পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) আবেদনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি অজিয়াটা। আজ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে আইপিওর খসড়া প্রসপেক্টাস দাখিল করতে যাচ্ছে কোম্পানিটি। রবি অজিয়াটার ইস্যু ম্যানেজার আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রবি দেশের পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ৫২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৫২ কোটি ৩৮ লাখ শেয়ার ছেড়ে ওই অর্থ সংগ্রহ করবে। বর্তমানে রবির পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ৪ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা, যা আইপিওর পরবর্তী সময়ে ৫ হাজার ২৩৮ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়বে পুঁজিবাজারে। আইপিওর অর্থ ব্যবহার হবে মূলধনী ব্যয়ে।
জানা যায়, গতকাল বিকেলে আইপিও আবেদন জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রবির একটি প্রতিনিধিদল খসড়া প্রসপেক্টাস নিয়ে এসইসিতে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত খসড়া প্রসপেক্টাস তারা জমা দিতে পারেনি। আজ সোমবার এসইসির পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে আইপিও প্রসপেক্টাস জমা দেবে কোম্পানিটি।
সম্প্রতি রবি এক সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত হিসেবে করপোরেট ও ন্যূনতম করহার কমানোর দাবি জানায়। ওই সংবাদ সম্মেলনে রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, বিদ্যমান করহারের কারণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি রবি অজিয়াটা কাক্সিক্ষত মুনাফা অর্জন করতে পারছে না। আয়ের বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কর পরিশোধে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পরিশোধিত মূলধনী কোম্পানি হলেও রবি অজিয়াটার নিট মুনাফা তলানিতে। রবি জানায়, কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক শাসনব্যবস্থা ও উচ্চ করহারের কারণে ২০১৯ সালে কোম্পানির নিট মুনাফা ৯২ শতাংশ কমে গেছে। ২০১৯ সালে কোম্পানির নিট মুনাফা হয় ১৭ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ২১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মালয়েশিয়াভিত্তিক এ মোবাইল ফোন অপারেটরটির ২০১৭ সালে নিট মুনাফা হয় ২৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর ২০১৬ সালে রবির নিট মুনাফা ছিল ৩৮৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।
২০১৯ সালে ডেটা ব্যবহার ২৮ শতাংশ বাড়ায় রবির আয় আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় কোম্পানির আয় হয়েছে ৭ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এর আগে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ২০০৯ সালে ১০ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০১৯ সালে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা হয় ৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। সেখানে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবির নিট মুনাফা মাত্র ১৭ কোটি টাকা।
২০১৯ সালে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ মার্জিনসহ আয়কর, অবচয় ও অ্যামোর্টাইজেশন (ইবিআইটিডিএ) পূর্ববর্তী রবির আয় ছিল ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এ সময় রবি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোট ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে রবির মোট মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।
