শরিয়ত বয়াতির নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে ৪৪ নাগরিকের বিবৃতি

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২০, ১২:২১ এএম

লোকশিল্পী শরিয়ত বয়াতির বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ফৌজদারি অভিযোগে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে ৪৪ জন নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন।

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলোর বিলুপ্তি ও সংশোধন এবং পুলিশকে দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, একটি বাউল গানের আসরে ‘কোরআনে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করা হয়নি’ মর্মে মতামত দেওয়ায় গত ১১ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে কিছু ইসলাম ও কোরআন-হাদিসকে ভুলভাবে উপস্থাপন ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। আমরা মনে করি, শরিয়ত বয়াতিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার ও বন্দি করে রাখার মাধ্যমে সংবিধান স্বীকৃত মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ ছাড়া, মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন হয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সাউথ এশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশি কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আকমল হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন ও রুবায়েত ফেরদৌস, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ডিনা সিদ্দিকী, একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেউতি সবুর, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের গবেষণা সহযোগী স্বপন আদনান, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, লেখক ও অনুবাদক ওমর তারেক চৌধুরী, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারূজ্জামান, সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা, সাধনার আর্টিস্টিক ডিরেক্টর লুবনা মরিয়ম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, একই বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ ফেরদৌস ও সাবেক অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ, গবেষক মাহা মির্জা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ক্লিনিক্যাল নিউরোসাইন্স সেন্টারের পরিচালক ড. নাইলা জামান খান, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, আলোকচিত্রশিল্পী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শহীদুল আলম, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষক ও গবেষক রেজাউর রহমান লেনিন, ব্রাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক মনজুর হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, আমেরিকার ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ, কবি ও সংগীতশিল্পী অরূপ রাহী, নারী ও মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী শিরীন হক, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শাহদীন মালিক, আমেরিকার গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আজফার হোসাইন; মানবাধিকারকর্মী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ফ্যাসিবাদ ও সামরাজ্যবাদ বিরোধী জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুর রহমান, নারী ও মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী ড. হামিদা হোসেন, মানবাধিকারকর্মী অধ্যাপক ড. সি আর আবরার, শিক্ষা ও মানবাধিকারকর্মী রাশেদা কে চৌধুরী, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী মুক্তাশ্রী চাকমা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ, সেন্ট্রাল উইমেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক পারভীন হাসান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত