এ বছর তিস্তাসহ ৭ নদীর চুক্তি হতে পারে : শ্রিংলা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২০, ০১:৩১ এএম

তিস্তাসহ বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন সাত নদীর পানিবণ্টন চুক্তি চলতি বছর হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। দুদিনব্যাপী ঢাকা সফরের প্রথম দিন গতকাল সোমবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে এক সেমিনারে এ কথা জানান তিনি। শ্রিংলা চুক্তির আগে পশ্চিমবঙ্গসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সম্মতির বিষয়টি প্রয়োজন বলেও পুরনো কথাটি স্মরণ করিয়ে দেন।

‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া : এ প্রমিসিং ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) ও ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন যৌথভাবে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। দ্রুততম সময়ে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের প্রতি তাগিদ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি), সীমান্তহত্যা ও দুই দেশের সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন শ্রিংলা। ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর গতকালই

প্রথম ঢাকা সফরে আসেন এক সময় বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শ্রিংলা। মুজিববর্ষের প্রধান অতিথি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে তিনি ঢাকা সফরে এলেন।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রিংলা বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশেরই আগ্রহ রয়েছে। অভিন্ন নদীগুলোর পানির তথ্য হালনাগাদ করে সমন্বয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এ বছরের মধ্যেই অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা আছে। তিনি বলেন, ‘তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির একটি দ্রুত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে যেতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা জানি, তিস্তা দুই পাড়ের মানুষের কাছে আবেগের জায়গা। কিন্তু আমাদের সরকারের প্রতিশ্রুতির কমতি নেই। আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবপক্ষের মতামত দরকার হয়। আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়টির সমাপ্তি টানতে কাজ করছি আমরা।’

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি আটকে আছে ভারতে কংগ্রেসের মনমোহন সিংয়ের আমল থেকে। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরও এর জট খুলতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শ্রিংলা বলেন, কেবল তিস্তার মধ্যে আটকে না থেকে অন্য অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে কার্যকর উদ্যোগের দিকে যেতে চায় তার দেশ।

তিনি বলেন, ‘৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার মধ্যেই দুই দেশের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ নিহিত। আমাদের দুই পক্ষই স্বীকার করে যে, অভিন্ন নদী বিষয়ে আমাদের আরও উন্নতির সুযোগ আছে।’ বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নাব্য বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে বলেও জানান শ্রিংলা। তিনি বলেন, ‘আমরা আশুগঞ্জ ও জকিগঞ্জের মধ্যবর্তী কুশিয়ারা এবং সিরাজগঞ্জ ও দাইখোয়ার মধ্যবর্তী যমুনা নদীর খননকাজে একমত হয়েছি, যার এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় ভারত বহন করবে। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌ প্রটোকল সম্প্রসারণের পাশাপাশি আশুগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, ‘ভারতের নাগরিক সংশোধনী আইনকে ভুল বোঝা হচ্ছে। এটি করা হয়েছে মানবিক কারণে। যেসব উদ্বাস্তু তাদের দেশ থেকে রাজনৈতিক বা অন্য কারণে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভারতে পালিয়ে এসেছে, তাদের দ্রুততার সঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য এই আইন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বাংলাদেশের মতো বন্ধুরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয় নয়।’

সীমান্তহত্যার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘সীমান্ত হত্যাকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্কে বারবার এসেছে। সীমান্তে প্রতিটি হত্যাকাণ্ড একটি সমস্যাপূর্ণ বিষয়। এর জন্য আমরা সত্যিকার অর্থে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর আক্রমণ হচ্ছে। সীমান্তে শুধু বাংলাদেশিরাই মারা যায় না। একই পরিমাণ মানুষ ভারতের দিকেও মারা যায়। অবশ্যই এ পরিসংখ্যান বাংলাদেশে প্রতিফলিত হয় না।’ তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যে পরিসংখ্যান আছে তাতে দেখা যায় উভয় দেশেই সমপরিমাণ (৫০:৫০) মানুষ মারা যায়। এটি থেকে বোঝা যায় উভয় দেশেই অপরাধমূলক কার্যক্রম হচ্ছে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে ১২ ভারতীয় নাগরিক মারা গেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৮৩ সদস্য আহত হয়েছে এবং এর মধ্যে একজন পরে মারা গেছে।’

বিসের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এম ফজলুল করিমের সঞ্চালনায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ ও বিসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল শেখ মাসুদ আহমেদ বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত