকে আরও পরিশ্রম করব। আপনার কথাগুলো আমার কাছে অনুপ্রেরণা। অনেক কৃতজ্ঞতা এই আশীর্বাদের জন্য।’
‘জনকের মুখ’ সিনেমায় ফারজানা ছবি
একমাত্র সন্তান সোলায়মান মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সময় মা মমতা বঙ্গবন্ধুকে একটিবার দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করে তার কাছে। কিন্তু সোলায়মান শহীদ হয়। মৃত্যুর সময় তার সহযোদ্ধা গোপালের হাতে মায়ের জন্য বঙ্গবন্ধুর একখানা ছবি রেখে যায়। তারপর থেকে সেই ছবিটিই হয়ে উঠে মমতার একমাত্র অবলম্বন। ছবিটি কখনো তার কাছে জনক হয়ে ধরা দেয়, কখনোবা যুদ্ধে হারানো তার সেই সন্তান। ১৯৭১ থেকে ৭৪ সাল পর্যন্ত ১৪ আগস্ট সন্তান হারানোর দিনে মমতা বিন্নি ধানের শিরনি রেঁধে মানুষকে খাওয়ায়। কিন্তু ৭৫-এর ১৪ আগস্ট ঘটতে থাকে অশুভ ঘটনা। আতঙ্কিত মমতা ১৫ আগস্ট শুনতে পায় বঙ্গবন্ধুর হত্যার নৃশংস ঘটনা। আবার অবলম্বনহীন হয়ে পড়ে মমতা। এটি ‘জনকের মুখ’ চলচ্চিত্রের গল্প। ৪০ মিনিট ব্যাপ্তির এই সিনেমাটির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মান্নান হীরা। তথ্য মন্ত্রণালয় এবং মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটির আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে মমতা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় শিল্পী ফারজানা ছবি। সোলায়মান চরিত্রে রয়েছেন সাক্ষ্য শহীদ। ফারজানা ছবি বলেন, ‘এই চলচ্চিত্রে আমি একজন শহীদের মা। আমার বয়স দেখানো হয়েছে ষাটের কোটায়। আমি যুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু এ চরিত্রে যুদ্ধের বিভীষিকা ধারণ করে অদেখা সব চরিত্রের কাল্পনিক অস্তিত্ব নিজের মধ্যে সৃষ্টি করতে হয়েছে। অচেনা অতীতকে বর্তমানে এনে অজানা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের বেশ কিছু দৃশ্যে মমতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি কথোপকথন দেখানো হয়েছে। সিনেমাটিতে বঙ্গবন্ধুকে দেখানো হবে না। কিন্তু সিনেমা দেখার সময় দর্শক মনে করবেন, সিনেমার কোথায় যেন বঙ্গবন্ধু রয়েছেন। এমন একটি কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত। অভিনয়ের অনেক সুযোগ ছিল। বলতে গেলে এটা আমার একক অভিনীত চলচ্চিত্র। বাকি চরিত্রগুলো কিছু সময়ের জন্য গল্পকে এগিয়ে নিয়েছে মাত্র।’
